Radhika Yadav: রাগের বশে নয়, বহুদিনের প্ল্যান করেই মেয়েকে খুন বাবার! রাধিকা যাদব হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
Radhika Yadav Murder: গুরুগ্রাম পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দীপক যাদব স্বীকার করেছেন যে রাধিকা যখন রান্নাঘরে খাবার বানাচ্ছিলেন, তখন তিনি বাড়িতে তাকে গুলি করেছিলেন।

নয়া দিল্লি: টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের মৃত্যুতে একের পর এক নয়া তথ্যে প্রকাশ্যে এবার। মূল বিতর্কের বিষয় তাঁর বাবার স্বীকারোক্তি। পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, রাধিকার বাবা অভিযুক্ত দীপক যাদব স্বীকার করেছেন যে তিনি তাঁর মেয়েকে পিছন থেকে গুলি করেছিলেন।
তবে, গুরুগ্রাম পুলিশ এবার একটি বড় তথ্য প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে অভিযুক্ত বাবা দীপক যাদব তার মেয়েকে হত্যার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেছিলেন। এটি রাগের বশে হঠাৎ নেওয়া কোনও পদক্ষেপ ছিল না। এই মামলা সম্পর্কে পুলিশ আরও জানিয়েছে যে গুলি চালানোর আগে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বাবা ও মেয়ের মধ্যে তর্ক হয়েছিল।
গুরুগ্রাম পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৫১ বছর বয়সী দীপক যাদব তার মেয়ে রাধিকা যাদবের পিঠে চারবার গুলি করেন। তবে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে দেখা গেছে যে সমস্ত গুলির ক্ষতচিহ্ন শরীরের সামনের দিকে ছিল। এই অসঙ্গতি সন্দেহভাজন ব্যক্তির বর্ণিত ঘটনার ক্রম সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করেছে এবং রাধিকার মৃত্যুর সময় আশেপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
গুলি চালানোর ঘটনাটি প্রকাশ করে গুরুগ্রাম পুলিশের তরফে বলা হয়, "জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দীপক যাদব স্বীকার করেছেন যে রাধিকাকে হত্যার আগে তিনি সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেছিলেন।" অফিসার বলেন, "সাধারণত সে সকালে নিজেই দুধ আনতে যেত, কিন্তু বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সে তার ছেলেকে পাঠিয়ে দেয়। এরপর, যখন সে রাধিকার সঙ্গে বাড়িতে একা ছিল, তখন সে রান্না করার সময় তাকে চারবার গুলি করে।"
এদিকে দীপকের গ্রাম ওয়াজিরবাদের এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীও দাবি করেছেন যে দীপক রাধিকার জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিরক্ত ছিলেন। রাধিকা অন্য ধর্মের কারওকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার বাবা চেয়েছিলেন যে তিনি স্বজাতের মধ্যেই বিয়ে করুন। প্রতিবেশী আরও বলেছিলেন যে রাধিকার বাবা দীপক খুব পুরনোপন্থী মানুষ ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জেরায় দীপক স্বীকার করেছেন মেয়েকে খুন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, মেয়ে রাধিকার টেনিস অ্যাকাডেমি খুব ভাল চলছিল। তাতেই নানা কটাক্ষ করতে থাকেন পড়শিরা। অনেকেই বলেন, মেয়ের টাকা ভোগ করছেন বাবা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপক জানান, কাঁধে আঘাত পাওয়ার পর তার মেয়ে একটি অ্যাকাডেমি খোলেন। কিন্তু দীপক গ্রামের অর্থাৎ ওয়াজিরাবাদের লোকজন তাঁকে নানাভাবে উপহাস করতেন বলে জানিয়েছেন। তিনি মেয়েকে অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিতেও বলেছিলেন। কিন্তু মেয়ে তাতে রাজি হননি কোনওভাবেই। তাঁর দাবি, উপহাস, কটাক্ষে জেরবার হয়েই বেছে নিয়েছেন চরম পদক্ষেপ।






















