Viral Video: হাসপাতালের OPD-তে বিয়ের মণ্ডপ, কনেকে কোলে নিয়ে সাতপাক ঘুরলেন বর, সিনেমা-বাস্তব মিলেমিশে একাকার
Madhya Pradesh Hospital Wedding: মধ্যপ্রদেশের রাজগড়ের সরকারি হাসপাতালের ঘটনা।

ভোপাল: ওষুধ-ইঞ্জেকশন নয়, হাসপাতাল জুড়ে ফুল-চন্দনের গন্ধ। আউটডোর বিভাগে সাজানো মণ্ডপ, আর সেটিকে ঘিরে মানুষের ভিড়। মধ্যপ্রদেশের একটি হাসপাতাল থেকে এমনই দৃশ্য সামনে এল। কারণ ওই হাসপাতালেই বিয়ের আসর বসল এক রোগিণীর। চিকিৎসক-নার্স-কর্মী, সকলে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। সিনেমার পর্দায় অনেকেই এমন দৃশ্য দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে এমন ঘটতে দেখে হতবাক সকলেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে হাসপাতালে বিয়ের ওই ভিডিও। (Viral Video)
মধ্যপ্রদেশের রাজগড়ের সরকারি হাসপাতালের ঘটনা। বুধবার, অক্ষয় তৃতীয়ার রাতে সেখানেই বিয়ের আসর বসেছিল আদিত্য সিংহ এবং নন্দিনী সোলাঙ্কির। ফুল দিয়ে সাজানো মণ্ডপ, তাতে মন্ত্র পড়ে বিয়ে করেন তাঁরা। নন্দিনীকে কোলে নিয়ে আদিত্য যেভাবে আগুনের চারিদিকে সাতপাক ঘোরেন, সেই মুহূর্ত নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে তুলে ধরেছেন অনেকেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত হাসপাতালে কেন বিয়ে করতে হল, তার নেপথ্যে রয়েছে হৃয়বিদারক কাহিনি। (Madhya Pradesh Hospital Wedding)
জানা গিয়েছে, এবছর অক্ষয় তৃতীয়াতেই বিয়ের কথা ছিল আদিত্য এবং নন্দিনীর। দুই পরিবারের তরফে সব আয়োজনও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন নন্দিনী। রোগ এত গুরুতর ছিল যে হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফেরার কোনও সম্ভবনা ছিল না তাঁর। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ে পিছনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, জানা যায়, এবছরের অক্ষয় তৃতীয়ার মতো পবিত্র দিন আগামী দু’বছরে আর নেই।
Saath phere in hospital see video pic.twitter.com/C1vdaHPhRi
— Viral Info (@3Chandrayaan) May 2, 2025
প্রথমে কুম্ভরাজের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল নন্দিনীকে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে বীণাগঞ্জে এবং সবশেষে বিয়াওরার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালের ICU-তে ভর্তি ছিলেন নন্দিনী। সম্প্রতি স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলেও, তাঁকে বিশ্রামের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেই অবস্থায় বিয়ের ঝক্কি সামলানো সহজ ছিল না নন্দিনীর পক্ষে। তাই শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের লোকজনকে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। মধ্যরাতে হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে বিয়ের মণ্ডপ সাজানো হয়। ফুল দিয়ে সাজানো হয় চারিদিক। বরযাত্রী নিয়ে সেখানেই হাজির হন আদিত্য। কিন্তু হাসপাতাল বলে ব্যান্ডপার্টি, গানবাজনা ছিল না। শেষ পর্যন্ত রাত ১টা নাগাদ বিয়ের আচারানুষ্ঠান শুরু হয়। পরিবারের লোকজন, চিকিৎসক, নার্সদের সামনেই সাতজন্মের অঙ্গীকার করেন আদিত্য ও নন্দিনী। অগ্নিসাক্ষী রেখে সাতপাকে ঘোরার সময় অসুস্থ নন্দিনীকে কোলে তুলে নেন আদিত্য। সেই মুহুর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সকলেই। যুগলের উপর পুষ্পবৃষ্টি করেন তাঁরা।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি নন্দিনী। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করে। তবে একটু একটু করে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করেই নন্দিনীকে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কী হয়েছে নন্দিনীর, তা স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়নি।






















