FIFA World Cup 2026: মহাকাশে ফিফা বিশ্বকাপের ফুটবল! ‘Trionda’ নিয়ে কেন গবেষণা করছে NASA?
Trionda: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল, যার নাম ‘Trionda’ (ট্রাইওন্ডা), সেটিকে এবার পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। কিন্তু কেন?

কলকাতা: ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) মানেই টানটান উত্তেজনা। আর চলতি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার পৌঁছে গেল একেবারে মহাকাশে! ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল, যার নাম ‘Trionda’ (ট্রাইওন্ডা), সেটিকে এবার পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। কিন্তু কেন? ফুটবল নিয়ে মহাকাশে কী করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা?
স্পোর্টস ইঞ্জিনিয়ারিং ও মহাকাশ বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই উদ্যোগে। নাসা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল মহাকাশে গিয়েছে। ফুটবল যাতে মাঠে নিখুঁত এবং অনুমানযোগ্যভাবে নড়াচড়া করতে পারে, তার জন্য স্পোর্টস ইঞ্জিনিয়াররা এর ‘সেন্টার অফ মাস’ বা ভরকেন্দ্র এবং ব্যালেন্স অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করেন। আর এই ভারসাম্য পরীক্ষা করতেই বলটিকে পাঠানো হয়েছে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে বা মাইক্রোগ্রাভিটিতে।
আসলে, ২০১৯ সালেই নাসা এবং আইএসএস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি যৌথভাবে একটি গবেষণা করেছিল। সেখানে দেখা হয়েছিল, ফুটবলের ভেতরের ভর বা উপাদান কীভাবে এর গতি, স্থায়িত্ব এবং ঘূর্ণনকে প্রভাবিত করে। আর এই ২০২৬ সালে মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীরা সেই ২০১৯ সালের পরীক্ষারই পুনরাবৃত্তি করলেন এই নতুন ‘ট্রাইওন্ডা’ বলটি দিয়ে।
কিন্তু এই পরীক্ষার লাভ কী? নাসা জানিয়েছে, ফুটবলের ভেতরে এখন যেসব আধুনিক প্রযুক্তি বা সেন্সর ব্যবহার করা হয়, সেগুলো বলের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলে, তা বুঝতে সাহায্য করেছে এই গবেষণা। আর এই মহাকাশ বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের বল। মহাকাশের ফিজিক্স কীভাবে পৃথিবীর বুকে ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ বা ফুটবলকে আরও নিখুঁত করে তুলছে, এটি তারই এক দারুণ উদাহরণ।
বলটির ডিজাইনেও রয়েছে চমক। স্প্যানিশ শব্দ ‘Trionda’-র অর্থ হল ‘তিনটি তরঙ্গ’ বা ‘Three Waves’। এই ফুটবলে থাকা লাল, সবুজ এবং নীল রঙের চমৎকার ডিজাইনটি তৈরি হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে। বলটির গায়ে কানাডার ম্যাপেল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং আমেরিকার স্টার বা তারার নকশা রয়েছে। আর সোনালি রঙের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির সম্মানে।
ফিফা জানিয়েছে, এই বলটিতে রয়েছে মাত্র চারটি প্যানেল এবং এর গভীর সেলাইগুলো বাতাসে বলের গতিকে একদম স্থিতিশীল রাখে। এমনকি বৃষ্টি বা আর্দ্র আবহাওয়াতেও যাতে ফুটবলাররা সহজে ড্রিবলিং বা শট নিতে পারেন, তার জন্য বলের গায়ে বিশেষ এমবসড আইকন দেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয়, বলের ভেতরে থাকা একটি অত্যাধুনিক ৫০০ হার্টজের (500Hz) মোশন সেন্সর চিপ, যা রিয়েল-টাইমে ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা VAR সিস্টেমে নিখুঁত ডেটা পাঠাতে পারে। ফলে অফসাইডের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া রেফারিদের জন্য অনেক সহজ হচ্ছে।






















