Europa League 2025: কথা রাখলেন পস্টেকগলু, ইউরোপা লিগে ম্যান ইউনাইটেডকে হারিয়ে ১৭ বছরে প্রথম ট্রফি জয় টটেনহ্যামের
Tottenham Hotspur vs Manchester United: ইউরোপা লিগ ফাইনালে ম্যান ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে স্পার্সের হয়ে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ব্রেনান জনসন ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

বিলবাও: প্রিমিয়ার লিগের তথাকথিত 'বিগ সিক্স'-র অংশ দুই দলই। তবে এ মরশুমটা ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United) এবং টটেনহ্যাম হটস্পার (Tottenham Hotspur) দুই দলের কাছেই দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। দুই দল লিগে এক ম্যাচ বাকি থাকতে যথাক্রমে ১৬ ও ১৭ নম্বর স্থানে। তবে সেই হতাশায় খানিকটা কমিয়ে মরশুমের শেষবেলায় ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের বিলবাওতে নেমেছিল দুই দল।
ইউরোপা লিগ ফাইনালে খেতাব জয় মানে খারাপ মরশুমেও ট্রফি জয়ের উল্লাস, পাশাপাশি পরের বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবল খেলার সুযোগ, সামনে পুরস্কারটা বেশ বড়ই ছিল। সেই খেতাবি লড়াইে জয়ের হাসি হাসল স্পার্স। ১-০ স্কোরে ম্যান ইউনাইটেডকে পরাজিত করল উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। ফাইনালে ম্যান ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে স্পার্সের হয়ে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ব্রেনান জনসন ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। ১৭ বছর পর স্পার্সের ঘরে এল ট্রফি। মরশুমের আগের দিকে স্পার্সের অস্ট্রেলিয়ান ম্যানেজার অ্যাঞ্জে পস্টেকগলু (Ange Postecoglou) বলেছিলেন, তিনি নিজের দ্বিতীয় মরশুমে ট্রফি জিতে থাকেন। নিজের কথা মতোই একেবারে শেষবেলায় কিন্তু অজ়ি স্পার্সকে বহু কাঙ্খিত সাফল্য এনে দিলেন।
স্পার্স বনাম ইউনাইটেডের খেতাবি ফাইনালে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দেখার আশায় চোখ রেখেছিলেন, তাঁরা হতাশই হয়েছেন। বারংবার একাধিক ফাউল ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করেছে। দুই দলের কেউই ধারালো আক্রমণ শানাতে পারেনি, বরং লড়াইটা হয়েছে কোচেদের মগজাস্ত্রের। যেমন ম্যাচ, গোলটাও অনেকটা তেমনই হয়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে দুরন্ত এক ক্রস থেকে ডি বক্সে ব্রেনান জনসন নিজের কিক মিস করেন, তবে তা লুক শয়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে এবং আলতো স্পর্শে বল কোনওরকমে ম্যান ইউনাইটেডের গোলরক্ষক ওনানার নাগালের বাইরে করে জালে জড়িয়ে দিতে সক্ষম হন ওয়েলশের ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াইটা কার্যত একইরকম হয়। দুই দলই তেমন গঠনমূলক ফুটবল খেলতে পারেননি। তবে দাঁতে দাঁত চেপে চলছিল লড়াই। প্রতিআক্রমণেই ভরসা রেখেছিল স্পার্স, অপরদিকে বল দখলের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ম্যান ইউনাইটেড। সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার জন্য বিখ্যাত পস্টেকগলু। কিন্তু এদিন নিজের পরিকল্পনায় খানিক পার্থক্য ঘটিয়ে তুলনামূলক রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার জন্য দল সাজান তিনি। তবে এসবই বিফলে যেত যদি না মিকি ভ্যান ডে বেন থাকতেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে ম্যান ইউনাইটেডের ব়্যাসমাস হয়ল্যান্ডের হেডার স্পার্স গোলরক্ষক ভিকারিওর পাশে দিয়ে একেবারে জালে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। তখনই ডাচ ডিফেন্ডার হাওয়ায় কার্যত গোটা শরীর ভাসিয়ে দিয়ে দুরন্ত এক গোললাইন ক্লিয়ারেন্স করে স্পার্সের লিড বজায় রাখতে সক্ষম হন। ম্যাচ যত এগোয় ততই ইউনাইটেড গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায় তবে স্পার্স গোলের সামনে রোমেরো কার্যত দেওয়াল তুলে দেন। একের পর এক ক্লিয়ারেন্স করেন তিনি। ম্যাচের শেষবেলায় ভিকারিও দারুণ একটি সেভ করেন। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ে শেষমেশ খেতাব জিতে নেয় স্পার্স।
দিনকয়েক আগেই স্পার্স প্রাক্তনী হ্যারি কেন নিজের কেরিয়ারের প্রথম খেতাব জিতেছিলেন। তার কয়েকদিন পরেই তাঁর প্রাক্তন দলও খেতাব জিতল। কেরিয়ারের প্রথম ট্রফি জিতলেন কেনের দীর্ঘদিনের সতীর্থ তথা বন্ধু হিউং-মিন সন।






















