Supreme Court: জম্মু ও কাশ্মীর কবে রাজ্যের মর্যাদা ফেরত পাবে? কেন্দ্রের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট, উঠল পহেলগাঁও প্রসঙ্গও
Jammu & Kashmir Statehood: জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন শিক্ষাবিদ জাহুর আহমেদ ভাট এবং সমাজকর্মী খুরশেদ আহমেদ মালিক।

নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের মতামত জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রকে। তবে উপত্যকাকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানকার পরিস্থিতির কথাও যে মাথায় রাখতে হবে, তাও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। পহেলগাঁওয়ের হামলা কথা তুলে ধরে প্রধানবিচারপতি বিআর গাভাই বলেন, "পহেলগাঁওয়ে যা ঘটেছে, তা কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।" (Supreme Court)
জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন শিক্ষাবিদ জাহুর আহমেদ ভাট এবং সমাজকর্মী খুরশেদ আহমেদ মালিক। বৃহস্পতিবার তাঁদের আবেদনের শুনানি চলছিল CJI গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আদালত জানিয়েছিল, নির্বাচন মিটলেই উপত্যকাকে সবার আগে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। এখনও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে আদালতের দ্বারস্থ হন আবেদনকারীরা। (Jammu & Kashmir Statehood)
আবেদনকারীরা জানান, জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করলে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ধারণা, যা দেশের সংবিধানের ভিত্তি, তা লঙ্ঘিত হবে। কোনও রকম হিংসা ছাড়াই উপত্যকায় লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কেন দেরি করা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলা হয়।
আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও, উপত্যকাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা। তাঁরা জানান, বিগত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে চলছে জম্মু ও কাশ্মীর। এতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আটকে গিয়েছে, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারও খর্ব হয়েছে। এর জবাবে, কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, "নির্বাচনের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেইছিলাম। কিন্তু দেশের ওই প্রান্তের অবস্থা অদ্ভুত। এখন বিষয়টি নিয়ে তাতানো হচ্ছে কেন জানি না। এটা জলঘোলার সঠিক সময় নয়।"
সলিসিটর জেনারেলের আর্জি অনুযায়ীই, জবাব দিতে কেন্দ্রকে আট সপ্তাহ সময় দেয় আদালত। তবে উপত্যকার পরিস্থিতি, নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে তবেই যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তাও বুঝিয়ে দেয় আদালত। CJI গাভাই জানান, পহেলগাঁওয়ে যা ঘটেছে, তা কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে এক্ষেত্রে। আগে কেন্দ্র তাদর অবস্থান জানাক। তার পরই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংরক্ষিত অনুচ্ছেদ ৩৭০ তুলে দিয়ে, ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে উপত্যকাকে দু'টুকরো করে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, দুই পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়। উপযুক্ত সময় এলে উপত্যকাকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতিও দেয় কেন্দ্র। কিন্তু তার পর পাঁচ বছর কেটে গেলেও, এখনও পর্যন্ত উপত্যকা রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পায়নি। সেই নিয়ে ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বরের শুনানিতেই আদালত জানিয়েছিল, নির্বাচনের পরই সবার আগে উপত্যকাকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সেই মতো নির্বাচন হয় রাজ্যে, যাতে ওমর আব্দুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেসের জোট সরকার গড়ে উপত্যকায়। ৪২টির মধ্যে ২৭টি আসনে জয়ী হয় তারা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উপত্যকা রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পায়নি, যা নিয়ে ওমর নিজেও সরব।






















