Typhoon Dolphin : আছড়ে পড়ল রাক্ষুসে টাইফুন, চলল ধ্বংসলীলা, বিদ্যুৎহীন ১৪ হাজার বাড়ি, হাই অ্যালার্ট জারি
এবার টাইফুন ডলফিনের মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে চিনে। পূর্ব চিনের উপকূলে রবিবার, ৯ অগস্ট রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে।

ভয়ঙ্কর ঝড়ের দাপটে বিধ্বস্ত এলাকা। বহুদিন ধরেই সতর্কবার্তা জারি ছিল। এবার মাটিতে আছড়ে পড়ল ঝড় সর্বশক্তি নিয়ে। প্রবল দাপুটে এই টাইফুনের জেরে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার বাড়ি । শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের দাপটে বিপর্যস্ত জাপানের দক্ষিণাঞ্চল। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন ঘূর্ণি ঝড়ের তাণ্ডবে। তবে ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে এই ঝড়ের জেরে আরও বহু মানুষ আহত হয়ে থাকতে পারেন। সেই খবর হয়ত পরে মিলবে। হাজার হাজার বাড়ি আপাতত বিদ্যুৎহীন। শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে চিনের দিকে অগ্রসর হয়েছে। তাই আপাতত চরম সতর্কতা চিনে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) সূত্রে খবর , শনিবার, ৮ অগাস্ট সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল টাইফুন ডলফিন। ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছিল উত্তর-পশ্চিম দিকে । ডলফিনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার। পরে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল টাইফুন ডলফিন?
আবহবিদরা জানাচ্ছেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উপর একটি ক্রান্তীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি হিসেবে ডলফিন টাইফুনটি তৈরি হয়েছে । গত ২৭ জুলাই ঝড়টি ক্রান্তীয় ঘূর্ণি ঝড়ে পরিণত হয়। এরপর উষ্ণ সমুদ্রের উপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ঝড়টি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গত ৩০ জুলাই ডলফিন সুপার টাইফুনের শক্তি আরও বাড়ে । সেই সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৭০ কিলোমিটারে পৌঁছয়। অন্যান্য ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের মতোই উষ্ণ সমুদ্রের জল থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ডলফিন। সমুদ্র থেকে পাওয়া তাপ ও আর্দ্রতা ঝড়ের কেন্দ্রের চারপাশে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি করে। অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি থাকলে এই প্রক্রিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যদিও সর্বোচ্চ শক্তির তুলনায় বর্তমানে ডলফিন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে, তবুও এর প্রভাবে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি এবং বিপজ্জনক উপকূলীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঝড়ের প্রভাবে কোথায় কী ক্ষতি
টাইফুনডলফিনের প্রভাবে দক্ষিণ জাপানে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে ।ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা । শুক্রবার পাঁচশরও বেশি বিমান বাতিল করা হয়। পাশাপাশি ওকিনাওয়া ও কাগোশিমা প্রিফেকচারের প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল মারাত্মক। সেখানে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের কারও আঘাত মারাত্মক কিছু নয় বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। ঝড়ের প্রভাব বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও পড়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার বাড়ি ।
এবার সতর্কতা চিনে
এবার টাইফুন ডলফিনের মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে চিনে। পূর্ব চিনের উপকূলে রবিবার, ৯ অগস্ট রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশান এবং ফুজিয়ান প্রদেশের ফুদিংয়ের মধ্যবর্তী কোনও এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। ঝড়ের আশঙ্কায় ঝেজিয়াংয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক বন্দর। পাশাপাশি ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকেও জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডলফিনের প্রভাবে চিনের পূর্বাঞ্চলে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলি মিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জাপানে ইতিমধ্যেই টাইফুনের প্রভাব স্পষ্ট। এবার চিনের পূর্ব উপকূলে ডলফিন কতটা ক্ষয়ক্ষতি করে, সেদিকেই নজর রাখছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর।























