নির্মীয়মাণ আইটিআই ভবনে আগুন, শুক্রবারও মোর্চার বিক্ষোভে অশান্ত দার্জিলিং, আতঙ্কিত পাহাড়বাসী

দার্জিলিং: বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও মোর্চার বিক্ষোভে অশান্ত দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন এলাকা। মংপুতে নির্মীয়মাণ আইটিআই ভবনে আগুন। জিটিএ-র প্রকল্প ভবনে ভাঙচুর। এদিন সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ মংপুতে এই নির্মীয়মাণ আইটিআই কলেজে চড়াও হয় মোর্চা সমর্থকরা। শ্রমিকদের থাকার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে সেখানে তারা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নির্মাণকর্মী বলেন, আচমকা এল। দরজায় লাথি মারল। তারপর আটকে আগুন লাগিয়ে দিল। জানলা দিয়ে পালালাম। বাইরে ছিল মার খায়। ২০-২৫ জন এসেছিল। তাণ্ডব চালিয়ে ফিরে যাওয়ার আগে মোর্চা সমর্থকরা এখানকার শ্রমিকদের শাসিয়ে যায় বলেও অভিযোগ। নির্মাণকর্মীরা বলেন, পেট্রোল ডিজেল রাখা ছিল। সব জ্বালিয়ে দিয়েছে। সব শেষ। বলে গেছে সন্ধে ছ’টার আগে চলে যেতে। মোর্চা সমর্থকদের মারধরে শ্রমিকদের কারও মাথা ফেটেছে। আগুন লাগার পর ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে কারও হাত পুড়েছে। হামলার জেরে পাহাড়বাসী মুখেচোখে এখন আতঙ্ক। প্রকাশ্যে কেউ মোর্চার সমালোচনা না করলেও, আকারে ইঙ্গিতে পরিষ্কার বুঝিয়েছেন, জঙ্গি বিক্ষোভে তাঁদের সমর্থন নেই। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আইটিআই হলে এখানকার ছেলেরা এখানেই পড়তে পারত। সেখানে হল, কোনওভাবে উচিত নয়। মোর্চা ডাকা বনধ উপেক্ষা করে কাজেও যোগ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারি কর্মীরা। বলেন, পার্টি একদিকে, কাজ আরেকদিকে। এপ্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বনধে সরকারি অফিসে হাজিরা খুব ভাল। দোকানগুলো বন্ধ রাখতে হয়, পাথর মারার ভয়ে। মংপুর আইটিআই থেকে একটু দূরে নালিডারা এলাকাতেও এদিন তাণ্ডব চালায় মোর্চা সমর্থকরা। জিটিএ-র আওতাধীন এই প্রকল্পে এদিন রঙ করার কাজ চলছিল। অভিযোগ, তা দেখেই সেখানে চড়াও হন মোর্চা সমর্থকরা। মংপুর পাশাপাশি এছাড়া মিরিকের কিছু জায়গাতেও এদিন চাপা উত্তেজনা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এদিন পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি পাহাড়ে শান্তি চান। আন্দোলনের নামে জঙ্গিপনা সেখানে মোটেও বরদাস্ত করা হবে না। বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করি না, প্রশ্রয়ও দিই না। লিমিট ক্রস করে গেলে মনে রাখবেন আইন আইনের পথে চলে। এটা দেউলিয়াপনা। মানুষ ভীষণ রেগে আছে। পাল্টা বিমল গুরুংদের গলায় শোনা গিয়েছে সেই পুরনো সুর, গোর্খাল্যান্ড চাই। ভাঙচুর, আগুনের পাশাপাশি এদিন কার্শিয়ংয়ে একটি পর্যটবোঝাই বাসও আটকানোর চেষ্টা করে মোর্চা সমর্থকরা। যদিও, সেনা পৌঁছতেই সেখান থেকে চম্পট দেয় তারা।






















