Science News: ‘তিমিরগর্ভ নক্ষত্র’, সূর্যের চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বড়, মহাশূন্যের বুকে অনন্য অবিষ্কার ভারতীয় যুবকের
Black Hole Star: কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের সন্ধান মিলল। ব্যতিক্রমী মহাজাগতিক বস্তু বলছেন বিজ্ঞানীরা।

নয়াদিল্লি: মহাশূন্যের বুকে এবার সম্পূর্ণ নয়া মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। ঘরের মধ্যে ঘর হওয়ার মতোই, কৃষ্ণগহ্বর কেন্দ্রিক নক্ষত্রের সন্ধান মিলল, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা 'Black Hole Star' 'কৃষ্ণগহ্বর-নক্ষত্র' বা 'তিমিরগর্ভ নক্ষত্র' বলছেন। কৃষ্ণগহ্বরের বুকে কোনও নক্ষত্রের সন্ধান মেলেনি, বরং ওই কৃষ্ণগহ্বরই চরিত্রগত ভাবে নক্ষত্র বলে জানা যাচ্ছে। উজ্জ্বল লাল আলো দেখে সেটির প্রতি আকর্ষণ জন্মায় প্রথমে। সময়ের সঙ্গে বেরোয় তার আসল রূপ। (Black Hole Star)
তিমিরগর্ভ নক্ষত্র
উজ্জ্বল লাল আলোয় উদ্ভাসিত ওই তিমিরগর্ভ নক্ষত্রটি আকারে গোটা সৌরজগতের সমান। আমাদের সূর্যের চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বড়। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র James Webb Space Telescope প্রথমে সেটিকে চাক্ষুষ করে। লালবিন্দু রূপে প্রথমে দর্শন মেলে সেটির। ধীরে ধীরে আসল চেহারা সামনে আসে। আর তাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Science News)
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে কয়েকশো কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সিটাস নক্ষত্রমণ্ডলের মধ্যে, লালবিন্দুর মতো দেখতে তিমিরগর্ভ নক্ষত্রটি লুকিয়ে ছিল। ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাজাগতিক বিস্ফোরণের প্রায় ৬৬ কোটি বছর পর সেটির জন্ম বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্যতিক্রমী চরিত্র
একেবারে ব্যতিক্রমী মহাজাগতিক বস্তুটিকে দেখে বিশালাকার নক্ষত্রের মতো। তবে আমাদের পরিচিত অন্য নক্ষত্রের চেয়ে ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি নির্গত হয় সেটি থেকে। সেটি থেকে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, তার সঙ্গে সাধারণ নক্ষত্রের তুলনাই তলে না, বরং তা অনেক বেশি কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এক ভারতীয়র হাতেই এই আবিষ্কার হয়েছে। Kavli Institute for Astrophysics and Space Research থেকে এই আবিষ্কার করেছেন রোহন নায়ডু। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধীনে গবেষণা চলছিল সেখানে। রোহন বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াইয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “নতুন ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছি আমরা, একটি তিমিরগর্ভ নক্ষত্রের। কৃষ্ণগহ্বরের সমান শক্তি নির্গত হয়। তবে চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য নক্ষত্রের মতো।”
আরও পড়ুন: মহাকাশের 'চোখ' ধরা পড়ল নাসার টেলিস্কোপে, নক্ষত্রের শেষ বিদায়ের আশ্বর্য ছবি
বহির্বিশ্বের বুকে অজানা জিনিসপত্রের সন্ধানে গবেষণা চলছিল। প্রথমে Mom-z14 নামের একটি ছায়াপথকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা কি না মহাজাগতিক বিস্ফোরণের ২৮ কোটি বছর তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে। এর পর অন্যত্র খোঁজাখুঁজি শুরু হলে একটি উজ্জ্বল লাল রংয়ের বিন্দু নজর কাড়ে সকলের। সেটির নাম MoM-BH*-1. Nature জার্নালে রোহন বলেন, “একেবারে টকটকে লাল। একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীচে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। এতটাই ব্যতিক্রমী যে অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা চলে না।” কম্পিউটার সিমুলেশনে দেখা যায়, পরমাণু শক্তিদ্বারা চালিত কোনও বিশাল নক্ষত্র মনে হলেও, সেটি আসলে একটি কৃষ্ণগহ্বর, যা ঘন গ্যাসের আবরণে ঢাকা এবং নক্ষত্রের মতোই বিকিরণ ছড়ায়।
লাল বিন্দুর বিশালতা
এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণার জগতে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। কারণ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাশূন্যের বুকে আরও যে সব অসংখ্য লাল বিন্দুর ছবি তোলা গিয়েছে, সেগুলিও ব্ল্যাক হোল স্টার বা তিমিরগর্ভ নক্ষত্র হতে পারে। রোহনের মতে, ছায়াপথের বিবর্তনে এই তিমিরগর্ভ নক্ষত্রগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকাশগঙ্গে ছায়াপথের কেন্দ্রে যেমন ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’ রয়েছে, এটিও সেরকমই। তিমিরগর্ভ নক্ষত্রগুলিই কৃষ্ণগহ্বরের বীজ হিসেবে কাজ করে। রোহন বলেন, “তিমিরগর্ভ নক্ষত্রই হয়ত প্রত্যেক কৃষ্ণগহ্বরের প্রাথমিক এবং সুপ্ত দশা, যেখান থেকে তার যাত্রার সূচনা ঘটে।”
প্রায় প্রত্যেক ছায়াপথের কেন্দ্রেই কৃষ্ণগহ্বর থাকে। প্রত্যেক ছায়াপথের ভবিতব্যও নির্ধারণ করে তারা। রোহনের বক্তব্য, “কখন নক্ষত্র গঠিত হবে, কখন সেই প্রক্রিয়া থামবে, তা হয়ত এই তিমিরগর্ভ নক্ষত্রই ঠিক করে। আর নক্ষত্র গঠনের পর পরই হয়ত গ্রহের জন্ম হয়, প্রাণের বিকাশ ঘটে।”
রোহন নায়ডু কে?
রোহন আসলে হায়দরাবাদের ছেলে। সেখানেই জন্ম তাঁর। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে ছেড়ে দেন। নিজের জীবনকে তিনি 'বলিউডের কাহিনি'র মতো বলে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, জীবনে প্রথমবার বিমানে উঠেছিলেন। সিঙ্গাপুরের Yale-Nus কলেজে পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। অধ্যাপক চার্লস বেলিনের সংস্পর্শে আসেন প্রথমে। পরবর্তীতে আকাশগঙ্গায় লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ছায়াপথ নিয়ে PhD করেন হার্ভার্ডে। NASA-র Hubble ফেলোশিপও জুটে যায়। তার পর MIT-তে প্রবেশ।






















