Medical Science: পুরুষের শরীরে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব পাওয়া গেল, চিকিৎসা চলছিল ইনফার্টিলিটির, কিছুতেই সন্তান আসছিল না
Male Infertility: দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকার ঘটনা। ২৬ বছর বয়সি ওই যুবকের শরীরে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব পাওয়া গেল।

নয়াদিল্লি: পুরুষ হয়ে জন্ম পৃথিবীতে। পেতেছেন সংসারও। সন্তানের জন্য চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্তম্ভিত দিল্লির যুবক। তাঁর শরীরের ভিতর পাওয়া গেল জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব বং অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকা টেস্টিক্যুলার টিস্যু। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে এই ঘটনা বিরল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। (Male Infertility)
দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকার ঘটনা। ২৬ বছর বয়সি ওই যুবক বিবাহিত। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানের জন্য চেষ্টা করছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সব করেছিলেন ওই যুবকের স্ত্রী। কিন্তু তাতেও সন্তান আসছিল না। সম্প্রতি ওই যুবকের চিকিৎসা শুরু হয়। আর তাতেই বিরল ঘটনা ধরা পড়ল। (Medical Science)
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই যুবকের Persistent Mullerian Duct Syndrome (PMDS) রয়েছে, যা একটি বিরল জন্মগত অবস্থা। এই রোগে নারীশরীরে বিদ্যমান প্রজননতন্ত্র দেখা যায় পুরুষের শরীরেও। এক্ষেত্রেও ওই যুবকের শরীরে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব পাওয়া গিয়েছে।
বিশিষ্ট চিকিৎসক সুশীল খরবান্দা ওই যুবকের চিকিৎসা করছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দু’বছর হল বিয়ে হয়েছে ওই যুবকের। পরিবার পরিকল্পনা করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। স্ত্রীর রিপোর্ট মোটামুটি ঠিকই ছিল। সম্প্রতি ওই যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে দেখা যায়, পুরুষসুলভ যৌন বৈশিষ্ট্যগুলি স্বাভাবিকই তাঁর মধ্যে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, যুবকের দুই অণ্ডকোষই অস্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বাড়িতে ঢুকে মহিলার কাপড় টেনে খুলে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়’, বলল আদালত
এর পর ওই যুবকের দেহরস পরীক্ষা করে দেখা যায়, অ্যাজোস্পার্মিয়া রয়েছে, অর্থাৎ দেহরসে স্পার্ম নেই। টেস্টোস্টোরেনের মাত্রা স্বাভাবিক হলেও FSH এবং LH অত্যধিক। তলপেটের আলট্রাসাউন্ড হয় প্রথমে, পরে MRI স্ক্যান। আরও একাধিক পরীক্ষা হয় তাঁর, যাতে দেখা যায়, ওই যুবকের ক্রোমোজোমের বিন্যাস ৪৬, XY.
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, PMDS একটি বিরল শারীরিক অবস্থা, যা জন্মের আগেই শিশুর শরীরে তৈরি হয়ে যায়। পুরুষ ভ্রূণ যখন মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠে, সেই সময় অ্যান্টি মুলেরিয়ান হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষের শরীরে ‘মুলেরিয়ান স্ট্রাকচার’ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে সেটি। মেয়েদের ক্ষেত্রে ওই ‘মুলেরিয়ান স্ট্রাকচার’ই পরবর্তীতে জরায়ু এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের আকার ধারণ করে। কোনও কারণে পুরুষ ভ্রূণে ওই হরমোনটির অনুপস্থিতি থাকলে বা রিসেপ্টর ঠিক মতো কাজ না করলে, পুরুষ ক্রোমোজোম থাকা সত্ত্বেও ‘মুলেরিয়ান স্ট্রাকচারে’র বৃদ্ধি আটকায় না, যা পরবর্তীতে PMDS-এ পরিণত হয়।
এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ এবং শরীরের ভিতর থাকা প্রজনন কাঠামো টিউমার এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ওই যুবককে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে অস্বাভাবিক অংশগুলি সরিয়ে ফেলা যায়। সেই মতো অস্ত্রোপচার করান ওই যুবক। সেই টিস্যু পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ক্যান্সারের আগে যে পরিবর্তন ঘটে, তার লক্ষণ রয়েছে যুবকের একটি অণ্ডকোষে। তাই চিকিৎসকদের মতে, সময়ে চিকিৎসা হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
চিকিৎসক খরবান্দা NDTV-কে জানিয়েছেন, শিশুর শরীরে সব ঠিক রয়েছে কি না, ছোটবেলাতেই পরীক্ষা করানো উচিত। কোথাও সমস্যা ধরা পড়লে, চিকিৎসায় দেরি করা উচিত নয়। বন্ধ্য়াত্বের সমস্যায় ভুগলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই চিকিৎসা করানো উচিত বলে মত তাঁর।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )






















