Quantum Physics Research: আমেরিকায় পর পর নিখোঁজ বিজ্ঞানীরা! অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়া? নাকি... ক্রমশ বাড়ছে রহস্য
Man Vanishes During Quantum Physics Research: রহস্যজনক গবেষণা চলছিল কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে। পর পর নিখোঁজ বিজ্ঞানীরা। বাড়ছে রহস্য।

নয়াদিল্লি: আমেরিকায় পর পর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী। বেশ কয়েক জনের দেহও উদ্ধার হয়েছে। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে আরও একজনের অন্তর্ধান ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে। কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে গবেষণায় যুক্তছিলেন তিনিও। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত HVAC (হিটিং, ভেন্টিলেশন, এয়ার কন্ডিশনিং) টেকশিনিয়ান। পৃথিবী থেকে তিনি Another Dimension বা সমান্তরাল মহাবিশ্বে প্রবেশ করেছেন বলে দাবি। আর সেই নিয়েই পরিস্থিতি সরগরম এই মুহূর্তে।
পর পর নিখোঁজ বিজ্ঞানী
আমেরিকার Los Alamos National Laboratory-তে কর্মরত ছিলেন ৭৮ বছর বয়সি অ্যান্টনি চাভেজ। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে তিনি নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি সমান্তরাল মহাবিশ্বে প্রবেশ করেছেন বলে যে দাবি উঠছে, তা সাম্প্রতিক। আমেরিকার একাধিক তদন্তকারী সংস্থার তথ্য তুলে ধরে সেদেশের সংবাদমাধ্যমই বিষয়টি সামনে এনেছে। জানা গিয়েছে, অ্যান্টনির গাড়ি, ওয়ালেট, সিগারেট এবং ডায়েরিও বাড়িতেই পাওয়া গিয়েছে। শুধু মানুষটি নেই। কার্যত উবে গিয়েছেন।
অ্যান্টনির নিখোঁজ বলে আগেই জানা গিয়েছে। তবে তদন্তমূলক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত লরেন কনলিন সম্প্রতি যে তথ্য় ফাঁস করেছেন, তাতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। লরেন জানিয়েছেন কোয়ান্টম ফিজিক্স নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অ্যান্টনি, যার মাধ্যমে একই সময় দুই জায়গায় উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল।
সন্দেহ ঠিক কোথায়?
Los Angeles Magazine এব্যাপারে কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, অ্যান্টনির গাড়ি,ওয়ালেট, সিগারেট এমনকি ডায়েরিটিও পড়েছিল। শুধু অ্যান্টনিই হাওয়ায় মিলিয়ে যান। কোনও ওয়র্মহোল (Wormhole) তাঁকে টেনে নিয়েছে বলে দাবি উঠতে শুরু করেছে। বাংলায় তর্জমা করে ওয়র্মহোলকে কেউ কেউ কীটগহ্বরও বলেন। পদার্থ বিজ্ঞান এবং কল্পবিজ্ঞানে বার বার এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
মহাবিশ্বে স্থান ও কালের দু’টি অত্যন্ত দূরবর্তী বিন্দুর মধ্যে সংযোগকারী কাল্পনিক সুড়ঙ্গ বা শর্টকাট হিসেবে ধরা হয় ওয়র্মহোলকে। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এবং নেথান রোজেন প্রথম এই গাণিতিক ধারণাটি তুলে ধরেন, যে কারণে ওয়র্মহোলকে ‘আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ’ও বলা হয়। এর মাধ্যমে কোনও যানবাহন ছাড়া, সহজেই এক বিশ্ব থেকে অন্য বিশ্বে স্থানান্তরিত হওয়া সম্ভব বলে প্রচলিত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাস্তবের মাটিতে এর উপস্থিতির সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি যদিও।
কল্পবিজ্ঞান নির্ভর গল্প বা সিনেমার মতো শোনালেও, অ্যান্টনির অন্তর্ধানের নেপথ্যে ওই ওয়র্মহোল তত্ত্বকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন অনেকে। ওয়র্মহোলের মাধ্যমে তিনি মহাবিশ্বের অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছেন বলে দাবি উঠছে। বলা হচ্ছে, নিজের ইচ্ছেয় তিনি ওয়র্মহোলে প্রবেশ করেছেন বা তার মধ্যে পড়ে গিয়েছেন, অথবা তাঁকে টেনে নিয়েছে। কেউ কেউ যদিও গোটা বিষয়টিকে Conspiracy Theory বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মনে করছেন।
কোয়ান্টাম ফিজিক্স কী?
কোয়ান্টাম বলতে শক্তির ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য একককে বোঝানো হয়। পদার্থবিজ্ঞানের যে অংশ পরমাণু এবং তার ভিতরের অতি পারমাণবিক কণা (ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন, ফোটন)-র আচরণ, গতি এবং বৈশিষ্ট্যগুলি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে, তাকেই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান বা কোয়ান্টাম ফিজিক্স বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে গাড়ি, ফুটবল, আপেলের মতো বড় বস্তুগুলি পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু পরমাণু, ইলেক্ট্রন, আলোর কণা ফোটন-যেগুলিকে খালি চোখে দেখা যায় না, সেগুলি পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের আওতায় পড়ে না। তারা একই সঙ্গে কণা এবং তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করতে পারে। একটি ফুটবল একই সঙ্গে দু’টি গোলপোস্টে থাকতে পারে না। কিন্তু কোয়ান্টাম জগতে একটি কণা একই সময়ে, একাধিক জায়গায়, একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে। দু’টি কোয়ান্টাম কণা কোনও ভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে, তাদের পৃথিবীর দুই প্রান্তে রাখা হলেও, পরস্পরের অবস্থা বুঝতে পারে, যাকে Spooky Action at a distance বা দূর থেকে ঘটা ভৌতিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন আইনস্টাইন।
Another Dimension কী?
বাংলায় তর্জমা করে বলা হয় সমান্তরাল বিশ্ব। পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিতের প্রেক্ষাপট থেকে ত্রিমাত্রিক (3D) জগতের বাইরের অতিরিক্ত মাত্রাকে বোঝানো হয়, যাকে বলা হয় Fourth Dimension বা চতুর্থ মহাবিশ্ব অথবা চতুর্থ মাত্রা। কল্পবিজ্ঞানে আবার এর উল্লেখ পাওয়া যায় অদৃশ্য দুনিয়া হিসেবে, যা সমান্তরাল ভাবে আমাদের মহাবিশ্বেরই পাশে অবস্থান ককছে। সমান্তরাল মহাবিশ্বে প্রবেশ করাকে অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়াও বলেন অনেকে।
নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অ্যান্টনি অন্য মহাবিশ্বে হারিয়ে গিয়েছেন বলেই দাবি উঠছে এই মুহূর্তে। বিষয়টি আরও কৌতূহলের উদ্রেক ঘটিয়েছে কারণ তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর পরই Los Alamos National Laboratory-র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট মেলিসা কাসিয়াস নিখোঁজ হয়ে যান। চলতি বছরের গোড়ায় নিউ মেক্সিকো জাতীয় উদ্যান থেকে তাঁর দেহাংশ উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় একটি হ্যান্ডগান। তিনি আমেরিকার পরমাণু রকেট গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত, Air Force Laboratory কম্যান্ডাক নিল ম্যাককাসল্যান্ডও এবছর নিখোঁজ হয়ে যান।























