Science News: নিউক্লিয়ার মিসাইল ছুড়ে গ্রহাণু গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা, পৃথিবীকে রক্ষা করতে এছাড়া উপায় নেই, বলছেন বিজ্ঞানীরা
Nuking Asteroids: গ্রহাণু আছড়ে পড়ার হাত থেকে পৃথিবীকে কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছেন China Academy of Launch Vehicle Technology-র বিজ্ঞানীরা।

নয়াদিল্লি: গ্রহাণু আছড়ে পড়াতেই ডায়নোসরদের বিলুপ্তি ঘটে। ভবিষ্যতে ফের ওই ঘটনা ঘটলে মানবসভ্যতার বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কা নির্মূল করতে এবার নয়া উপায় বাতলে দিলেন চিনের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, বিপদের আঁচ পেলেই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন মিসাইল ছুড়ে গ্রহাণু উড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। (Nuking Asteroids)
গ্রহাণু আছড়ে পড়ার হাত থেকে পৃথিবীকে কী ভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছেন China Academy of Launch Vehicle Technology-র বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন তাঁরা, তাতেই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে গ্রহাণু উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা। (Science News)
মিসাইল ছুড়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা
ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধাবিত গ্রহাণুকে কক্ষপথ থেকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে চিনের ওই বিজ্ঞানীদের মতে, সাময়িক ঠেলে দূরে সরিয়ে দেওয়ার থেকে গ্রহাণুকে গুঁড়িয়ে দিলে সম্পূর্ণ ভাবে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাঁদের মতে, মিসাইল ছুড়ে গ্রহাণুর মধ্যে বিশেষ ডিভাইস বসিয়ে দিতে হবে, যাতে বিস্ফোরণে একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। Space: Science & Technology জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
কী বলছেন চিনের বিজ্ঞানীরা?
আগামী দিনে পরমাণু অস্ত্র ছুড়ে গ্রহাণু ঠেকানো ছাড়া পথ নেই বলে মনে করছেন চিনের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, পৃথিবীর কাছাকাছি এসে পড়া বৃহদাকার গ্রহাণু অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। একেবারে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগে সেগুলির অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সাময়িক ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বিফল হতে পারে। মানবজাতির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একেবারে গুঁড়িয়ে দেওয়াই শ্রেয় সেক্ষেত্রে।
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, ‘মানবজাতিক ইতিহাসে গ্রহাণু আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীতে। পরিবেশ বদলে গিয়েছে আমূল। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে প্রাণ। মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য গ্রহাণু বিপজ্জনক। তাই এটি গোটা পৃথিবীর জন্যই উদ্বেগজনক বিষয়’।
গ্রহাণু গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে কি?
এর আগে DART অভিযানের আওতায় একটি গ্রহাণুকে কক্ষপথ থেকে ঠেলে সরিয়ে দেয় NASA. চিনের বিজ্ঞানীরা একেবারে ভিতর থেকে গ্রহাণুকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রথমে বিস্ফোরকের সাহায্য়ে গ্রহাণুটির গায়ে গর্ত তৈরি করতে হবে। এর পর ওই গর্তে পরমাণু ডিভাইস বসাতে হবে, যাতে একেবারে অত্যধিক এনার্জি সইতে না পেরে গুঁড়িয়ে যায় সেটি। কম্পিউটার সিমুলেশনে সেকেন্ডে ৬ মাইল গতিসম্পন্ন ৫০ মিটার আয়তনের ভার্চুয়াল গ্রহাণু ধ্বংসের ফলাফলও পেশ করেছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে ৩০০ কিলোটনের বিস্ফোরণ প্রয়োজন। ১০০ মিটার আয়তনের গ্রহাণু ধ্বংস করতে ৩ মেগাটন বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে।
কতটা বিপদ পৃথিবীর?
তবে কম্পিউটার সিমুলেশনে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে কাজটা কঠিন বলে মত বিজ্ঞানীদের একাংশের। তাঁদের মতে, প্রথমে গ্রহাণুর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারদের প্রযুক্তি তৈরি করে উৎক্ষেপণ করতে হবে, মহাকাশে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানাও জরুরি। NASA-র পরিসংখ্যান বলছে, এখনও প্রায় ১৫ হাজারের বেশি গ্রহাণু নজরের বাইরে রয়ে গিয়েছে। আপাতত পৃথিবীর তেমন কোনও বিপদ না থাকলেও, বিপদের জন্য তৈরি থাকা জরুরি।






















