Supreme Court: পরস্পরকে বিয়ে করতে রাজি ধর্ষক ও নির্যাতিতা, সুপ্রিম কোর্টেই প্রোপোজাল; স্থগিতাদেশ সাজায়
Physical Assault Case: এদিন আদালত জানা, মধ্যাহ্নভোজের সময় সাজাপ্রাপ্ত যুবক এবং অভিযোগকারিণীর সঙ্গে কেবিনে কথা হয় বিচারপতিদের।

নয়াদিল্লি: ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যুবককে বিয়ে করতে চান নির্যাতিতা। বিয়েতে রাজি সাজাপ্রাপ্ত আসামিও। সুপ্রিম কোর্টেই পুষ্প বিনিময় হল দু’জনের মধ্যে। আর তাতে যুবকের সাজাও স্থগিত হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার এমনই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার নির্দেশে আদালতেই পুষ্প বিনিময় হল ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত যুবক এবং অভিযোগকারিণীর মধ্যে। (Supreme Court)
এদিন আদালত জানা, মধ্যাহ্নভোজের সময় সাজাপ্রাপ্ত যুবক এবং অভিযোগকারিণীর সঙ্গে কেবিনে কথা হয় বিচারপতিদের। দু’জনই পরস্পরকে বিবাহ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। দু’জনের মা-বাবা এ নিয়ে সবকিছু ঠিক করবেন। তবে আদালতের ইচ্ছে, সবকিছু যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাজা স্থগিত রাখা হল, মুক্তি দেওয়া হল আবেদনকারীকে। জেলে ফিরলে দ্রুত দায়রা আদালতের সামনে হাজির করাতে হবে। (Physical Assault Case)
দায়রা আদালতকে সাজাপ্রাপ্ত যুবকের জামিন মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। নিম্ন আদালত উপযুক্ত শর্তও আরোপ করতে পারবে বলে জানানো হয়। এর পর আদালত কক্ষেই অভিযোগকারিণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বলা হয় সাজাপ্রাপ্ত যুবককে। সেই মতো হাতে ফুল ধরিয়ে অভিযোগকারিণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। আগামী ২৫ জুলাই পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
২০২১ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতেই এদিন বেনজির ঘটনা ঘটল আদালতে। সেই সময় অভিযোগকারিণী জানান, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে তাঁকে ধর্ষণ করে আসছিলেন ওই যুবক। ফেসবুকে তাঁদের পরিচয় হয়। যুবকের বোন মেয়েটির বন্ধু ছিল। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হয় এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি জানান, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান ওই যুবক। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের কথা পাড়লে বেঁকে বসেন। মা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছেন না বলে জানান যুবক।
এর পর, গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে দায়রা আদালত ওই যুবককে বারংবার ধর্ষণ এবং প্রতারণা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬ (২) (এন) (ধর্ষণ) এবং ৪১৭ (প্রতারণা)-য় দোষী সাব্যস্ত করা হয় যুবককে। ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শোনানো হয়। জালিয়াতির জন্য আরও দু’বছরের সাজা শোনানো হয় যুবককে। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আবেদন জানালেও কাজ হয়নি। তাই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই যুবক। আইনজীবী নিখিল জৈন সেখানে মেয়েটির হয়ে সওয়াল জবাব করেন।
বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে রুদ্ধদ্বার শুনানি শুরু হয়। ওই যুবক, অভিযোগকারিণী এবং তাঁদের মা-বাবাকেও চেম্বারে উপস্থিত হতে বলা হয়। এদিন মধ্যাহ্নভোজের সময় সেখানেই সাজাপ্রাপ্ত যুবককে বিয়ে করতে চান বলে জানান মেয়েটি। এর পর আদালতের হলেও সেই নিয়ে সম্মতির কথা জানান। আর তাতেই তাঁদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বলে আদালত।






















