Asia Cup 2025: জলে গেল জাকের, শামিমের লড়াই, দুরন্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে দুরমুশ করল শ্রীলঙ্কা
Pathum Nissanka: মাত্র তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটার হিসাবে এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই হাজার রানের গণ্ডি পার করে ফেললেন পাথুম নিসাঙ্কা।

আবু ধাবি: মাত্র ৫৩ রানেই আধা দল সাজঘরে ফিরে গিয়েছিল। তারপরে জাকের আলি ও শামিম হোসেন বাংলাদেশের হয়ে দুরন্ত লড়াই করেন। তবে তাতে লাভের লাভ কিছু হল না। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর পাথুম নিসাঙ্কার (Pathum Nissanka) অর্ধশতরান ও কামিল মিশারার অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৩২ বল বাকি থাকতেই ছয় উইকেটে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) অভিযান শুরু করল শ্রীলঙ্কা (BAN vs SL)।
এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চরিথ আসালঙ্কা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে নতুন বল হাতে আগুন ঝরান লঙ্কান বোলাররা। বাংলাদেশ খাতা খোলার আগেই তানজিদকে উইকেট ভাঙেন নুয়ান থুসারা ও পারভেজ হোসেন ঈমনকে আউট করেন দুষ্মন্ত চামিরা। এই প্রথমবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনও টেস্ট খেলা দেশ খাতা খোলার আগেই জোড়া উইকেট হারাল। তৌহিদ হৃদয় রান আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। হাসারাঙ্গার স্পিনভেল্কিতে নয় রানে মাহেদি হাসান আউট হলে ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে ওপার বাংলার দল। দলের হয়ে খানিকটা লড়াই করা অধিনায়ক লিটন দাস যখন হাসারাঙ্গার শিকার হন, তখন স্কোর ৫৩।
৫০ রানের গণ্ডি পার করেই আধা দল সাজঘরে ফেরায় দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি সমর্থকরা। তবে তাঁদের আস্থা জোগান জাকের আলি ও শামিম হোসেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুইজনে রেকর্ড অপরাজিত ৮৬ রানের পার্টনারশিপে দলকে সম্মানজনক ১৩৯ রান তুলতে সাহায্য করেন। জাকের ৪১ ও শামিম ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাও যে দারুণভাবে শুরু করেছিল, তেমনটা নয়। শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে প্রথাগত ছক ভেঙে নতুন বল দেওয়া হয়েছিল মুস্তাফিজুরের হাতে। তিনি হতাশ করেননি। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র তিন রানে শ্রীলঙ্কার ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরত পাঠান ফিজ়। দ্বীপরাষ্ট্রের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত। চতুর্থ ওভারে শরিফুলের বলে কামিল মিশারা ক্যাচ তুলেছিলেন। তবে মিড অনে মাহেদি তা তালুবন্দি করতে পারেননি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর খেসারত দেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ। ওই ওভারেই মিশারা তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান। পাওয়ার প্লে শেষের আগেই শ্রীলঙ্কা ৫০ রানের গণ্ডি পার করে যায়।
সম্প্রতি সব ফর্ম্যাটেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন নিসাঙ্কা। লঙ্কান ওপেনার ৩১ বলে অর্ধশতরান পূরণ করে সেই ফর্ম অব্যাহত রাখেন। পাশাপাশি মাত্র তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটার হিসাবে এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই হাজার রানের গণ্ডি পার করে ফেলেন তিনি। তবে ঠিক তারপরেই মাহেদির বলে বড় মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। তাঁর বলে মাহেদি ক্যাচ মিস করলেও, শরিফুল তেমনটা করেননি। অবশ্য ততক্ষণে ৯৫ রানের পার্টনারশিপে লঙ্কানরা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেই গিয়েছিল। শেষের দিকে কয়েকটি উইকেট পরলেও, অধিনায়ক আসালঙ্কা মিশারার সঙ্গে মিলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।




















