Bengal vs Haryana: ৮৫ অল আউট! বাংলার লজ্জার হার, রঞ্জি ট্রফির নক আউটের স্বপ্ন কার্যত শেষ বাংলার
BCCI: ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্টে আটকে রইল বাংলা। ৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল হরিয়ানা। এখান থেকে নক আউটে পৌঁছতে গেলে অলৌকিকের অপেক্ষায় থাকতে হবে বাংলা শিবিরকে।

সন্দীপ সরকার, কল্যাণী: রঞ্জি ট্রফি (Ranji Trophy) আসে, রঞ্জি ট্রফি যায়। বাংলা ক্রিকেটের লজ্জার ছবিটা বদলায় না। ফের এক মরশুম হতাশাই সঙ্গী হল বঙ্গ ক্রিকেটের। হরিয়ানার বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন লড়াই ছিল অনুষ্টুপ মজুমদারদের। সেখানে মরিয়া মনোভাব তো দূর অস্ত, লজ্জার আত্মসমর্পণ করল বাংলা। কল্যাণীতে বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে হরিয়ানার কাছে ২৮৩ রানে হেরে গেল বাংলা। সেই সঙ্গে কার্যত নিভে গেল বাংলার নক আউটে যাওয়ার স্বপ্নও।
৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্টে আটকে রইল বাংলা। ৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল হরিয়ানা। এখান থেকে নক আউটে পৌঁছতে গেলে অলৌকিকের অপেক্ষায় থাকতে হবে বাংলা শিবিরকে। শেষ ম্যাচে পাঞ্জাবকে হারাতেই হবে। সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের ফলের দিকেও।
বাংলা শিবিরকে সবচেয়ে বেশি লজ্জায় ফেলবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স। ম্যাচ জেতার জন্য লক্ষ্য ছিল ৩৬৯ রানের। মাঠে খেলা দেখতে আসা শ খানেক জনতা ভেবেছিলেন, বাংলা অন্তত লড়াই করবে। ২৬ জানুয়ারি, রবিবার ম্যাচের শেষ দিন। সেদিন সকালে বাংলার লড়াই দেখতে আসার পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছিলেন অনেকে।
তখনও কেউ ভাবতেও পারেননি যে, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৮৫ রানে শেষ হয়ে যাবে বাংলা। মাত্র ২১.৪ ওভারে গুটিয়ে যাবে গোটা একটা ইনিংস! রঞ্জি ট্রফিতে যেটা বাংলার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। অল্পের জন্য সর্বকালীন লজ্জা এড়াতে পারল বাংলা। ২০১৬ সালে রোহতকে বঢোদরার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল বাংলা। সেটাই রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার সর্বনিম্ন স্কোর। তারপরই শনিবার কল্যাণীতে ৮৫ অল আউটের লজ্জার নজির।
বাংলা শিবিরে শোনা গেল আরও এক গল্প। ৬৫ রানে ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যখন মুকেশ কুমার ব্যাট করতে নামছেন, তাঁকে নাকি বলা হয়, যে করে হোক ১২টা রান করতেই হবে। যাতে ৭৬ রানের লজ্জা এড়ানো যায়। বাংলা শিবিরের কঙ্কালসার ছবিটা যে কথোপকথন শুনলেই বোঝা যায়।
কেন এই বিপর্যয়? বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর মুখে গতানুগতিক কথা। বলছেন, 'বিহার ম্যাচটা মাঠ ভিজে থাকায় ভেস্তে গিয়েছিল। ওই ম্যাচ থেকে সাত পয়েন্ট পেতে পারতাম। উত্তর প্রদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে আম্পায়ারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল। তা না হলে ছবিটা অন্য হতে পারত।'
বিহার ম্যাচে মাঠ ঢাকতে ব্যর্থ হয়েছিল সিএবি। অভিযোগ, সিএবি কর্তারা এখন ক্রিকেট নিয়ে কম, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বেশি চিন্তিত। সঙ্গে ক্রিরেটারদের চোট-আঘাত, কয়েকজনের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, নানা অন্তরায়। তবু, সব মেনে নিয়েও ৮৫ অল আউটের ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: হুইলচেয়ারে চেপে মাঠে, সৌরভ ভক্ত বিক্রমের স্বপ্ন লর্ডসে ক্রিকেট ম্যাচ দেখার
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
