IND vs BAN: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২২ গজে কি আর খেলবে না ভারত? কী সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই?
IND vs BAN Series: গত আগস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফর ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে গিয়েছিল ২০২৬ এর আগস্ট পর্যন্ত। এখন বিসিসআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সিরিজ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

মুম্বই: ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের সমীকরণ একেবারেই সুখকর নয়। তার ওপর ভিত্তি করেই মুস্তাফিজুর রহমনকে আইপিএলে খেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেকেআরও বাংলাদেশের তারকা পেসারকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। শুধু তাইই নয়, আগামী বছর হতে চলা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।
গত আগস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফর ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে গিয়েছিল ২০২৬ এর আগস্ট পর্যন্ত। এখন বিসিসআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সিরিজ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। বিসিসিআইয়ের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তা জানিয়েছেন, ''আমরা গত বছরও বাংলাদেশ সফরে যাইনি। বিসিবির কোনও ইস্যু ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে তাদের সূচি অনুযায়ী খেলবে।''
এদিকে, মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ের সিদ্ধান্তে খুশি নন ভারতের প্রাক্তন সেনাকর্তা দেবাশিস দাস। ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাশ বলেছেন, 'এটা একটা তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া। খেলার জগতে, শিল্পের জগতে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তবে এটা নতুন নয়। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার ২২টি দেশ অলিম্পিক্স বয়কট করেছিল। ১৯৮০ সালে আমেরিকা বয়কট করেছিল মস্কো অলিম্পিক্স। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স রাশিয়া বয়কট করে। এটা চলে যে খেলা আর রাজনীতি মিলে যায়।'
এরপরই তাঁর প্রশ্ন, 'আমি বুঝতে পারছি না এদের কোনও নীতি কেন নেই? তাহলে পাকিস্তানের কাছে আমরা দুবাইয়ে বিশ্বকাপটা কেন খেললাম? এশিয়া কাপে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করেছিল কিছু পাকিস্তানি ক্রিকেটার কিন্তু এখনও সম্পর্ক রেখে চলেছি আমরা। বাংলাদেশে যে হিন্দু নিপীড়ন চলছে, তাতে ও দেশের খেলোয়াড়কে নেওয়াটা বিশ্বাসঘাতকতা বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সেই নিরিখে দেখা হলে আমাদের যে বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশে গিয়েছিলেন শোকজ্ঞাপন করতে, সেটাও তো বিশ্বাসঘাতকতা। তাহলে কেন শুধু খেলোয়াড় কিংবা শিল্পীদের ওপর কোপ কেন আসে? এটা নীতি হওয়া উচিত। আজকে জনগণ বলছে কেন বাংলাদেশের খেলোয়াড় নিলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বারণ করে দেওয়া হল। কাল যদি জনগণ বলে বিদেশমন্ত্রীকে যেতে দেওয়া হবে না, তাকেও বারণ করা হবে! এভাবে দেশ চলবে!'
দেবাশিস দাস আরও বলেছেন, 'তবে বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, লুঠ, ধর্ষণ, খুন, মন্দির ধ্বংস' চলছে, যেটাকে বাংলাদেশ ছোট করে দেখাতে চাইছে, এগুলোকেও কমাতে হবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সর্বেসর্বা, তার রাজনৈতিক যোগাযোগও আছে আমরা জানি, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে। ভারত দায়িত্বশীল দেশ। এ ব্যাপারে একটা দীর্ঘকালীন নীতি থাকা উচিত। হয় আমরা খেলব, না হলে খেলব না।'



















