ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের
উৎসবের মরসুমে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

কলকাতা: রাজ্যে করোনায় লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের। দেশের মোট আক্রান্তের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ও মৃত্যুর ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বাংলার। কলকাতায় সংক্রমণের হার বাড়ছে, উল্লেখ চিঠিতে।
উৎসব শেষে, রাজ্যে লাফিয়ে বেড়ে চলা সংক্রমণবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ উঠে এল কেন্দ্রের চিঠিতে। গত এক মাসে দেশের মোট করোনা আক্রান্তের ৩.৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর ৪.৭ শতাংশ এরাজ্যের। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে পাঠানো কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে কলকাতার ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা। নতুন সংক্রমণের পাশাপাশি, কলকাতায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়েছে রাজ্যকে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, ভ্যাকসিনেশনও ঠিকমতো হচ্ছে না বাংলায়। উৎসবের মরসুমে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
করোনা নিয়ে যাবতীয় বিধি-সতর্কতা উড়িয়ে, চিকিত্সকদের বারবার সাবধান করাকে উপেক্ষা করে প্যান্ডেল হপিং করেছে বঙ্গবাসী। আর সপ্তাহ খানেক আগে, উন্মাদনার এই মূহূর্তগুলিই আজ বিপদের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুজো মিটতেই পশ্চিমবঙ্গে ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের গ্রাফ। বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের মৃত্যুও। যা দেখে চিকিত্সকরা বলছেন, খাল কেটে কুমীর আনার মতো, করোনার সংক্রমণ, যা প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল, তাকেই আবার বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।
পুজোর পর থেকে করোনার সংক্রমণ কীভাবে বেড়েছে, তা পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন বলছে, এবছর পুজোর ১০ দিন আগে, ১ অক্টোবর কলকাতায় করোনা আক্রান্ত হন ১৪৬ জন। দোসরা অক্টোবর সেই সংখ্যা ছিল ১৪৯। ৩ অক্টোবর দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫। কিন্তু পুজো মিটতেই, দ্বাদশীতে কলকাতায় আক্রান্ত হন ১৭৯। পরের দিনগুলিতে ক্রমশ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে কলকাতায় করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ১৪ জন। মৃত্যু হয়ছিল ১৯ জনের। আর পুজোর পর তৃতীয় সপ্তাহে কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১ হাজার ২৬৭। মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আর চতুর্থ সপ্তাহের প্রথম তিনদিনেই কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮৩। ফলে জলের মতোই পরিষ্কার, পুজো মিটতেই কলকাতায় বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণের প্রকোপ। আর মারণভাইরাসের এই যে বাড়বাড়ন্ত, তা শুধু কলকাতায় নয়, দেখা দিয়েছে গোটা রাজ্যেই।






















