Electromagnetic Space Tiles: মহাকাশে চুম্বকের বাড়ি, এবার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পালা? বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ
Space Architecture: মহাকাশে চুম্বকের বাড়ি তৈরি করা হবে? চৌম্বকীয় টাইলস নিয়ে গবেষণা।

নয়াদিল্লি: পৃথিবীর বাইরে উপনিবেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর সকলে। কিন্তু পৃথিবী থেকে ইঁট-বালি-সিমেন্ট বয়ে নিয়ে গিয়ে বাড়ি বানানো কি আদৌ সম্ভব? মুশকিল আসানে এগিয়ে এলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষক এরিয়েল একব্লাউ। মহাকাশে চুম্বকের বাড়ি বানানোর উপায় বাতলে দিলেন তিনি। (Space Architecture)
এরিয়েল TESSERAE নামের নয়া প্রযুক্তি আবিষ্কার করলেন, যা আপনাআপনি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে সক্ষম চৌম্বকীয় টাইলস। রকেটের ভিতর থরে থরে সাজিয়ে রাখা সম্ভব সেগুলিকে। মহাকাশে পৌঁছে ছেড়ে দিতে হবে। ইলেক্ট্রো-পার্মানেন্ট চুম্বক, ক্যামেরা এবং AI-এর সাহায্য়ে আপনাআপনি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে টাইলসগুলি। আগে থেকে বাড়ির যে আকার নির্ধারণ করা থাকবে, সেই মতোই পরস্পরের সঙ্গে জুড়বে। (Electromagnetic Space Tiles)
আরও পড়ুন: পশুপাখিরা কি মিথ্যে বলতে পারে? গবেষণায় নতুন তথ্য বেরোল
টাইলসগুলি পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে বাড়ির আকার ধারণ করলে, ভিতরে বাতাসের চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে। আর তাতেই ভিতরে বসবাস করা যাবে হেসেখেলে। এরিয়েল বলেন, “নিজে থেকেই কাঠামোয় রূপান্তরিত হবে চৌম্বকীয় টাইলস। যে রকেটে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তার চেয়ে অনেক বড়ই হবে আকারে।”
MIT-তে গবেষণা করার সময়ই এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন এরিয়েল। বর্তমানে Aurelia Institute-এর সিইও তিনি। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাও। মহাকাশে স্থাপত্য নির্মাণের গবেষণায় যুক্ত ওই সংস্থা। ওই টাইলসের মান আরও উন্নত হয়েছে তাদের হাতে। এরিয়েলের দাবি, চৌম্বকীয় টাইলস ব্যবহার করে মহাকাশে বৃহদাকার, জমকালো কাঠামোও গড়ে তোলা সম্ভব, যা এতদিন কল্পবিজ্ঞানের গল্পে পড়েছেন সকলে।
আরও পড়ুন: মোবাইল-কম্পিউটারে RAM থাকবে না? সব দিয়ে দিতে হবে ডেটা সেন্টারকে? OpenAI কর্ণধারের মন্তব্যে তোলপাড়
নয়ের দশকের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন গড়ে তোলা হয় মহাকাশে। রকেটে করে একটি একটি করে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয় পৃথিবীর কক্ষপথে। মহাকাশচারী এবং রোবোটিক আর্মসের সাহায্য়ে গড়ে তোলা হয় গোটা কাঠামো। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ধরনের মহাকাশ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে, যাতে রকেটে বেশি জায়গা দখল না করে নির্মাণসামগ্রী। কাঠামো তৈরিও সহজ হয়।
২০১৬ সালে Bigelow Aerospace মহাকাশে বিশেষ ধরনের কাঠামো পাঠায়, যা ফোলানো যায়। সাত ঘণ্টা ধরে ২৫ বারে অল্প অল্প করে বাতাস ভরে সেটিকে ফোলানো হয়েছিল। আজও আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সেটি। Sierra Space একই ধরনের তিন তলা একটি কাঠামো নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে। Voyager Technologies-এর সঙ্গে যুক্ত Max Space আবার মহাকাশে নতুন ধরনের বাসস্থান গড়তে আগ্রহী। সেখানে থেকে কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সিইও সেলিম মিয়াঁ।
মহাকাশে বাসস্থান গড়ে তোলাকে ঝঞ্ঝাটমুক্ত রাখতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি আবার পৃথিবী থেকে উপকরণ বয়ে নিয়ে যাওয়ার বিপক্ষে। উল্কাপিণ্ডের ধূলিকণা থেকে লেগোর মতো ফাঁপা ইঁট তৈরি করতে চেষ্টাচরিত্র চালাচ্ছে তারা। চিন আবার চাঁদের মাটি দিয়ে ইঁট তৈরি করে বাসস্থান গড়ে তুলতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে গবেষণা চলছে। তবে মহাকাশে ক্ষতিকর বিকিরণ যাতে গায়ে না লাগে, দীর্ঘ সময় যাতে ওই বাসস্থান ব্যবহার করা যায়, তা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা থেকে সৌরপ্যানেল বসানোর লক্ষ্যেও গবেষণা চলছে।
তবে মহাকাশে চৌম্বকীয় টাইলস দিয়ে বাড়ি বানানোর প্রস্তাবটির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে। ২০২০ এবং ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে সেই নিয়ে ছোটখাটো গবেষণাও চালানো হয়। কয়েক ইঞ্চি ছোট টাইলস দিয়ে কাঠামো গড়ে তোলা হয়। এবছর ডিসেম্বর মাসে অথবা আগামী বছর জানুয়ারিতে ক্যামেরা বসানো টাইলস নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হবে। বলের মতো গোলাকার কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা হবে এবার।






















