WTC Final 2025: 'চোকার্স' তকমা ঘুচিয়ে ২৭ বছর পর আইসিসি খেতাব, অজিদের হারিয়ে টেস্টের সেরার সেরা দক্ষিণ আফ্রিকা
SA vs AUS: শুধু কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা বাকি ছিল। বাকি ছিল ৬৯ রান। হাতে ছিল আট উইকেট। চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করতে নেমে বাভুমা ফিরলেও মারক্রাম অপরাজিত থেকেই দলকে ম্য়াচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন।

লন্ডন: দেওয়াল লিখনটা গতকাল শুক্রবারই লেখা হয়ে গিয়েছিল। বল হাতে রাবাডার ভয়ঙ্কর স্পেলের পর ব্যাট হাতে মারক্রামের শতরান। যোগ্য সঙ্গে দিয়েছিলেন তেম্বা বাভুমা। তাও আবার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে লড়াই করে গিয়েছিলেন প্রায় ৩ ঘণ্টার মত টানা। শুধু কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা বাকি ছিল। বাকি ছিল ৬৯ রান। হাতে ছিল আট উইকেট। চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করতে নেমে বাভুমা ফিরলেও মারক্রাম দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়লেন। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতালেনই না, ২৭ বছর পর প্রোটিয়া শিবির কোনও আইসিসি ট্রফি ঘরে তুলল। ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।
১৯৯৮ সালের পর আর কখনও আইসিসি ট্রফি জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন যা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, তা তখন পরিচিত ছিল আইসিসি নক আউট ট্রফি নামে। সেই টুর্নামেন্টেই খেতাব জিতেছিল প্রোটিয়া বাহিনী। এর পর থেকে কখনও কোনও আইসিসি টুর্নামেন্টেই খেতাব ঘরে তুলতে পারেনি তারা। ২০১৫ সেমিতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, ২০২৩ বিশ্বকাপে সেমিতে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হয়। কিন্তু এবার সেই অধরা মাধুরী ঘরে তুলল প্রোটিয়া শিবির।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া বোর্ডে তুলেছিল ২১২ রান। বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন কাগিসো রাবাডা। ৩ উইকেট নিয়েছিলেন মার্কো ইয়েনসেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়া শিবির মাত্র ১৩৮ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল। ৭৪ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একটা সময় ৭৩ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল অজি শিবির। কিন্তু সেখান থেকে দলকে দুশোর গণ্ডি পার করিয়ে দেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। লোয়ার অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন অ্য়ালেক্স ক্যারি। প্রোটিয়াদের সামনে জয়ের জন্য় লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয় ২৮২ রানের।
মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, নাথান লিঁয়র মত তারকা বোলারদের সামনে এই রান তুলে নেওয়াটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিংই ছিল প্রোটিয়া শিবিরের সামনে। তার মধ্য়ে রিয়ান রিকেলটন দলীয় ৯ রানের মধ্য়ে আউট হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই হয়ত ভেবেছিলেন এবারও চোকার্স তকমাই থেকে যাবে। তবে চতুর্থ উইকেটে দলের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ও সহ অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। তেম্বা হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও অনবদ্য লড়াকু অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে মারক্রাম তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের অষ্টম শতরান হাঁকিয়ে ফেলেন। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল। তখন দলের অধিনায়ক ছিলেন মারক্রাম। হতাশায় মুখ ঢেকেছিলেন। এদিন নিজে ব্যাট হাতে ১৩৬ রানের ইনিংস খেললেন। প্রোটিয়া ব্যাটার নিজেও হয়ত কেরিয়ারের সেরা ইনিংসই বেছে নেবেন এই ইনিংসকে।




















