Kabul Water Crisis: পৃথিবীর প্রথম জলশূন্য শহর, ২০৩০ সালের মধ্যেই, ভিতর থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে ভারতের পড়শি দেশের রাজধানী
Kabul Waterless by 2030: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার তথা পরিবেশ সংস্থা Mercy Corps নিজেদের রিপোর্ট সামনে এনেছে।

নয়াদিল্লি: শেষের সূচনা কি তাহলে হয়েই গেল? সাম্প্রতিক গবেষণা অন্তত তেমনই জানান দিচ্ছে। গবেষকদের দাবি, জলশূন্য হওয়ার দিকে এগোচ্ছে পৃথিবী। হাতে আর এক দশকও সময় নেই। বরং ২০২৩ সালের মধ্যেই পৃথিবীর একটি দেশ সম্পূর্ণ ভাবে জলশূন্য হয়ে যাবে। ভারতের প্রতিবেশী দেশ, ৬০ লক্ষ মানুষের বাসস্থান, আফগানিস্তানের কাবুল ২০৩০ সালের মধ্যে জলশূন্য হয়ে যাবে বলে দাবি গবেষকদের। কাবুলকে পৃথিবীর প্রথম জলশূন্য আধুনিক শহর হওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। (Kabul Water Crisis)
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার তথা পরিবেশ সংস্থা Mercy Corps নিজেদের রিপোর্ট সামনে এনেছে। জানিয়েছে, কাবুলের ভূগর্ভস্থ জল প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বেপরোয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলার ফলেই এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। (Kabul Waterless by 2030)
গবেষকরা জানিয়েছেন, গত এক দশকে কাবুল শহরের নীচে মজুত ভূগর্ভস্থ জল ৮২ থেকে ৯৮ ফুট নীচে নেমে গিয়েছে (২৫ থেকে ৩০ মিটার নীচে নেমে গিয়েছে)। প্রাকৃতিক ভাবে জলের জোগান যত, তার চেয়ে উত্তোলন বেড়ে গিয়েছে, বিস্ময়কর ভাবে বছরে ৪.৪ কোটি কিউবিক মিটার। এভাবে চললে ২০৩০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর প্রথম জলশূন্য আধুনিক শহরে পরিণত হবে কাবুল। ফলেকাবুল ছেড়ে চলে যেতে হবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে।
গবেষণায় যে মূল সমস্যার কথা উঠে এসেছে, তা হল-
- একেবারে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে কাবুল। প্রাকৃতিক ভাবে ভূগর্ভে যত জল জমে, তার চেয়ে ঢের বেশি পরিমাণ জল তোলা হয়। UNICEF-এর রিপোর্ট বলছে, পানীয় জলের জন্য কাবুলবাসী কুয়োর উপরই নির্ভরশীল। কিন্তু শহরের প্রায় অর্ধেক কুয়োই শুকিয়ে গিয়েছে। ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণে এখনই সহযোগিতা না পেলে, কাবুল জলশূন্য হয়ে পড়বে।
- জল যেমন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তেমনই কমছে জলের সহজলভ্যতাও। শহরের কিছু পরিবারকে মোট আয়ের ৩০ শতাংশই খরচ করতে হয় জল কেনার জন্য়। জল কেনা এবং সেই সংক্রান্ত খাতে খরচ করতে গিয়ে ঋণ চেপেছে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষের কাঁধে।
- জলদূষণ চরম আকার ধারণ করছে কাবুলে। ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জলই পানযোগ্য নয় সেখানে। নর্দমার জল যেমন মিশছে, তেমনই আর্সেনিক মিশছে, জল লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। এতে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে।
- পরিস্থিতির অবনতির জন্য তথ্য সংক্রান্ত ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাবই দায়ী। গতানুগতিক পদ্ধতিতে জলের চাহিদা ও ঘাটতি নির্ধারণ, জল নিয়ে তেমন কোনও সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প না থাকা এবং পরিস্থিতি নির্ধারণে দক্ষতার অভাবও জলসঙ্কট বাড়িয়ে তুলেছে।
- দীর্ঘ দু’দশক ধরে আফগানিস্তানে মোতায়েন ছিল আমেরিকা নেতৃত্বাধীন বাহিনী। এর ফলে জনবিন্যাস ঘেঁটে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন কাবুলে এসে ভিড় করতে থাকেন। ফলে ২০০১ সালে যেখানে কাবুলের জনসংখ্যা ১০ লক্ষও ছিল না, বর্তমানে তা ৬০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।
- কাবুলকে বাঁচাতে হলে সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
কাবুল পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন লেকচারার, ভূগর্ভস্থ জল বিশেষজ্ঞ, আসেম মায়ার জানিয়েছেন, আজ নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই জলসঙ্কটে ভুগছে কাবুল। এখনই পদক্ষেপ না করলে, চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।






















