Viral Sports Story: সচিনকে চোখ রাঙিয়ে কেরিয়ারই শেষ হয়েছিল, দেশছাড়া হওয়া ওলোঙ্গা লড়ছেন জীবনযুদ্ধে
Henry Olonga: ১৯৯৮ সালে শারজায় আয়োজিত কোকাকোলা কাপের ফাইনালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৯২ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস খেলছিলেন সচিন তেন্ডুলতকর।

হারারে: নব্বইয়ের দশকের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই নামটি ভীষণভাবে পরিচিত। হেনরি ওলোঙ্গা। খয়েরি লম্বা লম্বা চুলের কৃষ্ণাঙ্গ এক জিম্বাবোয়েন পেসার। একটি টুর্নামেন্টে ধুমধারাক্কা ব্যাটিং তাণ্ডবে যাঁর বলের লাইন, লেংথ সব বিগড়ে দিয়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। মাস্টার ব্লাস্টারকে আউট করার পর বাজেভাবে স্লেজিং করার পরিণাম কী হয়েছিল, তা বোধহয় খুব ভাল মতই টের পেয়েছিলেন ওলোঙ্গা।
১৯৯৮ সালে শারজায় আয়োজিত কোকাকোলা কাপের ফাইনালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৯২ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস খেলছিলেন সচিন তেন্ডুলতকর। ম্য়াচেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত ১০ উইকেট। ম্য়াচে ৬ ওভারে ৫০ রান খরচ করেছিলেন ওলোঙ্গা। সেই টুর্নামেন্টেই দু দিন আগে বাউন্সারে সচিনকে আউট করে ওলোঙ্গার অদ্ভুত সেলিব্রেশন ভাইরাল হয়েছিল। যা মেনে নিতে পারেননি সচিন। অবশেষে ফাইনাল ওলোঙ্গাকেই বারবার ব্যাট হাতে আক্রমণ করেন সচিন। বাকিটা তো ইতিহাস।
সেই ওলোঙ্গার জীবন কিন্তু একেবারেই অন্য খাতে বয়েছিল এরপর থেকে। কেরিয়ার গ্রাফ নীচের দিকে নামা, ব্যর্থতার তালিকা লম্বা হওয়ার পাশাপাশি জিম্বাবোয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিতে হয়েছিল এই প্রাক্তন পেসারকে। ২০০৩ বিশ্বকাপে "death of democracy" বলে একটু মুভমেন্টের হয়ে সোচ্চার করে মৃত্যু হুমকি পেয়েছিলেন ওলোঙ্গা। অগত্যা দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ক্রিকেটকে আর বয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। বল ছেড়ে গান গাওয়া শুরু করেন। স্কুলজীবন থেকেই গান ভালবাসতেন। ২০১৯ সালে 'ভয়েস অফ অস্ট্রেলিয়া' নামের একটি রিয়্যালিটি শোয়ে। সেখানেই জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের গল্প শুনিয়েছিলেন ওলোঙ্গা। অস্ট্রেলিয়া পেট চালানোর জন্য গান গাওয়া শুরু করেছিলেন ছোট ছোট বারে। কখনও ক্রুজে তো কখনও কোনও গ্রামের স্কুলে বাচ্চাদের শোনাতেন গান।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক খবরে জানা গিয়েছিল যে প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি জিম্বাবোয়েতে ফিরতে পারেননি। জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রবার্ট মুগাবের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। তার জন্যই দেশ ছাড়তে হয়েছিল। বুলাওয়াওতে থাকা বৃদ্ধ বাবাকে দেখেননি ২০ বছর ধরে। ওলোঙ্গা জানিয়েছিলেন, ''গান ভালবাসতাম। তাই গান গাই। এই নিয়ে আমার কোনও ইগো নেই। অনেকরকম চাকরি করেছিলাম আমি। নৌকা পরিষ্কারের কাজও করেছি। মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কখনও মোটিভেশনাল কথাও শোনাতাম।''
২০১৯ সালে মুগাবের মৃত্যুর পর দেশে ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অ্য়াডিলেডেই তিনি স্থায়ীভাবে বাস শুরু করেছেন। সেখানেই স্ত্রী-কে নিয়ে থাকেন একসময়ে জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটের অন্য়তম সেরা পেসার।




















