KKR vs RR: মুখে হাসি, মনে সন্তোষ, RR-র বিরুদ্ধে টানটান ম্যাচ জিতে দলের ফিল্ডিংয়ের প্রশংসায় KKR অধিনায়ক রাহানে
Kolkata Knight Riders: একেবারে শেষ বল পর্যন্ত চলল লড়াই। শেষমেশ রুদ্ধসশ্বাস ম্যাচে এক রানে রাজস্থান রয়্যালসকে পরাজিত করে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

কলকাতা: রবিবাসরীয় ইডেন এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকল। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে (Kolkata Knight Riders vs Rajasthan Royals)একেবারে ইনিংসের শেষ বলে মাত্র এক রান ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ম্য়াচের একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে লড়াই। এমন এক টানটান ম্যাচ জিতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane)।
টুর্নামেন্টে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ জয়ের পর ১১ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ছয়ে উঠে এল কেকেআর। ম্যাচশেষে রাহানের মুখে হাসি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'ম্যাচটায় একেবারে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলে। আমি খুব খুশি। এক বা দুই রানে ম্যাচ জিতলে সেটা আলাদাই সন্তুষ্টি দেয়। ম্যাচে গুরবাজ ও অঙ্গকৃষ খুব ভাল খেলেছে এবং শেষের দিকে রাসেলের ওই ইনিংসটা দারুণ ছিল। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম যে শুরুতে পাওয়ার প্লের ওভারগুলিতে আমরা আগ্রাসী ব্যাটিং করব, তারপর ১২তম ওভার পর্যন্ত মোটামুটি গতিতে ইনিংস এগোব। নতুন ব্যাটারের পক্ষে নেমেই রান করা সহজ ছিল না, তাই আমি আর অঙ্গকৃষ ইনিংসটা যতটা টানা যায় ততটা টানতে চাইছিলাম।'
এই ম্যাচে কেকেআরের ফিল্ডিং ছিল নজরে পড়ার মতো। ইনিংসের শুরুতেই রাহানে নিজেই পিছনে ছুটে এক দারুণ ক্যাচ ধরে বৈভব সূর্যবংশীকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। রিঙ্কু সিংহ মরিয়া ঝাঁপ দিয়ে দুই রান বাঁচান, যা শেষমেশ কিন্তু ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। রাহানেও ম্যাচে ফিল্ডিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়ে ম্যাচশেষে কথা বলেন। 'মাঠে ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ রান বাঁচানোটা দারুণ বিষয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে। দুইটো ভাল ক্যাচ, একটা রান আউট প্রায়শই কিন্তু ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।' মত রাহানের।
এদিন রাসেলের অর্ধশতরান ভর করে বোর্ডে পাহাড় প্রমাণ রান ২০৭ রান তোলে কেকেআর। রান তাড়া করতে নেমে ৭.৫ ওভারে রাজস্থান রয়্যালসের স্কোর ছিল ৭১/৫। যাঁরা মাঠে খেলা দেখতে এসেছিলেন, যাঁরা টিভিতে কিংবা হাতের স্মার্টফোনে খেলা দেখছিলেন, ধরেই নিয়েছিলেন যে, কেকেআরের জয় আর দুই পয়েন্ট কার্যত সময়ের অপেক্ষা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৮ বলে ৯২ রান করে ম্যাচের রং পাল্টে দিয়েছিলেন রিয়ান পরাগ ও শিমরন হেটমায়ার।
১৩তম ওভারে মঈন আলির এক ওভারে টানা পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা মারলেন অসমের ক্রিকেটার রিয়ান। রিয়ান-হেটমায়ারের দাপটে ১২ ওভারে ১০২/৫ থেকে ১৫ ওভারে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়াল ১৫৫/৫। ৩ ওভারে ৫৩ রান তুলে কেকেআর শিবিরকে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন দু'জনে। ইডেন গ্যালারিতেও যেন শ্মশানের নীরবতা। অবশেষে সঞ্জীবনী হাতে হাজির হলেন হর্ষিত রানা। তাঁর বাউন্সারে আউট হলেন হেটমায়ার। ২৩ বলে ২৯ রান করে। ৪৫ বলে ৯৫ রান করে হর্ষিতের শিকার রিয়ানও।
তবে এরপরও ম্যাচ শেষ হয়নি। ইনিংসের শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে তিন রান আসার পর শেষ চার বলে ১৯ রানের প্রয়োজন ছিল। এমন সময় শুভম দুবের দুই ছক্কা ও একটি চারে শেষ বলে রাজস্থানের জয়ের জন্য দরকার ছিল তিন রান। একেবারে টানটান ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ সামলে বৈভব আরোরা নিখুঁত ইয়র্কারে মাত্র এক রান দেন। এক রানে ম্যাচ জিতে নেয় কেকেআর।




















