Viral News: বিছানা ভিজিয়ে ফেলেছিল একরত্তি, ড্রায়ার দিয়ে শুকোতে গিয়ে ঘটল বিপত্তি, কেটে বাদ দিতে হল শিশুটির ৩ আঙুল, জেল হল মায়ের
Medical News: ভেজা বিছানা শুকোতে দেরি হচ্ছিল। তাই ড্রায়ারটিকে কাত করে রেখে নিজে বিছানার একদিকে ঘুমিয়ে পড়েন Wu.

নয়াদিল্লি: শিশু বিছানা ভিজিয়ে ফেলায় হেয়ারড্রায়ার দিয়ে শুকোতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শর্টকাট নিতে গিয়ে মারাত্মক কাণ্ড ঘটে গেল। শিশুটির পায়ের একাংশ পুড়ে গেল ভয়ঙ্কর ভাবে। কেটে বাদ দিতে হল একরত্তির পায়ের তিনটি আঙুল। গোটা ঘটনায় শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল আদালত। তাঁর জেল হল। (Viral News)
তাইওয়ান থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। ওই মহিলাকে Wu বলে সম্বোধন করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে। শিশুকন্যাকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন Wu. কাজের ফাঁকে দেখেন মেয়ে বিছানা ভিজিয়ে ফেলেছে। হাতের কাছে হেয়ারড্রায়ার পেয়ে, সেটি দিয়েই বিছানার ভেজা অংশ শুকোতে যান Wu. (Medical News)
ভেজা বিছানা শুকোতে দেরি হচ্ছিল। তাই ড্রায়ারটিকে কাত করে রেখে নিজে বিছানার একদিকে ঘুমিয়ে পড়েন Wu. ক্লান্তির জেরে গভীর ঘুমে ডুব দেন তিনি। আর তাতেই বিপত্তি ঘটে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, বিকেল ৪টে নাগাদ ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন, ছোট্ট মেয়ের বাঁ পা ফোস্কায় ভরে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন Wu. কিন্তু তত ক্ষণে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনায় Wu-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জেরেই শিশুটির অঙ্গহানি হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হন তদন্তকারীরা। সেই নিয়ে আদালতে শুনানি চলাকালীন Wu জানান, মাতৃত্বকালীন অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। ওষুধ খাচ্ছিলেন। তার জেরেই ঘুমিয়ে পড়েন। Wu জানান, ঘুমানোর আগে মেয়েকে নিরাপদ দূরত্বেই সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বিচারক তাঁর মন্তব্যে খুশি হননি। বিচারক জানান, শিশুটি পাশ ফিরতে পারে, উল্টোতে পারে, লাথি ছুড়তে পারে, সেটা বোঝা উচিত ছিল Wu-র।
দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের গরম হাওয়া গায়ে লাগলে চামড়া পুড়ে যায়। Wu শিক্ষিত, যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর, তার পরও তিনি এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করলেন কী ভাবে, প্রশ্ন তোলে আদালত। এর পর চিকিৎসকদের মতামতও গ্রহণ করে আদালত। জানা যায়, যেভাবে তিনটি আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে ওই শিশুকে হাঁটার সময় খোঁড়াতে হতে পারে।
সম্প্রতি Wu-কে পাঁচ মাসের কারাবাসের সাজা শোনায় আদালত। পাশাপাশি মোটা টাকা জরিমানাও করা হয় তাঁকে, প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়)। বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে যে Wu মেয়ের ক্ষতি করেননি, তা মেনে নিয়েছেন সকলেই। কিন্তু মা হিসেবে তাঁর আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল, তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় শিশুটির যে বড় ক্ষতি হয়ে গেল, তাও সকলে স্বীকার করেছেন। কেউ কেউ আবার সদ্য মা হওয়া মহিলাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারণ সমীক্ষা বলছে, মা হওয়ার পর তাইওয়ানে মহিলারা অবসাদে ডুবে যান। গত কয়েক বছরে এই মাতৃত্বকালীন অবসাদ ২০ শতাংশ বেড়েছে। মাতৃত্বকালীন অবসাদ কাটিয়ে উঠতে তাইওয়ানে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই খাতে দেশের সরকার মোটা টাকা বরাদ্দ করেছে বাজেটে।






















