আর্থিক বছর ২০২৫-২৬ (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭)-এর জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৬। এই তারিখ পেরিয়ে গেলে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত জরিমানা দিয়ে 'বিলেটেড রিটার্ন' ফাইল করা যাবে।
ITR filing 2026: আয়কর জমা দেওয়ার আগে হাতে রাখুন এই নথিগুলি, না হলে ভুগবেন..
Income Tax Return : আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে আগে থেকেই সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখা জরুরি। এরফলে আপনি শেষ মুহুর্তের ভুলভ্রান্তি এড়াতে পারেন।

- আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য প্যান, আধার ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
- চাকরিজীবীদের ফর্ম ১৬, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সুদের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।
- ফর্ম ২৬এএস, এআইএস এবং বিনিয়োগের প্রমাণপত্র মিলিয়ে নিন।
- ভাড়া রসিদ, ক্যাপিটাল গেইন্স রিপোর্ট ও পূর্ববর্তী আইটিআর রাখুন।
Income Tax Return : অনেক ক্ষেত্রে আয়কর ফাইলের (ITR filing 2026) আগে আমরা এই নথিগুলি হাতের সামনে রাখি না। যার ফল ভুগতে হয় আমাদরে। তাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে আগে থেকেই সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখা জরুরি। এরফলে আপনি শেষ মুহুর্তের ভুলভ্রান্তি এড়াতে পারেন। পাশাপাশি বহু ছাড় বা ডিডাকশনও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে আপনার।
কত তারিখ পর্যন্ত পাবেন সুযোগ
আর্থিক বছর ২০২৫-২৬ (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭)-এর জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৬ (যাদের অ্যাকাউন্টের অডিট প্রয়োজন হয় না)। এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত জরিমানা বা লেট ফি দিয়ে ‘বিলেটেড রিটার্ন’ ফাইল করা যাবে। তবে বাড়তি টাকা গোনা এড়াতে আগেভাগেই ফাইল করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১ প্যান, আধার ও ব্যক্তিগত তথ্য
আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য আপনার প্যান (PAN) এবং আধার কার্ডের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। দুটি নথি একে অপরের সাথে লিঙ্ক করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক। এছাড়া আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং আবাসিক ঠিকানা যাচাই করে নিন, কারণ আয়কর দপ্তর থেকে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের জন্য এই তথ্যগুলো ব্যবহার করা হয়।
২ ফর্ম ১৬ (Form 16)
চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম প্রধান নথি। এটি মূলত একটি টিডিএস (TDS) সার্টিফিকেট, যা আপনার নিয়োগকর্তা বা অফিস থেকে দেওয়া হয়। বছরের মাঝখানে চাকরি পরিবর্তন করলে বর্তমান ও প্রাক্তন উভয় সংস্থার থেকেই এটি সংগ্রহ করতে হবে। এতে আপনার মোট বেতন, পাওয়া ছাড় এবং কর কাটার সমস্ত বিবরণ থাকে।
৩ ফর্ম ২৬এএস (Form 26AS) ও এআইএস
আয়কর দপ্তরের পোর্টাল থেকে এই ফর্মগুলি ডাউনলোড করা যায়। Form 26AS হলো আপনার বার্ষিক ট্যাক্স স্টেটমেন্ট, যেখানে সারা বছরে কাটা ট্যাক্সের (TDS/TCS) বিবরণ থাকে। অন্যদিকে, AIS (Annual Information Statement)-এ শেয়ার কেনাবেচা বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বড় আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। রিটার্ন ফাইল করার আগে নিজের নথির সাথে এগুলি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
৪ ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও সুদের সার্টিফিকেট
সারা বছরে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD) বা রেকারিং ডিপোজিট থেকে কত টাকা সুদ পেয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানাতে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং সুদের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখুন।
৫ বিনিয়োগের প্রমাণপত্র
আপনি যদি পুরনো ট্যাক্স কাঠামো (Old Tax Regime) অনুযায়ী রিটার্ন ফাইল করেন, তবে কর ছাড় পাওয়ার জন্য সমস্ত বিনিয়োগের প্রমাণ তৈরি রাখুন।
যেমন: জীবন বিমার প্রিমিয়ামের রসিদ (Life Insurance Premium)
পিপিএফ (PPF) বা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার (SSY) জমা রসিদ
ইএলএসএস (ELSS) বা ট্যাক্স সেভিং মিউচুয়াল ফান্ডের নথি
হোম লোনের আসল টাকা (Principal) পরিশোধের বিবরণ
৬ বাড়ি ভাড়ার রসিদ ও এইচআরএ (HRA)
বাড়ি ভাড়া ভাতার (HRA) ওপর কর ছাড় দাবি করতে চাইলে বাড়ি ভাড়ার রসিদ ও রেন্ট এগ্রিমেন্ট প্রয়োজন হবে। বার্ষিক ভাড়া ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে বাড়িওয়ালার প্যান (PAN) নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৭ ক্যাপিটাল গেইন্স রিপোর্ট
আপনি যদি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন, কিংবা মিউচুয়াল ফান্ড, জমি-বাড়ি বা সোনা কেনাবেচা করে থাকেন, তবে সেই সংক্রান্ত প্রফিট ও লস স্টেটমেন্ট বা ক্যাপিটাল গেইন্স রিপোর্ট ব্রোকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।
৮ পূর্ববর্তী বছরের আইটিআর কপি
গত বছরের ফাইল করা আইটিআর-এর একটি কপি নিজের কাছে রাখুন। বিশেষ করে শেয়ার বাজার বা সম্পত্তি কেনাবেচায় কোনো ক্ষতি (Loss) হয়ে থাকলে, তা পরবর্তী বছরে ক্যারি-ফরওয়ার্ড (Carry-forward) করার জন্য আগের বছরের নথি কাজে লাগে।
৯ অন্যান্য আয়ের উৎস
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি ছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং, পেনশন, ডিভিডেন্ড বা বাড়ি ভাড়া থেকে কোনও বাড়তি আয় থাকলে, সেই সংক্রান্ত ইনভয়েস বা নথিগুলোও গুছিয়ে রাখুন।
আরও পড়ুন : প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা বেতন? জেনে নিন কীভাবে সাজাবেন আপনার বিনিয়োগের সঠিক ব্লুপ্রিন্ট
Frequently Asked Questions
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কবে?
আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য কোন কোন ব্যক্তিগত তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে?
আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য আপনার প্যান (PAN) এবং আধার কার্ডের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং আবাসিক ঠিকানা যাচাই করে নিন, কারণ আয়কর দপ্তর থেকে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের জন্য এই তথ্যগুলো ব্যবহার করা হয়।
চাকরিজীবীদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রধান নথি কোনটি?
চাকরিজীবীদের জন্য ফর্ম ১৬ (Form 16) অন্যতম প্রধান নথি। এটি একটি টিডিএস (TDS) সার্টিফিকেট, যা আপনার নিয়োগকর্তা বা অফিস থেকে দেওয়া হয় এবং এতে আপনার বেতন, ছাড় ও কর কাটার বিবরণ থাকে।
ফর্ম ২৬এএস (Form 26AS) এবং এআইএস (AIS) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Form 26AS হলো আপনার বার্ষিক ট্যাক্স স্টেটমেন্ট যেখানে সারা বছরে কাটা ট্যাক্সের বিবরণ থাকে। AIS-এ শেয়ার কেনাবেচা বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বড় আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। রিটার্ন ফাইল করার আগে নিজের নথির সাথে এগুলো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
যদি পুরনো ট্যাক্স কাঠামো অনুযায়ী রিটার্ন ফাইল করি, তবে কোন কোন বিনিয়োগের প্রমাণপত্র রাখতে হবে?
পুরনো ট্যাক্স কাঠামো অনুযায়ী কর ছাড় পাওয়ার জন্য জীবন বীমার প্রিমিয়াম, পিপিএফ (PPF), এলএসএস (ELSS) বা ট্যাক্স সেভিং মিউচুয়াল ফান্ড এবং হোম লোনের আসল টাকা পরিশোধের বিবরণী প্রস্তুত রাখতে হবে।























