এক্সপ্লোর
বাবা বলতেন ক্লাব মায়ের মতো, তাঁকেই অসম্মান করেছে মোহনবাগান, ক্ষোভ গোষ্ঠ পালের পুত্রের

কলকাতা: সময়টা ১৯১৫ সালের মাঘ মাস। লুকিয়ে বিয়ে করেছেন গোষ্ঠ পাল। লজ্জায় তিনি আর মাঠে যাচ্ছেন না। তখন মোহনবাগানের সচিব ছিলেন শৈলেন বসু। তিনি একদিন ক্লাবে ডেকে গোষ্ঠবাবুকে মাঠে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। গোষ্ঠবাবু সলজ্জে জানালেন, তিনি বিয়ে করেছেন। সে কথা শুনে শৈলেনবাবু বলেন, ‘আমি ১২টা ব্যাজ তৈরি করেছিলাম। ১৯১১ সালে আইএফএ শিল্ড জেতা দলের ১১ জনকে ব্যাজ দিয়েছিলাম। আর একটা ব্যাজ আছে। সেটা তোমাকে দিচ্ছি। কথা দাও, কোনওদিন মোহনবাগান ছাড়বে না।’ সেই ব্যাজ নিয়ে গোষ্ঠবাবু ক্লাব না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যতদিন খেলেছিলেন, অন্য কোনও ক্লাবে যাননি ভারতীয় ফুটবলের এই কিংবদন্তী। ১৯২৮ সালে ইস্টবেঙ্গল তাঁকে এক লক্ষ টাকা ও পার্ক স্ট্রিটে বাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু মোহনবাগান থেকে কোনওদিন খেলার জন্য টাকা না পাওয়া গোষ্ঠবাবু লাল-হলুদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। অথচ সেই তাঁকেই চূড়ান্ত অসম্মানিত করে মোহনবাগান। গোষ্ঠবাবুর পুত্র নীরাংশু পাল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘কোনও কারণে একবার বার্ষিক চাঁদা দিতে না পারায় বাবার সদস্যপদ বাতিল করে দেয় মোহনবাগান। পরে অবশ্য কুমার রমেন্দ্রনাথ রায় মোহনবাগান সভাপতি হওয়ার পর নিজে বাবার সঙ্গে দেখা করে সদস্যপদ ফিরিয়ে দেন। তবে তারপরেও বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন সদস্য চাঁদা দিতেন।’
পদ্মশ্রী গ্রহণ করার মুহূর্তে গোষ্ঠ পাল নীরাংশুবাবু মোহনবাগান কর্মকর্তাদের ব্যবহারে ব্যথিত। তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছেন, ‘ক্লাব একাধিকবার বাবাকে অসম্মান করেছে। তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও কয়েকজন কর্তার ইচ্ছায় ক্লাবের মাঠ বদল করা হয়। শুরুতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান একই মাঠ ব্যবহার করত। এখন যেখানে এরিয়ান ক্লাবের তাঁবু, তখন সেটা ছিল সবুজ-মেরুনের। মোহনবাগানের মাঠ সেখান থেকে বদল করে বর্তমান জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে মাঠে যাওয়াই ছেড়ে দেন বাবা। তিনি চাইতেন মোহনবাগানের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পাওয়া পুরস্কার, ছবি, স্মারক নিয়ে একটি সংগ্রহশালা তৈরি হোক। ক্রীড়াপ্রেমীরা টিকিট কেটে সেই সংগ্রহশালা দেখতে এলে যেমন ক্লাব আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তেমনই ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকবে। বাবার মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালে। তাঁর ইচ্ছানুসারে ১৯৯২ সালে আমি শৈলেনবাবুর দেওয়া ব্যাজ, ১৯৬২ সালে বাবার পাওয়া পদ্মশ্রী পুরস্কার, অনেক অমূল্য ছবি সহ যাবতীয় স্মারক মোহনবাগান কর্তাদের হাতে তুলে দিই। কিন্তু আজও তৈরি হয়নি সংগ্রহশালা। বাবার পুরস্কার ও ছবিগুলি এখন কোথায়, সেটাও জানি না আমি। বাবা বলতেন, ক্লাব মায়ের মতো। তিনি কোনওদিন ক্লাব থেকে টাকা নেননি। এমনকী, জার্সি-প্যান্টও নিজেই কিনতেন। কিন্তু ক্লাব উপযুক্ত সম্মান দিল না তাঁকে।’
পদ্মশ্রী পুরস্কারের শংসাপত্রই এখন নীরাংশু পালের সম্বল এ বিষয়ে মোহনবাগানের সহ-সচিব সৃঞ্জয় বসু অবশ্য জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রাক্তন খেলোয়াড়দের স্মারক, ছবি, পুরস্কার নিয়ে সংগ্রহশালা তৈরি করব। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর অনুমতি পাওয়া সহজ নয়। অনুমতি পেয়ে গেলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব।’
গোষ্ঠ পালের ছবি দিয়ে প্রকাশিত ডাকটিকিট বাবার বিষয়ে নীরাংশুবাবু বলছিলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন জেল না খাটা স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি কোনওদিন ইংরেজদের চাকরি করেননি। আমাদের চৌধুরী উপাধি দিয়েছিল ব্রিটিশরা। কাকারা পালচৌধুরী লিখলেও, বাবা সারাজীবন পালই লিখেছেন। তিনি ব্রিটিশদের উপাধিও গ্রহণ করেননি। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও মহাত্মা গাঁধীর আন্দোলনকে সমর্থন করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাননি বাবা। বয়সে এক বছরের ছোট সুভাষচন্দ্র বসুকে তিনি অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বলতেন, কেউ যদি দেশের কথা ভাবেন, তাহলে সেটা একমাত্র নেতাজি। তিনি থাকলে দেশ অন্যরকম হত। দেশভাগ হত না।’
জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে গোষ্ঠ পাল (ডানদিক থেকে দ্বিতীয়) ১৯১২ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত সবুজ মেরুন রক্ষণ আগলে রেখেছিলেন ‘চিনের প্রাচীর’। তাঁর মাঠ থেকে সরে যাওয়ার কারণও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই। একটি ম্যাচে ইংরেজ রেফারির পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের প্রতিবাদে মাঠে শুয়ে পড়েন গোষ্ঠবাবু। এই কারণে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় আইএফএ। সে কথা জানতে পেরেই খেলা ছেড়ে দেন গোষ্ঠবাবু। তিনি মোহনবাগানের হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও টেনিস খেলেছিলেন। চারটি খেলাতেই তিনি ক্লাবের অধিনায়ক হন। দল না ছাড়লেও, তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরেই শ্যাম পার্কে একটি প্রতিযোগিতায় লাল-হলুদ জার্সি পরে খেলেন গোষ্ঠবাবু। তিনিই ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম অধিনায়ক।
মোহনবাগানের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া পদকও আছে নীরাংশু পালের সংগ্রহে গোষ্ঠবাবুর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে ব্রিটিশরা তাঁকে ভারতের সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আখ্যা দিয়েছিল। এক ইংরেজ সাংবাদিকই প্রথম ‘চিনের প্রাচীর’ নাম দেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেন, ‘গোষ্ঠ পাল সত্যিই চিনের প্রাচীর।’ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ কলকাতায় পড়ার সময় গোষ্ঠবাবুর খেলা দেখতে যেতেন। সেই খেলা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাই তিনি নিজে পদ্মশ্রীর জন্য গোষ্ঠবাবুর নাম মনোনীত করেন। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে গোষ্ঠবাবুর নাম। তবে মোহনবাগান, আইএফএ ও এআইএফএফ তাঁর বাবাকে তেমন সম্মান দিল না, এটাই দুঃখ নীরাংশুবাবুর।
পদ্মশ্রী গ্রহণ করার মুহূর্তে গোষ্ঠ পাল নীরাংশুবাবু মোহনবাগান কর্মকর্তাদের ব্যবহারে ব্যথিত। তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছেন, ‘ক্লাব একাধিকবার বাবাকে অসম্মান করেছে। তাঁর আপত্তি সত্ত্বেও কয়েকজন কর্তার ইচ্ছায় ক্লাবের মাঠ বদল করা হয়। শুরুতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান একই মাঠ ব্যবহার করত। এখন যেখানে এরিয়ান ক্লাবের তাঁবু, তখন সেটা ছিল সবুজ-মেরুনের। মোহনবাগানের মাঠ সেখান থেকে বদল করে বর্তমান জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে মাঠে যাওয়াই ছেড়ে দেন বাবা। তিনি চাইতেন মোহনবাগানের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পাওয়া পুরস্কার, ছবি, স্মারক নিয়ে একটি সংগ্রহশালা তৈরি হোক। ক্রীড়াপ্রেমীরা টিকিট কেটে সেই সংগ্রহশালা দেখতে এলে যেমন ক্লাব আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তেমনই ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকবে। বাবার মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালে। তাঁর ইচ্ছানুসারে ১৯৯২ সালে আমি শৈলেনবাবুর দেওয়া ব্যাজ, ১৯৬২ সালে বাবার পাওয়া পদ্মশ্রী পুরস্কার, অনেক অমূল্য ছবি সহ যাবতীয় স্মারক মোহনবাগান কর্তাদের হাতে তুলে দিই। কিন্তু আজও তৈরি হয়নি সংগ্রহশালা। বাবার পুরস্কার ও ছবিগুলি এখন কোথায়, সেটাও জানি না আমি। বাবা বলতেন, ক্লাব মায়ের মতো। তিনি কোনওদিন ক্লাব থেকে টাকা নেননি। এমনকী, জার্সি-প্যান্টও নিজেই কিনতেন। কিন্তু ক্লাব উপযুক্ত সম্মান দিল না তাঁকে।’
পদ্মশ্রী পুরস্কারের শংসাপত্রই এখন নীরাংশু পালের সম্বল এ বিষয়ে মোহনবাগানের সহ-সচিব সৃঞ্জয় বসু অবশ্য জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রাক্তন খেলোয়াড়দের স্মারক, ছবি, পুরস্কার নিয়ে সংগ্রহশালা তৈরি করব। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর অনুমতি পাওয়া সহজ নয়। অনুমতি পেয়ে গেলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব।’
গোষ্ঠ পালের ছবি দিয়ে প্রকাশিত ডাকটিকিট বাবার বিষয়ে নীরাংশুবাবু বলছিলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন জেল না খাটা স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি কোনওদিন ইংরেজদের চাকরি করেননি। আমাদের চৌধুরী উপাধি দিয়েছিল ব্রিটিশরা। কাকারা পালচৌধুরী লিখলেও, বাবা সারাজীবন পালই লিখেছেন। তিনি ব্রিটিশদের উপাধিও গ্রহণ করেননি। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও মহাত্মা গাঁধীর আন্দোলনকে সমর্থন করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাননি বাবা। বয়সে এক বছরের ছোট সুভাষচন্দ্র বসুকে তিনি অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বলতেন, কেউ যদি দেশের কথা ভাবেন, তাহলে সেটা একমাত্র নেতাজি। তিনি থাকলে দেশ অন্যরকম হত। দেশভাগ হত না।’
জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে গোষ্ঠ পাল (ডানদিক থেকে দ্বিতীয়) ১৯১২ থেকে ১৯৩৬ পর্যন্ত সবুজ মেরুন রক্ষণ আগলে রেখেছিলেন ‘চিনের প্রাচীর’। তাঁর মাঠ থেকে সরে যাওয়ার কারণও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই। একটি ম্যাচে ইংরেজ রেফারির পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের প্রতিবাদে মাঠে শুয়ে পড়েন গোষ্ঠবাবু। এই কারণে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় আইএফএ। সে কথা জানতে পেরেই খেলা ছেড়ে দেন গোষ্ঠবাবু। তিনি মোহনবাগানের হয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও টেনিস খেলেছিলেন। চারটি খেলাতেই তিনি ক্লাবের অধিনায়ক হন। দল না ছাড়লেও, তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরেই শ্যাম পার্কে একটি প্রতিযোগিতায় লাল-হলুদ জার্সি পরে খেলেন গোষ্ঠবাবু। তিনিই ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম অধিনায়ক।
মোহনবাগানের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া পদকও আছে নীরাংশু পালের সংগ্রহে গোষ্ঠবাবুর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে ব্রিটিশরা তাঁকে ভারতের সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আখ্যা দিয়েছিল। এক ইংরেজ সাংবাদিকই প্রথম ‘চিনের প্রাচীর’ নাম দেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেন, ‘গোষ্ঠ পাল সত্যিই চিনের প্রাচীর।’ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ কলকাতায় পড়ার সময় গোষ্ঠবাবুর খেলা দেখতে যেতেন। সেই খেলা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাই তিনি নিজে পদ্মশ্রীর জন্য গোষ্ঠবাবুর নাম মনোনীত করেন। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে গোষ্ঠবাবুর নাম। তবে মোহনবাগান, আইএফএ ও এআইএফএফ তাঁর বাবাকে তেমন সম্মান দিল না, এটাই দুঃখ নীরাংশুবাবুর। খেলার (Sports) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















