Bengal Cricket: নির্বাসিত হবেন ৪ ক্রিকেটার! ইডেনে লিগ ফাইনালে ঝামেলার জেরে ফর্ম্যাট বদলের ভাবনা
First Division League: জানা গেল, আচরণবিধির লেভেল থ্রি ভাঙা হলে তার জন্য কোনও বৈঠক ডাকারই প্রয়োজন পড়ে না। সরাসরি শাস্তি ঘোষণা করে দেওয়া যায়।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: এমন বেনজির কাণ্ডের জন্য তৈরি ছিল না সিএবি! কর্তারাও অসহায় বোধ করছেন।
সিএবি (CAB) আয়োজিত প্রথম ডিভিশনের লিগ ফাইনালে গত পাঁচদিন ধরে ক্রিকেটের নন্দনকানন নামে পরিচিত ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) যা ঘটে গিয়েছে, ইতিহাস হাতড়েও সেরকম কোনও ঘটনা মনে করতে পারছেন না কেউই। ইস্টবেঙ্গল বনাম ভবানীপুরের বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনাল অমীমাংসিত থেকেছে। দুটি দলের অন্তত একটি করে ইনিংস শেষ না হওয়ায় যুগ্মজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও ভবানীপুর - দুই ক্লাবকেই।
যে ম্যাচ যতটা না বৃষ্টিবিঘ্নিত, তার চেয়ে অনেক বেশি বিঘ্ন ঘটিয়েছেন দুই শিবিরের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা। একটি আউটকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডা এমন জায়গায় গড়িয়েছিল যে, ম্যাচের দ্বিতীয় দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ থাকে। সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধেও কাজ হয়নি। শেষে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে ম্যাচ শুরু হয়। তবে ক্রিকেটের স্পিরিট মেনে খেলা হয়নি। ম্যাচের তৃতীয় দিন ১ ঘণ্টায় মাত্র ৩ ওভার বল করে বিতর্ক বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার, ম্যাচের শেষ দিন তো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই শিবিরের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা।
গোটা ঘটনায় মুখ পুড়েছে সিএবি-র। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে এমন প্রহসন কী করে হল এবং হতে দেওয়া হল, দুই প্রশ্নই উঠছে জোরালভাবে। প্রশ্ন উঠছে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নীতীশরঞ্জন দত্ত (অনু)-র ভূমিকা নিয়েও। বলা হচ্ছে, ম্যাচের শুরুর দিকে শহরেই ছিলেন না তিনি। শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন। ফলে যে কাজ তাঁর করা উচিত, সেটা সামলাতে আসরে নামতে হয়েছিল এমনকী সৌরভকে!
আপাতত ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করেছে সিএবি। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে শনিবার, ৭ জুন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একটি বৈঠক ডেকেছে টুর্নামেন্ট কমিটি। সেই বৈঠকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার, অবজার্ভারদের পাশাপাশি ডাকা হয়েছে ট্যুর অ্যান্ড ফিক্সচার কমিটি, আম্পায়ার্স কমিটি এবং ট্যুর ও ফিক্সচার কমিটির প্রধানদের। সঙ্গে সিএবি-র পদাধিকারীরা থাকবেন। শোনা গেল, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আম্পায়ার ও অবজার্ভাররা ইতিমধ্যেই বিস্তারিত ও বিস্ফোরক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন সিএবি-তে। এরপরেও বিস্তারিত ঘটনা শোনা হবে তাঁদের মুখে।
শোনা গেল, ইস্টবেঙ্গল ও ভবানীপুর - দুই ক্লাবের চার ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই চার ক্রিকেটার হলেন - সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল, শাকির হাবিব গাঁধী, ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায় ও আকাশ ঘটক। চার ক্রিকেটার নিজেদের দোষ কবুল করে নিয়েছেন। চার ক্রিকেটারকে সর্বনিম্ন ৩টি ও সর্বোচ্চ ৬টি ম্যাচ নির্বাসিত করা হতে পারে। তবে বেঙ্গল প্রো টি-২০ খেলতে কোনও সমস্যা নেই। এই নির্বাসন বহাল হবে লিগ ও রঞ্জি ট্রফির ক্ষেত্রে। তবে আলোচনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি না-ও হতে পারে।
জানা গেল, আচরণবিধির লেভেল থ্রি ভাঙা হলে তার জন্য কোনও বৈঠক ডাকারই প্রয়োজন পড়ে না। সরাসরি শাস্তি ঘোষণা করে দেওয়া যায়। তারপরেও কেন শনিবার বৈঠক ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কেন দুই ক্লাবকে শাস্তি দেওয়া হবে না, শুধু ক্রিকেটারদের নির্বাসিত করা হবে, তা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন, সামনেই নির্বাচন থাকায় ক্লাবগুলিকে চটানোর রাস্তায় যাচ্ছে না সিএবি। যদিও বঙ্গ ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে কলুষিত করার দায়ে কেন ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করা হবে না, কৌতূহলী অনেকেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করার অভিযোগ ওঠার পর ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে বলা হয়েছিল, লিগ ফাইনালে কোনও ওভার লিমিট নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি রান ছাড়া আর কোনও ব্যবস্তা নেওয়া যাবে না। সিএবি-তে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এক্ষেত্রে পেনাল্টি রান দেওয়া হলেও ম্যাচের ফয়সালা হওয়ার ক্ষেত্রে তা কোনও ভূমিকা নিত না। কারণ, ম্যাচের একটি করে ইনিংসও শেষ হয়নি।
আর এই পরিস্থিতি যাতে ভবিষ্যতে না হয়, তার জন্য লিগ ফাইনালের ফর্ম্যাট বদলের চিন্তাভাবনা ঘোরাফেরা করছে সিএবি-তে। লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ হয় ১২৫ ওভারের। তিনদিন ধরে চলে খেলা। ২০১৬ সাল থেকে লিগ ফাইনাল গোলাপি বলে ও পাঁচদিনের করা হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল-ভবানীপুর ম্যাচে ঝামেলার পর শোনা গেল আলোচনা শুরু হয়েছে, পরের মরশুম থেকে লিগ ফাইনাল তিনদিনের করে দিয়ে ওভার সংখ্যা বেঁধে দেওয়া যায় কি না। যাতে প্রথম ইনিংসের লিড ও ম্যাচের ফয়সালা নিশ্চিত করা যায়।
ময়দান আর স্থানীয় ক্রিকেটে প্রহসন দেখতে চায় না।




















