এক্সপ্লোর
আমেরিকায় ফের বন্দুকবাজের হামলা: মৃত অন্তত ৫০, আহত ৫৩

ফ্লোরিডা: আমেরিকার ফ্লোরিডায় বন্দুকবাজের তাণ্ডবে মৃত ৫০। আত্মঘাতী বন্দুকবাজের নাম ওমর মতিন। পুলিশ জানিয়েছে, সে আফগান বংশোদ্ভূত। ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসাবেই দেখছে ফ্লোরিডা পুলিশ। বিশেষ কোনও মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে বন্দুকবাজের সম্পর্ক আছে কি না, খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় মৃত ও নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান। ফের বন্ধুকবাজের তাণ্ডবে রক্তাক্ত আমেরিকায় ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো! নাইটক্লাবে বন্দুকবাজের গুলিবৃষ্টিত প্রাণ গেল অনেকের! ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ২টো। মায়াবি আলোর সঙ্গে হার্ড রক মিউজিকে তখন গমগম করছে অরল্যান্ডোর পাল্স নাইটক্লাব। শুরু হয় নির্বিচার গুলিবৃষ্টি। বন্দুকবাজের এলাপোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টিতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন একের পর এক মানুষ। গোটা ক্লাব গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় সে, এমনকী বাদ যায়নি সিলিংও। মাটিতে শুয়ে পড়ে, হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও মানুষ প্রাণে বাঁচতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সম্ভবত এক মিনিটও গুলি চলেনি কিন্তু তাতেই প্রাণ হারান অন্তত ৫০ জন। আহতের সংখ্যা ৫৩, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পৌঁছতে দেরি হয়নি পুলিশের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে নাইটক্লাব ঘিরে ফেলে অরল্যান্ডো পুলিশ। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দরজা ভেঙে নাইটক্লাবে ঢুকে পড়ে তারা।ক্লাবের ঢুকতেই বন্দুকবাজের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয় পুলিশের সোয়াট টিমের। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলিতে মৃত্যু হয় বন্দুকবাজের। যদিও ততক্ষণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অরল্যান্ডোর পুলিশ প্রধান জন মিনা জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বন্দুকবাজের। এটা পরিকল্পিত হামলা। প্রস্তুতি নিয়েই নাইটক্লাবে ঢুকেছিল বন্দুকবাজ। যদিও পুলিশ এই দাবি করলেও, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি আত্মঘাতী হয়েছে বন্দুকবাজ। অরল্যান্ডো পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকবাজের নাম ওমর মতিন। জন্ম ১৯৮৬ সালে। বাড়ি ফ্লোরিডার স্ট.লুসিয়াতে। মৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। প্রচুর কার্তুজ ও একটি ধারাল ছুরি। পুলিশ জানিয়েছে, মতিনের কোনও অপরাধমূলক ইতিহাস ছিল না। ফ্লোরিডায় শ্যুটআউট-র ঘটনায় মৃত ও নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাশাপাশি, এই ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে সবরকম সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ হোয়াইট হাউসের তরফের এক প্রেস বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। আজ হোয়াইট হাউসের তরফের এক প্রেস বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যুইট বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন, কবে এই ধরণের ঘটনা বন্ধ হবে? কবে আরও কড়া নজরদারি ব্যবস্থা চালু হবে? সাম্প্রতিককালে, একের পর এক শ্যুটআউটের ঘটনায় ত্রস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদিন নাইটক্লাবে শ্যুটআউটের ২৪ ঘণ্টা আগেই ফ্লোরিডার একটি অনুষ্ঠানে ঢুকে গুলি করা হয় সঙ্গীত শিল্পী ক্রিশ্চিনা গ্রেমিকে। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েকদিন আগে, লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাঙালি বন্দুকবাজ মৈনাক সরকারের গুলি এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছিল অধ্যাপক উইলিয়াম ক্লুগের শরীর। এই সব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের ভোটের আগে গুলি চলল মার্কিন মুলুকে। ফের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















