AI Created Viruses: ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করল AI, শুধু মানুষ নয়, এবার প্রকৃতিকেও টেক্কা, অপব্যবহার হবে না তো?
AI Creates New Viruses: প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে এবার কৃত্রিম ভাবে ভাইরাস তৈরি করল AI. উপকারে লাগবে, নাকি বাড়বে অপব্যবহার?

নয়াদিল্লি: ভবিষ্যতে AI মানুষকে ছাপিয়ে যাবে বলে বহু আগেই ভবিষ্যদ্বাণী হয়েছে। তবে এবার প্রকৃতিকেই ছাপিয়ে গেল AI. কারণ AI-এর সাহায্য়ে নতুন ভাইরাস তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা। একটি বা দু’টি নয়, একেবারে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করা হল। এর ফলে আগামী দিনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন অনেকে। সেই সঙ্গে ভুল হাতে পড়লে AI থেকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। (AI Creates New Viruses)
Science জার্নালে যে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তাতেই AI-এর সাহায্য়ে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরির কথা উঠে এসেছে। পৃথিবীর বুকে এতদিন ওই সব ভাইরাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, MIT-র ব্রড ইনস্টিটিউট এবং হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্যসাধন করেছেন। (AI Created Viruses)
আরও পড়ুন: ভারতকে শাস্তি দেওয়ার ভাবনা? ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন ট্রাম্প? বিল পাস হল আমেরিকার সেনেটে
গোটা প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, AI ব্যবহার করে হাজার হাজার জিনোম তৈরির কাজে নেমেছিলেন তাঁরা। সেই কাজে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত Phage, অর্থাৎ ব্যাকটিরিয়াকে সংক্রমিত করে তোলা এক ধরনের ভাইরাসকে টেমপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক ভাবে প্রায় ৩০০ জিনোম সংশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে সেগুলির উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে। আর তাতেই ১৬টি কর্মক্ষম ভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট ভাইরাসের তুলনায় কৃত্রিম ভাবে তৈরি ভাইরাসের মিশ্রণ E.coli ব্যাকটিরিয়া ধ্বংসে অধিকতর কার্যকর। হাতেনাতে তার প্রমাণ মিলেছে।
গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, ‘পরিচালিত বিবর্তন এবং যৌক্তিক প্রকৌশলের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করতে পারে কৃত্রিম জিনোমিক্স। দ্রুত চরিত্র বদলকারী রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে অভিযোজনে সক্ষম এবং দীর্ঘস্থায়ী ফেজ থেরাপির পথকে প্রশস্ত করে যেমন, তেমনই আরও বৃহত্তর এবং জটিল জিনোমের কোড তৈরির পথ দেখায়’। ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টোর এবং টরন্টো জেনারেল হসপিটালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আইজ়্যাক বোগোচ Al Jazeera-কে জানান, এই গবেষণা একই সঙ্গে আশা এবং উদ্বেগ জাগায়।
আরও পড়ুন: ফের কি সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে চলেছে পাকিস্তানে? শেহবাজ শরিফকে সরিয়ে সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন আসিম মুনির?
আইজ়্যাকের কথায়, “AI দিয়ে তৈরি ভাইরাসের সাহায্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকারী সংক্রমণের মোকাবিলার পথ খুলে যেতে পারে ঠিকই। কিন্তু একই সঙ্গে AI-এর সাহায্য়ে কার্যকর ভাইরাস তৈরি করা গেলে, তা জৈব-নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ক্ষতিকর রোগজীবাণু তৈরিতে অপব্যবহার হতে পারে এর। তাই এই ধরনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ, তদারকি এবং কঠোর নিরাপত্তা জরুরি।”
এই উদ্বেগের যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ অতি সম্প্রতিই ব্রিটেনের সরকারি পরিচালিত AI নজরদারি সংস্থা জানিয়েছে, Anthropic এবং OpenAI-এর কিছু অত্যাধুনিক মডেল অনুমোদন ছাড়াই, স্বয়ংক্রিয় ভাবে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ব্যক্তি বিশেষ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের সেগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। AI Security Institute জানিয়েছে, Anthropic-এর Claude Mythos 5 অন্যের পরিচয় ভাঁড়িয়ে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে ওপেন সোর্স প্রজেক্টে ক্ষতিকর কোড ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। গত মাসে এ নিয়ে OpenAI এবং Anthropic-ও বিপদের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, কোনও রকম নির্দেশ, অনুমোদন ছাড়াই তাদের কিছু মজেল অনলাইন হ্যাকিংয়ে নেমেছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিকে AI নিয়ে ততটা মাথা না ঘামালেও, দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর বিধিনিষেধ কঠোর করেছেন। জুন মাসে যে নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প, তাতে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক কোনও AI মডেল বাজারে ছাড়ার আগে বাধ্যতামূলক ভাবে সেগুলি মূল্যায়ন করে দেখতে হবে। সেই মতো গড়ে তুলতে হবে পরিকাঠামো। যদিও সেই পদ্ধতির মাপকাঠি কী হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি, যা সমালোচিত হয়।























