Ranji Trophy: উপেক্ষার জবাব দিতে ফুটছে বাংলার ত্রয়ী, রঞ্জি অভিযানের শুরুতেই ইডেনে বিস্ফোরণের অপেক্ষা
Eden Gardens: বুধবার প্রতিপক্ষ উত্তরাখণ্ড। চার পেসার - শামি, আকাশ, সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল ও ঈশান পোড়েল এবং এক স্পিনার - বিশাল ভাটিকে নিয়ে ইডেনে সরাসরি জয়ের অঙ্ক কষছে বাংলা।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্স (Eden Gardens) চত্বরে গত কয়েকদিন ধরে যেন ঘোরাফেরা করছে বঞ্চনা আর উপেক্ষার বিভিন্ন ছবির কোলাজ।
মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। ভারতের অন্যতম সেরা ফাস্টবোলার। যশপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) যদি ভারতীয় পেস বোলিংয়ের দ্রোণাচার্য হন, তাহলে শামি পিতামহ ভীষ্ম তো বটেই। গত ওয়ান ডে বিশ্বকাপে শুরুর দিকে প্রথম একাদশেই রাখা হয়নি। দলে ফিরেই বিশ্বকাপে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য। অথচ সেই শামিকেই নাকি ব্রাত্যজনের দলে ফেলে দেওয়া হয়েছে! চোট পেয়েছিলেন। এখন ফিট। আর নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর বলছেন, শামিকে নিয়ে কোনও আপডেট নেই আমাদের কাছে!
আকাশ দীপ। ইংল্যান্ডে ভারতীয় দল যে নাটকীয় টেস্ট সিরিজ ড্র করে ফিরেছে, তার অন্যতম কারিগর। বার্মিংহামে বল হাতে ১০ উইকেট। ওভালে ব্যাটে লড়াকু হাফসেঞ্চুরি। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ কিংবা অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ান ডে, টি-২০ - কোনও দলেই নেই।
অভিমন্যু ঈশ্বরণ। ২০২১ সাল থেকে ভারতীয় দলের সঙ্গে ঘুরছেন। টেস্টে তাঁর পরে দলে সুযোগ পাওয়া একের পর এক ক্রিকেটারের অভিষেক হয়ে গিয়েছে। আর অভিমন্যু জল বয়ে গিয়েছেন বছরের পর বছর। বড় জোর ফিল্ডিং করতে নামানো হয়েছে কেউ চোট পেলে। টেস্ট ক্যাপ মাথায় ওঠেনি। তারপর তো ছেঁটেই ফেলা হয়েছে দল থেকে।
সব বঞ্চনার জবাব দেওয়ার জন্য ত্রয়ী কোমর বাঁধছেন। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট মঞ্চ দিচ্ছে না, বা কেড়ে নিচ্ছে। তবে বাংলা দল রয়েছে তো। বাংলার জার্সিতে রঞ্জি ট্রফিতে নিজেদের উজার করে দিতে চান প্রত্যেকে। সঙ্গে স্বপ্ন, ৩৬ বছরের শূন্যতা মেটানো। ৩৬ বছর পর বাংলাকে রঞ্জি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন করা। ১৯৮৯-৯০ মরশুমের পর যে ট্রফির কাছাকাছি গিয়েও বারবার রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলা দলকে। বাংলা দল তাই রিং টোন সেট করে নিচ্ছে, নাও অর নেভার...
উপেক্ষার জবাব দেওয়ার জন্য ছেলেরা যে ছটফট করছেন, সেই নির্যাস পাওয়া গেল কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লর গলায়। বলছিলেন, 'ভারতীয় দলে যারা খেলেছে, বাংলার হয়ে খেলেই তাদের উত্থান। এখানে আবার সবাই শূন্য থেকে শুরু করছে। নিজেদের ফের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবে।'
শামি অবশ্য ফুঁসছেন। সটান বলে দিয়েছেন, 'আমি ফিট কি না সেই আপডেট নির্বাচক কমিটিকে জানানো আমার কাজ নয়। তাদের তো খোঁজ নিতে হবে!'
সহযোদ্ধা আকাশ দীপ দিদির ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে মাঠের বাইরে বিব্রত। কেমোথেরাপি করিয়ে যোগ দিয়েছেন বাংলা শিবিরে। তবে মাঠে নেমে ফের জ্বলে উঠতে মরিয়া। মনে করিয়ে দিলেন, 'শামি ভাইয়ের সঙ্গে কখনও বাংলার জার্সিতে একসঙ্গে ম্যাচ খেলিনি। মুখিয়ে রয়েছি একসঙ্গে বল করার জন্য।'
অভিমন্যু অবশ্য শান্ত থাকার চেষ্টা করছেন। এবার ফের বাংলার অধিনায়ক হয়েছেন। বলছিলেন, 'আমি ছেলেদের বলেছি, বেশি জটিল করে কিছু ভেবো না। সব কিছু সহজ সরল রাখো। ক্রিকেট উপভোগ করো। তাহলেই হবে।'
বুধবার প্রতিপক্ষ উত্তরাখণ্ড। চার পেসার - শামি, আকাশ, সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল ও ঈশান পোড়েল এবং এক স্পিনার - বিশাল ভাটিকে নিয়ে ইডেনে সরাসরি জয়ের অঙ্ক কষছে বাংলা। শিবিরে যে পরিমাণ বারুদ জমা হয়েছে, বুধবার থেকেই বিস্ফোরণ শুরু হল বলে। অজিত আগরকররা নজর রাখুন...




















