Extortion: ৮ জনকে পরপর বিয়ে, ৭৫ লক্ষ টাকা লুট; নবম বিয়ের সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন মহিলা
Maharashtra News: পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে যে সামিরা ফতিমা নামের এই মহিলা এক বড় গ্যাংয়ের সঙ্গে কাজ করছিলেন যাদের হয়ে তিনি একেকজন স্বামীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে রোজগার করতেন।

নাগপুর: মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। নাগপুরের পুলিশ সম্প্রতি এই অঞ্চলে এক ‘লুটেরা দুলহন’কে গ্রেফতার করেছে। সেই মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একটা-দুটো নয়, পরপর ৮ জন পুরুষকে বিবাহের ফাঁদে ফেলে তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। নবম বিয়ের সময়েই হাতেনাতে এই মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।
আধিকারিকদের মতে, এই অভিযুক্তের নাম জানা গিয়েছে সামিরা ফতিমা। তাঁকে যখন গ্রেফতার করা হয় সেই সময় তিনি তাঁর পরবর্তী ‘টার্গেট’ বা নিশানার সন্ধানে ছিলেন। নবম এক পুরুষের সঙ্গে তিনি যখন দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখনই তাঁকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে এই অভিযুক্ত মহিলা তাঁর পূর্বতন স্বামীদের একইভাবে ব্ল্যাকমেল করতেন এবং হুমকি দিয়ে তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করতেন। ইতিমধ্যেই সামিরা নামের সেই মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে জোর কদমে।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে যে সামিরা ফতিমা নামের এই মহিলা এক বড় গ্যাংয়ের সঙ্গে কাজ করছিলেন যাদের হয়ে তিনি একেকজন স্বামীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে রোজগার করতেন। পুলিশি তদন্তে এও জানা গিয়েছে যে এই সামিরা আদপে খুবই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশায় তিনি একজন শিক্ষিকা। কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করেছে বিগত ১৫ বছর ধরে তিনি এভাবে বহু পুরুষকে সর্বস্বান্ত করেছেন, আর এই অভ্যাসে তিনি মূলত ধনী বিবাহিত মুসলমান পুরুষদেরই নিশানা করতেন।
তাঁর পূর্বতন এক স্বামী অভিযোগ করেছেন যে তাঁর কাছ থেকে সামিরা ফতিমা হুমকি দিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন এবং অন্য আরেক পুরুষের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। দুটিই হয়েছে নগদে ও ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে। এমনকী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গেও এভাবে ব্ল্যাকমেল করে তিনি টাকা আদায় করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সাধারণত নিজেকে একজন ডিভোর্সি ও এক সন্তানের অসহায় মা হিসেবে পরিচয় দিতেন সামিরা ফতিমা। আর এই পরিচয় দিয়ে তিনি পুরুষদের মনে সহানুভূতি ও বিশ্বাস জাগাতেন। এর আগেও একবার তিনি গ্রেফতার হতে হতে নিজেকে বাঁচিয়ে নেন গর্ভবতী পরিচয় দিয়ে। যদিও ২৯ জুলাই নাগপুরের এক চা দোকান থেকে পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে আটক করে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে সামিরা মূলত ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট ও ফেসবুক ব্যবহার করতেন তাঁর নিশানার সন্ধানে। ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে তিনি মূলত কথাবার্তা শুরু করতেন পুরুষদের সঙ্গে, তাদের নিজের জীবনের আবেগঘন ঘটনা জানাতেন সহানুভূতি আদায় করার জন্য।






















