নয়াদিল্লি: তাঁর কাছে উভয় সংকট। একদিকে অলিম্পিক্স পদক জেতার কঠিন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে মাত্র ১৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান বেদিকাকে বাড়িতে রেখে যাওয়ার উদ্বেগ। তবু নিশানায় অভ্রান্ত থাকছেন দীপিকা কুমারী (Deepika Kumari)। প্যারিস অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কেরিয়ারে চতুর্থ অলিম্পিক্সে নামবেন ভারতীয় তিরন্দাজ।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দীপিকা বলেছেন, 'মেয়েকে ছেড়ে এতদিন থাকতে হবে এটা যে কতটা কষ্টকর বলে বোঝাতে পারব না। তবে এত বছর ধরে পরিশ্রম করেছি তো এই দিনগুলির জন্যই।'
আপাতত প্যারিসে রওনা হওয়ার আগে দীপিকা ও তাঁর তিরন্দাজ স্বামী অতনু দাস মেয়ে বেদিকাকে নিয়ে পুণের আর্মি স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে রয়েছেন। সেখানেই চলছে দীপিকার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
দীপিকা বলেছেন, 'আমি মেয়ের অভাব ভীষণভাবে টের পাব। তবে এটাই জীবন। মেনে নিতে হবে। ভাগ্য ভাল যে ও খুব ভাল সন্তান এবং আমার শ্বশুর ও শাশুড়ি এবং অতনুর কাছে খুব ভাল থাকে।'
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন দীপিকা। তারপরই নানারকম শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। পেশির স্টিফনেসে জেরবার হন তিরন্দাজ। ১৯ কেজি ধনুক হাতে তোলাটাই তাঁর কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
দীপিকা বলছেন, 'আমরা এমনভাবেই সন্তান পরিকল্পনা করেছিলাম যাতে প্যারিস অলিম্পিক্সে আমার নামা নিয়ে সমস্যা না হয়। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল।'
অতনু বলছেন, 'তীর ছোড়া বা ধনুক তোলা বাদ দিন, ও দৈনন্দিন কাজকর্মও কিছু করতে পারত না। তারপর ধীরে ধীরে জগিং শুরু করে। জিমে প্রচুর সময় কাটায় নিজেকে ফিট করে তোলার জন্য।'
হতাশায় ভুগে অতনুকে দীপিকা জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কেরিয়ার মনে হচ্ছে শেষ। আমি কি আর শ্যুটিং করতে পারব না?' অবশ্য তারপর আশার সঞ্চার হয়। দীপিকা গত বছর গোয়ায় জাতীয় গেমসে দাপট দেখান। দুটি সোনা ও একটি রুপো জেতেন।
তারপরই কোরীয় কিংবদন্তি কিম হিউয়ুং টাকের কাছে ট্রেনিংসের সিদ্ধান্ত নেন। 'শুধু দক্ষতা নিয়ে কাজ নয়, তীর ছোড়া নিয়ে মানসিকতাই পাল্টে গিয়েছে ওঁর প্রশিক্ষণে।' সাংহাইয়ে বিশ্বকাপে রুপো জেতেন দীপিকা।
আরও পড়ুন: স্নেহাশিসের বিয়েতে হয়তো থাকছেন না সৌরভ-ডোনা, কোথায় হচ্ছে অনুষ্ঠান?
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে।