Science News: গোপনে মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করা হয়েছে? উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছে সব দেশ, পথ দেখালেন বিজ্ঞানীরা
Nuclear Weapons in Space: মহাকাশে গোপনে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি? বোঝার উপায় বের করলেন বিজ্ঞানীরা।

নয়াদিল্লি: পৃথিবীর বাইরে মহাকাশেও জমে উঠেছে দখলদারির খেলা। প্রতিযোগিতায় নেমেছে আমেরিকা, চিনের মতো তাবড় দেশ। মহাকাশ বাহিনী পর্যন্ত গড়ে ফেলেছে আমেরিকা। চিন আবার নিত্যদিন চমক দিয়েই চলেছে। সেই আবহেই বার বার করে একটি প্রশ্ন উঠে আসছে, মহাকাশে কি গোপনে পরমাণু অস্ত্রও পাঠানো হয়ে গিয়েছে? সকলের অগোচরে সেখানে কি মজুত রাখা হয়েছে পরমাণু অস্ত্র? গত ছ’দশক ধরে সেই নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। সব ঠিক থাকলে প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে শীঘ্রই। মহাকাশে পরমাণু অস্ত্রের খোঁজ মিলতে পারে, এমন উপায় বের করলেন বিজ্ঞানীরা। (Nuclear Weapons in Space)
আমেরিকারই MIT-র বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পরমাণু অস্ত্রের সন্ধান পাওয়ার উপায় বের করে ফেলেছেন। MIT-এর পদার্থবিদ আরেগ ডেনাগুলিয়ান গবেষণা করছিলেন সেই নিয়ে। তিনি স্যাটেলাইট নির্ভর সেন্সর ব্যবহারের প্রস্তাব পেশ করেছেন। পৃথিবীর চৌম্বকীয়ক্ষেত্রে আটকে থাকা শক্তিশালী প্রোটনগুলিকে অনুসন্ধানকারী হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছেন তিনি, যা মহাকাশযানে থাকে পারমাণবিক উপাদানের উপস্থিতি টের পেতে সক্ষম। (Science News)
আরেগ জানিয়েছেন, মহাকাশে ওয়ারহেড বা পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের উপস্থিতি বোঝা সম্ভব নিউট্রন নিঃসরণের দ্বারা। বিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চশক্তি সম্পন্ন প্রোটনগুলি ওয়ারহেডের মধ্যে মজুত থাকা ইউরেনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় উপাদানের সংস্পর্শে এলেই অত্যধিক মাত্রায় নিউট্রন উৎপন্ন হবে। পরমাণু অস্ত্রের উপস্থিতি বুঝতে যে ডিটেক্টর ব্যবহারের কথা বলেছেন আরেগ, তার আকার মোটা বইয়ের মতো। বিশেষ ধরনের সেন্সর বসানো থাকবে তাতে, যা চার কিলোমিটার দূর থেকেও ওয়ারহেডের দিক থেকে আসা নিউট্রন শনাক্ত করতে পারবে।
মহাকাশে পরমাণু অস্ত্রের উপস্থিতি টের পেতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে সেন্সরটির। দূরত্ব যত কম হবে, শনাক্তকরণের কাজ ততই দ্রুত সম্পন্ন হবে। মহাকাশে পরমাণু বিস্ফোরণের ফল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হতে পারে। ডিটেক্টর বসিয়ে পরমামু অস্ত্রের উপস্থিতি বোঝা গেলেও বিস্ফোরণ রোধ করা যাবে কি না, তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করছে। পৃথিবীতে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করলে, তার কিছু লক্ষণ বা সঙ্কেত ধরা পড়ে, যেমন ভূমিকম্প বা মাটি কেঁপে ওঠা, তেজস্ক্রিয় পদার্থের অবশিষ্টাংশ, তীব্র আলোর ঝলকানি এবং তীব্র তাপমাত্রা। দশকের পর দশক সেই নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ দেখতে কোনও কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র থাকলে, বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই। বছরের পর বছর মহাকাশে ভেসে থাকতে পারে সেটি। হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটলে চোখের পলকে হাজার হাজার স্যাটেলাইট, বাণিজ্যিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার সামগ্রী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথ ভরে যেতে পারে বিপজ্জনক বর্জ্যে।
আরও পড়ুন: নতুন কেনা SUV গাড়ি রেখে বিদেশ যেতে ভয়, ক্রেন ভাড়া করে এনে ছাদে তুলে রাখলেন, ভিডিও ভাইরাল
১৯৬৭ সালে আমেরিকা এবং তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাতে মহাকাশে কোনও রকম অস্ত্রশস্ত্র বা বিধ্বংসী হাতিয়ার মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হবে না বলে ঠিক হয়েছিল। ওই চুক্তির চার নম্বর অনুচ্ছেদে পরিষ্কার নির্দেশ ছিল সেই নিয়ে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, অক্ষরে অক্ষরে চুক্তির শর্তাবলী পালিত হচ্ছে কি না, তা বোঝার উপায় নেই। শুধু আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ওই চুক্তিই নয়, এখনও পর্যন্ত যত মহাকাশ চুক্তি হয়েছে, তার কোথাওই নিয়ম পালনের বিষয়টি যাচাই করার কোনও উপায়ের কথা বলা নেই। ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের ৪০০ কিলোমিটার উপরে বেশ কিছু পরমাণু অস্ত্রশস্ত্র পরীক্ষা করে আমেরিকা, যার মধ্যে অন্যতম ছিল Starfish Prime. সেবার এত তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে যে বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কৃত্রিম মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা ২৪টি স্যাটেলাইটের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় আটটি। পরবর্তী পাঁচ বছর পৃথিবীর কক্ষপথে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি ছিল, যা মহাকাশ অভিযানের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ওই তেজস্ক্রিয়তার জেরে হনলুলুর রাস্তায় বসানো বাতিগুলি আপনা থেকেই নিভে যায়। ওআহু জুড়ে বেজে ওঠে চোর-ডাকাত ধরার সাইরেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে Project K-র আওতায় সোভিয়েত ইউনিয়নও বেশি উচ্চতায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে মাটিতে। বিদ্যুৎ সংযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই অঞ্চল কাজাখস্তানের মধ্যে পড়ে। ২০১৪ সালে আমেরিকা দাবি করে যে, পরমাণু শক্তিসম্পন্ন স্যাটেলাইট হাতিয়ার তৈরি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার সামরিক রেডার স্যাটেলাইট Kosmos-2553 ওই পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মহাকাশে ঘুরছে বলে দাবি ওঠে। ২০২২ সালে সেটি উৎক্ষেপণ করে রাশিয়া। আমেরিকার বিদেশ বিভাগের (অস্ত্রশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ) সচিব ম্যালরি স্টুয়ার্ট দাবি করেন, তেজস্ক্রিয় পদার্থে পূর্ণ একটি কক্ষপথে অবস্থান করছে সেটি, সচরাচর যেখানে মহাকাশযান পাঠানো হয় না। সেই সময় রাশিয়া দাবি করে, মহাকাশে বৈদ্যুতিন সামগ্রী তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে কেমন আচরণ করে, তা দেখতেই পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। যদিও অত উঁচুতে কেন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে, প্রশ্ন আমেরিকার। তবে মহাকাশ সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে আজও। সেই আবহেই ডিটেক্টর বসানোর প্রস্তাব দিলেন বিজ্ঞানীরা।






















