Science News: মঙ্গলের মাটিতে এগুলি কী? ড্রাগনের আঁশ বলছেন অনেকেই, NASA জানাল…
Giant Scales on Mars: NASA-র যে Curiosity রোভার লালগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেটিই অদ্ভুত ছবি তুলে ধরেছে।

নয়াদিল্লি: সরীসৃপের শরীরের আঁশ বলে ঠাহর হয় একনজরে। বহুকাল ধরে পড়ে থেকে যেন পাথর হয়ে গিয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে এদিক ওদিক। তবে পৃথিবী নয়, মঙ্গলগ্রহের মাটিতে স্তূপাকার কিছু বিস্ময়কর বস্তু চোখে পড়ল। সেই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীদের মধ্য়ে। (Giant Scales on Mars)
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র যে Curiosity রোভার লালগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটিই ওই ছবি তুলে পাঠিয়েছে। অদ্ভুত দেখতে পাথরগুলিকে দেখলে মনে হবে কোনও সরীসৃপের দেহ যেন। পাথরের উপরের অংশ দেখতে সরীসৃপের গায়ে সাজানো আঁশের মতোই। সেগুলি জীবাশ্ম বলেও ভ্রম জাগে একনজরে। (Science News)
তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোনও দানবাকার প্রাণীর জীবাশ্ম নয় ওই পাথরগুলি। বরং মঙ্গলগ্রহের বুকে একসময় জলের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ। মঙ্গলের মাটিতে Gale নামের যে বিশালাকার গহ্বর রয়েছে, তার মধ্যে অবস্থান করছে ‘মাউন্ট শার্প’ নামের একটি পর্বত। ওই পর্বতের ঢালেই পাথরগুলি রয়েছে। ৩৩ ফুটের ‘আন্তোফাগাস্তা’ গহ্বরের দিকে যাওয়ার সময় ওই পাথরগুলির ছবি তোলে Curiosity.
গত ১৪ এপ্রিল NASA-র তরফে প্রথম সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে NASA-র জেট প্রপালসন ল্যাবরেচরির সফ্টওয়্যার তথা স্পেসফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কেভিন এম গিল রঙিন ছবি সামনে আনেন। সেই ছবি দেখে চমকে উঠেছেন সকলেই। পাথরের গায়ে আঁশের মতো গড়ন দেখে কেউ সেগুলিকে কুমিরের শরীর, কেউ আবার ড্রাগনের শরীরের আঁশের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
আঁশ ঢাকা এমন কতগুলি পাথরের ছবি তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কবে অনেকটা জায়গা জুড়েই এমন পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে NASA. বিজ্ঞানীরা যদিও অবাক হননি একটুও। মৌচাকের মতো অংশও এর আগে চোখে পড়েছে মঙ্গলগ্রহে। বরং তাঁদের মতে, মঙ্গলগ্রহের বুকে একসময় মহাসাগর থাকার প্রমাণ পাথরগুলি। খনিজ জমে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই সেগুলির সৃষ্টি ।
মঙ্গলগ্রহের বুকে সমতল একটি বলয়ও চোখে পড়েছে বিজ্ঞানীদের। দীর্ঘদিন জলশূন্য বাথটাব এক জায়গায় বসিয়ে রাখলে মেঝেতে যেমন দাগ পাওয়া যায়, সেই রূপ। বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলগ্রহে একসময় বিশালাকার মহাসাগর থেকে থাকতে পারে, যা গ্রহটির এক তৃতীয়াংশ দখল করে ছিল। কোটি কোটি বছর ধরে বাষ্পীভূত হওয়ার পর চিহ্ন রেখে গিয়েছে। মঙ্গলের মাটিতে নদীপথ, বদ্বীপ, জলাশয় থাকার ইঙ্গিত মিললেও, সুবিশাল মহাসাগর থাকার কথা এখনও প্রমাণ হয়নি। তাই নয়া দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে মহাকাশ গবেষণার খোলনলচেই বদলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
























