Teachers Protest : 'আটকে পড়েছিলেন এক সন্তানসম্ভবাও,কারও বাড়িতে ছোট বাচ্চা' শিক্ষকদের উপর লাঠিচার্জে কী বলল পুলিশ?
'৭ ঘণ্টা ধরে যখন ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মচারীকে আটকে রাখা হয়, তখন সেই আন্দোলন গণতান্ত্রিক থাকে না' জানাল পুলিশ

কলকাতা: চাকরি ফেরত চেয়ে রাস্তায় নেমে, শাসক দলের নেতা,তাঁর লোক ও পুলিশের হাতে মার খেয়ে বৃহস্পতিবার রক্তাক্ত হলেন শিক্ষকরা। কারও ফাটল পা। ঝরল রক্ত। লাঠির ঘায়ে চামড়ার ওপর পড়ল মোটা মোটা দাগ। হকের চাকরি ফেরত চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ।
দুপুর থেকেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। সন্ধের পর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিকাশ ভবন চত্বর। তারপর থেকেই শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের কাজের ব্যাখ্যা দিল রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার এদিন জানান, পুলিশ ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। পুলিশ সংযত ছিল। গণতান্ত্রিক উপায়ে যেমন চাকরিহারাদের আন্দোলনের অধিকার আছে, তেমনই অফিস ছুটির পর বিকাশ ভবনের কর্মীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অধিকার আছে। আর সেই আটকে পড়া মানুষদের অফিস থেকে বের করতে গিয়েই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার মোকাবিলা করতে গিয়েই পুলিশকে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করতে হয়।
সুপ্রতিম সরকার এদিন জানান,'চাকরিহারা শিক্ষকরা গত ১০ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চালাচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশভবনের ভিতরে ঢোকেন। তখনও পুলিশ কিছু করেনি, পুলিশ সংযত থেকেছে '। পুলিশের দাবি তারপরও পুলিশ পদক্ষেপ করেনি। সকালের পরও পুলিশ ৭ ঘণ্টা ধরে সংযত থেকেছে। কিন্তু সেদিন অফিস ছুটির পরও ওই চত্বরে অনেক অফিস আছে, সেই সব অফিসের কর্মচারীরা অফিস থেকে বেরোতে পারছিলেন না। প্যানিক কল যায় পুলিশের কাছে। কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করছিলেন। আটকে পড়েছিলেন সন্তানসম্ভবা এক কর্মীও। পুলিশের তরফে আবেদন করা হয়। কিন্তু ততবার আন্দোলনকারীরা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
সুপ্রতিম সরকার বলেন, 'যখন কর্মচারীদের বাইরে বেরনোর রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়।' আটকে পড়া কর্মীদের, কারও মা অসুস্থ, কারও বাড়িতে বাচ্চা আছে, কাউকে অনেক দূরে ফিরতে হয়,তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তখন সেই আন্দোলন গণতান্ত্রিক থাকে না'মন্তব্য পুলিশের। 'কর্মচারীদের বাইরে বার করতে গিয়ে যেটুকু বলপ্রয়োগ করতে হয়, তা করা হয়েছে। লাঠিচার্জের আগে যাবতীয় প্রোটোকল মানা হয়েছে, পুলিশ বারবার মাইকে অনুরোধ করেছে'। পুলিশের দাবি, 'বিকাশ ভবনের আটকে থাকা কর্মচারীদেরও তো একটা অধিকার আছে। তাঁরা তো কোনও অন্যায় কাজ করেননি, তাঁরা কাজ করতে এসেছিলেন'।
রাজ্য পুলিশের এডিজি জাভেদ শামিম বলেন, 'আন্দোলন নিয়ে পুলিশের কিছু বলার নেই, আমরা চাকরিহারাদের বেদনা বুঝি। গতকালের পুলিশ অ্যাকশন, শুধুমাত্র আটকে পড়া কর্মচারীদের বাইরে বার করার জন্য করা হয়েছে। অফিসের গেট ভেঙে, অফিসের চত্বর দখল করা যায় না। শিক্ষকরা সমাজের স্তম্ভ, যা আন্দোলন চলছে, সেখানে সহযোগিতা করার হলে ভবিষ্যতে করব। '






















