Mohun Bagan Supergiant: মরশুমে দুটো ট্রফি ঝুলিতে, এটাই কি মোহনবাগানের সেরা দল?
Mohun Bagan: অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড জুটি দিমিত্রিয়স পেট্রাটস ও জেসন কামিংসের সঙ্গে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার আর এক নামী ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন এবং স্কটিশ মিডফিল্ডার গ্রেগ স্টুয়ার্ট।

কলকাতা: ইন্ডিয়ান সুপার লিগে তাদের পঞ্চম মরশুমকে স্বপ্নের মরশুম বললেও বিন্দুমাত্র ভুল বলা হবে না বোধহয়। এমন আধিপত্য ও দাপটের সঙ্গে এর আগে কেউ কখনও মরশুম করতে পারেনি আইএসএলের ১১ মরশুমের ইতিহাসে। প্লে-অফেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যে ভাবে জোড়া খেতাব জয় করে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল যারা, তাদের সম্পর্কে এ কথা বলা যেতেই পারে।
এ মরশুমের আগে ঢেলে দল সাজায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। চার নতুন বিদেশি আসেন দলে। অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড জুটি দিমিত্রিয়স পেট্রাটস ও জেসন কামিংসের সঙ্গে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার আর এক নামী ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন এবং স্কটিশ মিডফিল্ডার গ্রেগ স্টুয়ার্ট। স্প্যানিশ সেন্টার ব্যাক আলবার্তো রড্রিগেজকে সই করায় তারা। অভিজ্ঞ স্কটিশ ডিফেন্ডার টম অলড্রেডও যোগ দেন মোহনবাগান শিবিরে।
দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে দুর্দান্ত মিডফিল্ডার আপুইয়াকে মুম্বই সিটি এফসি থেকে নিয়ে আসে তারা। চোট সারিয়ে এ মরশুমে দলে ফেরেন আশিক কুরুনিয়ানও। আর গতবারের দলের বিশাল কয়েথ, মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো, অনিরুদ্ধ থাপা, শুভাশিস বোস, আশিস রাই, সহাল আব্দুল সামাদরা তো দলেই থেকে যান। তরুণ ডিফেন্ডার দীপেন্দু বিশ্বাসের চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে ভাল ও ভারসাম্যযুক্ত দলই গড়ে মোহনবাগান। ২০২৩-২৪ মরশুমের দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় আরমান্দো সাদিকু, হুগো বুমৌস, জনি কাউকো, ব্রেন্ডান হ্যামিল, হেক্টর ইউস্তে, লালরিনলিয়ানা হ্নামতে, কিয়ান নাসিরিদের।
বছরের শুরুতেই ডুরান্ড কাপ ফাইনালে উঠে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শিবির আইএসএলে ভাল খেলার ইঙ্গিত দিয়ে রাখে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মরশুম শুরু করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, সেই ম্যাচেই যেন তারা ঘোষণা করে, তারা এসেছে খেতাব জয়ের সংকল্প নিয়ে। যদিও পরের ম্যাচে বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে যায় তারা, সেই হোঁচটই যেন নতুন করে জেদ বাড়িয়ে তোলে তাদের। এর পর টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থেকে সাতটি জয় তুলে নেয় তারা, উপহার দেয় দর্শনীয় ও দলগত ফুটবল।
ডিসেম্বরে গোয়ার মাঠে লিগ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ হার মানে তারা, তবে সেটিও ছিল সামান্য এক ছন্দপতনের ফলে। বাকি পুরো লিগ পর্বে আর কেউই তাদের হারাতে পারেনি। ১২ ম্যাচের অপরাজিত থেকে মরশুম শেষ করে তারা এবং ঘরের মাঠে ছিল একেবারে দুর্ভেদ্য— সমর্থকদের সামনে টানা ১১টি জয়।
লিগের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে, যেখানে জয় মানেই ছিল লিগশিল্ড নিশ্চিত করা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দিমিত্রি পেট্রাটসের গোল সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলে। সেই এক মুহূর্তে ধরা পড়ে দলের আত্মবিশ্বাস, সাহস আর জয়ের জন্য মরিয়া মনোভাব। ২৪ ম্যাচে ১৭টি জয়, মাত্র দু’টি হার, ৪৭ গোল এবং মাত্র ১৬ গোল হজম করে তারা লিগপর্ব শেষ করে। এফসি গোয়াকে আট পয়েন্টে পেছনে ফেলে নিশ্চিত করে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব।
শিল্ড জিতে সরাসরি সেমিফাইনালে ওঠে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। প্রথম লেগে জামশেদপুরের মাঠে দুর্ভাগ্যজনক হারে পিছিয়ে পড়ে তারা। সম্ভবত সেই হারই ছিল ঘুম ভাঙানোর অ্যলার্ম। কিন্তু ঘরের মাঠে ফিরে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে কামিংস ও আপুইয়ার গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে মোট ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এ জয়ে তারা পৌঁছে যায় টানা তৃতীয় আইএসএল ফাইনালে। গত শনিবার সেই ফাইনালেই নির্ধারিত সময়ে ১-১ রাখার পর অতিরিক্ত সময়ে জেমি ম্যাকলারেনের দুর্দান্ত গোলে জোড়া খেতাব জিতে ইতিহাস তৈরি করে ফেলে সবুজ-মেরুন বাহিনী।






















