এক্সপ্লোর
ডেঙ্গিতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভর্ত্সনা হাইকোর্টের, রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন তথ্য মামলাকারীর

কলকাতা: ডেঙ্গি নিয়ে রাজ্য সরকার তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এবার আদালতে একেবারে তথ্য পেশ করে সেই একই অভিযোগ তুললেন জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী। যা দেখে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্তসনা করল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের দেওয়া রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তাঁরা। বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দাঁড়িয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে রাজ্যে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। কিন্তু, শুক্রবার সেই তথ্যকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। তিনি আরও চারটি ডেথ সার্টিফিকেট পেশ করেন। তারপর দাবি করেন, ওই আক্রান্তেরাও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের ডেথ সার্টিফিকেটেও ডেঙ্গি লেখা ছিল। তারপর তিনি বলেন, আমরা এই অভিযোগই করছি। ডেঙ্গিতে মৃতের সঠিক সংখ্যা জানানো হচ্ছে না। আদালত সূত্রে দাবি, মামলাকারীর আইনজীবীর দেওয়া এই তথ্য দেখে বিস্মিত হয়ে যান বিচারপতিরা। তাঁরা অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে সেই তথ্য এগিয়ে দিয়ে বলেন, দেখুন এদের অভিযোগ। এরপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে, তাঁরা অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে মন্তব্য করেন, এবার তো আপনাদের রিপোর্ট বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে যাবে। আপনাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত তখন বলেন, আমি এসম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আদালতে বিস্তারিত তথ্য জানাব। বিরোধীদের অবশ্য দাবি, রাজ্য সরকার গোড়া থেকেই ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা নিয়ে যে তথ্য পেশ করে আসছে, তা বিভ্রান্তিকর। শুরুতে মুখ্যসচিব নবান্নে দাঁড়িয়ে এক সংখ্যা বলেন। এরপর ৯ নভেম্বর আবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের পেশ করা হলফনামায় দাবি করা হয়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সত্ত্বেও ১৯জনের মৃত্যু হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের দাবি ছিল, বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে রাজ্য শুধু সরকারি হাসপাতালের কথা বোঝাতে চেয়েছিল। কিন্তু, বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বেসরকারি হাসপাতালে যাদের ডেঙ্গিতে মৃত্যু হচ্ছে, তাদেরকেই বা ধরা হবে না কেন? এরপর বৃহস্পতিবার আবার অ্যাডভোকেট জেনারেল কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেন, ডেঙ্গিতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। কিন্তু, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি হাসপাতালে মৃত আরও ৪ জনের ডেথ সার্টিফিকেট পেশ করে সেই তথ্যকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মামলাকারীর আইনজীবী।
আরও পড়ুন























