Baruipur Incident : বারুইপুর কাণ্ডে ফের গ্রেফতার ! গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫, কোন দিকে জল গড়াচ্ছে ?
Baruipur News : বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলা ও ভাঙচুরকাণ্ডে বাড়ছে গ্রেফতারি। শুক্রবার আবারও ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

কলকাতা : অভয়া কাণ্ডের পর বারুইপুর ধর্ষণ-খুন হত্যা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে গিয়ে আর কোনওদিন বাড়ি ফিরল না ১২ বছরের নাবালিকা। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পথ অবরোধ, রেল লাইন অবরোধ, পুলিশকে মারধর, ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ও গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার মত ঘটনা ঘটে যায়। এই হিংসার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যারা গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধ ও অশান্তিতে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে গ্রেফতার করা হয়েছে বহু অভিযুক্তকে। বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলা ও ভাঙচুরকাণ্ডে আরও গ্রেফতারি। হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এর আগে গত ২ দিন ধরে এই অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফের ধরপাকড়ের ফলে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫।
আরও পড়ুন - বারুইপুর কাণ্ডে নিরপরাধ, তাও হত্যা! অভাবের সংসার ইন্দ্রজিতের, অর্থ জোগাতে কী করতেন জানেন ?
নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। গণপিটুনিতে মৃত্য়ু হয় ইন্দ্র মণ্ডল নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের। এরপর মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুরে পুলিশের ওপর হামলা, গণপিটুনি, ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ৩৫ জনকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ''গণপিটুনি করে যে নিরীহ লোকটাকে, ছেলেটাকে মেরে দিয়েছে, অবিবাহিত এক যুবক, সেখানেও যারা হত্য়াকারী, তাদেরকেও যথাযথভাবে, মার্ডার কেসে যুক্ত করা হবে। এবং, পুলিশকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া আছে, যারা যারা হুলিগানিজম করেছে পুরো দিন ধরে, তাদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে।''
বারুইপুর কাণ্ডে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। সেদিনের ঘটনা নিয়ে তাঁর বউদি বলেন, ''এইখানটায় সবাই ঘরে বসেছিল। মারতে মারতে জামার কলার ধরে নিয়ে চলে গেল। প্রচুর লোক, প্রচুর লোক। আমরাও পিছনে পিছনে গেছি। পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম। সবাই বলে তোমাদেরও মেরে দেব। বাঁশ ছিল, তারপর ইট, লাঠি মেরেছে। ভয়েতে আবার জলে পড়ে গেছে। এখান থেকে নিয়ে বাজারে, ওখানে মরে গেছে। এখান থেকে বলছে আমি করিনি, আমি করিনি।'' ইন্দ্রজিৎ-এর মা জানান, ''হ্যাঁ বাবা, সকালের ঘটনা। আমার বাবারে এরকম করে ধরে আছে। দেখতে পাই না...আমার বাবার কত কষ্ট...আমার সামনে দিয়ে ছুটে পালাচ্ছে। আমিও পিছন দিয়ে ছুটে গেছি, আমার বাবা যাতে পালাতে পারে। আমাদের তো পিছনে ভয় আছে যদি কিছু হয়। কী বলব, আমার কোলের ছেলে বাবা।''























