Trump-Zelensky Meet: 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জুয়ো খেলছেন, অপমান করছেন আমেরিকাকে', জেলেনেস্কির উপর চিৎকার ট্রাম্পের
'ট্রাম্পের চেঁচামেচি', তুমুল তর্কাতর্কি, বৈঠক ছাড়লেন জেলেনেস্কি, নজিরবিহীন সাক্ষাতের নিট ফল কী?

ওয়াশিংটন ডিসি : একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ভলোদিমির জেলেনেস্কি। হোয়াইট হাউসে দুই রাষ্ট্রনেতার মোলাকাতে যে ঘটনা ঘটে গেল, তা কার্যত নজিরবিহীনই। বৈঠক চলাকালীন তীব্র বাগযুদ্ধে জড়ালেন দুই নেতা। কথোপকথনে কোনও রফাসূত্র তো বেরলোই না, বরং তুঙ্গে উঠল তর্ক। চড়ল গলা। কেউ কারও এক ইঞ্চি জমিও ছাড়লেন না। উত্তপ্ত বাক্যালাপের জেরে বাতিল হয়ে গেল খনিজ চুক্তির বিষয়টিও। চুক্তি বাতিল করে হোয়াইট হাউস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন জেলেনেস্কি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে দুই নেতার কথোপকথন মুহূর্তে তর্কের চেহারা নেয়। অভিযোগ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপর কার্যত চেঁচিয়ে ওঠেন ট্রাম্প ! বলেন, 'আপনার দেশ বড় সমস্যায় রয়েছে। আপনারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ জিতছেন না। আপনার লোকজন সাহসী, কিন্তু তাঁরা আমাদের সেনাবাহিনীর উপর নির্ভরশীল। আপনারা যদি আমাদের সমর সাহায্য না পেতেন, তাহলে এই যুদ্ধ দু'সপ্তাহেই শেষ হয়ে যেত।' জেলেনেস্কিও পাল্টা জবাব দেন, ' মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এখন আমাদের দেশ শক্তিশালী। যুদ্ধের একেবারে গোড়া থেকেই আমরা একা।' এরপর তর্কবিতর্কের পর বৈঠকের নিট ফল শূন্যই থেকে যায়। বৈঠক পরবর্তী যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও বাতিল করে দেন তাঁরা। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আমেরিকাকে অপমান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতেই চান না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির মধ্যে বৈঠকটি আপাত শান্তিপূ্র্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অনেক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু যখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প, তখনই দুই নেতার মধ্যে বিপরীত মতামত স্পষ্ট হয়। মতানৈক্য থেকে কার্যত নজির বিহীন ঝগড়া , চিৎকার চেঁচামেচির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ছিলেন বৈঠকে। তিনিও জেলেনেস্কিকে নিশানা করতে ছাড়েননি। কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেন, 'আপনার কূটনীতি আপনার দেশকে ধ্বংস করে দেবে... আপনাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত যে তিনি আপনাদের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছেন। জেলেনেস্কিও সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেন, 'অনেকবার বলেছি আমেরিকার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ'।
শেষমেষ বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। তারপর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'আজ অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক হল। মুখোমুখি না বসলে, এতটা চাপ ও তাপের মধ্যে না থাকলে, অনেককিছুই বেরিয়ে আসত না। ' জেলেনেস্কিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প লেখেন, আমি সুবিধা চাই না, শান্তি চাই। উনি ওভাল অফিসে বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করেছেন' আর জেলেনেস্কি হাউস থেকে বেরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন,ধন্যবাদ আমেরিকাকে। ইউক্রেন ন্যায্য অধিকার ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পক্ষে। তার জন্য যা করার তাই করছে। যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, শান্তির জন্য প্রস্তুত থাকলে জেলেনেস্কি আবার আসতে পারেন।






















