Mohun Bagan Supergiant: তেকাঠির নীচে সজাগ প্রহরী সবসময়, বাগানের আইএসএল সাফল্যের নেপথ্যে বিশাল কায়েথ
Vishal Kaith: প্লে-অফে তিনি ছিলেন আরও দুর্দান্ত। সেমিফাইনালে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে হোম লেগে রাখেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিন শিট, যা দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করে।

কলকাতা: সদ্যসমাপ্ত আইএসএল মরশুমে গোল্ডেন গ্লাভ জিতে নিজের মুকুটে আর একটি গৌরবোজ্জ্বল পালক যোগ করলেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের গোলরক্ষক বিশাল কয়েথ। পোস্টের নিচে তিনি যেন এক অদম্য প্রহরী— এ মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল এমনই অসাধারণ। প্রতি ম্যাচে দলকে ভরসা দেওয়ার জন্য নিঃসন্দেহে এক প্রাপ্য সম্মান এই গোল্ডেন গ্লাভ।
২০২২-এ মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন বিশাল। এবারও তিনি প্রমাণ করেছেন, কেন তিনি দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। তাঁর দৃঢ়তায় ভর করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট প্রথমবারের মতো একসঙ্গে আইএসএল শিল্ড এবং আইএসএল কাপ জিতে রচনা করেছে নতুন ইতিহাস।
চটপটে, সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী—বক্সের নিয়ন্ত্রণে তাঁর আধিপত্য ছিল নজরকাড়া। দ্রুত রিফ্লেক্স, নিখুঁত বোঝাপড়া আর চাপের মুখে স্থির থাকা—এই গুণগুলির জোরেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। বয়স মাত্র ২৮, তবু এর মধ্যেই দু’বার আইএসএল কাপ ও টানা দুটি শিল্ড জয়ে দলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন বিশাল। গোল্ডেন গ্লাভস সন্মান তাঁর মতো অতন্দ্র গোলপ্রহরীরই প্রাপ্য।
নজিরের খতিয়ান
এ মরশুমে বিশাল শুধু গোলে দাঁড়িয়ে নজর কেড়েছেন, তা-ই নয়, গড়েছেন একাধিক নজিরের মাইলফলকও। আইএসএলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম গোলরক্ষক যিনি ৫০টি ক্লিন শিটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। গুরপ্রীত সিং সান্ধু ও অমরিন্দর সিংয়ের মতো অভিজ্ঞদের পিছনে ফেলে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
চলতি মরশুমেই তাঁর ১৫টি ক্লিন শিট, আইএসএলের কোনও এক মরশুমে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি ২১ থেকে ফেব্রুয়ারি ২৩—এই সময়ের মধ্যে ছয় ম্যাচে টানা ছ’টি ক্লিন শিট রেখে গড়েছেন আরেকটি লিগ রেকর্ড।
যেখানে তাঁর দল লিগে ৫২টি গোল করে আক্রমণে ঝড় তুলেছিল, সেখানে বিশাল ছিলেন রক্ষণের মূল স্তম্ভ। লিগে মোহনবাগান হজম করেছে মাত্র ১৯টি গোল—যা এই মরশুমে কোনও দলের পক্ষে সর্বনিম্ন।
ফাইনালের মঞ্চে বিশাল কীর্তি
প্লে-অফে তিনি ছিলেন আরও দুর্দান্ত। সেমিফাইনালে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে হোম লেগে রাখেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিন শিট, যা দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা পালন করে। ফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে তিনি যেন নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ, দারুণ পজিশনিং আর বক্সে কর্তৃত্বপূর্ণ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনিই হয়ে ওঠেন ফাইনালের নীরব নায়ক।
সংখ্যায় শ্রেষ্ঠত্ব
ম্যাচ: ২৬ | খেলেছেন: ২৩৭০ মিনিট | ক্লিন শিট: ১৫ | সেভ পার্সেন্টেজ: ৭৯% | মোট সেভ: ৭৫ | পাঞ্চ: ১৭ | ক্যাচ: ১২ | ক্লিয়ারেন্স: ৩২ | সফল পাস: ২২১ | পাসিং অ্যাকিউরেসি: ৬৩% | শটের মুখোমুখি: ২২৯ | গোল হজম: ১৯
এই মরশুমে তাদের ফরোয়ার্ডরা যখন গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, তখন দলের পিছনে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশাল। তাঁর নীরব নৈপুণ্যই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। তথ্য সংগ্রহ: আইএসএল মিডিয়া






















