Alipurduar Railway Employee Retirement: পুষ্প বৃষ্টিতে শুভেচ্ছা, মালা পরিয়ে বরণ; বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ রেল কর্মী
West Bengal News: জানা যায়, রেলের লোকো-পাইলট হিসেবে চাকরি জীবনের শেষ যাত্রায় শিলিগুড়ি জংশন থেকে আলিপুরদুয়ার জংশন পর্যন্ত আসেন তিনি।

অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: অবসর গ্রহণের আগে অভিনব অভিজ্ঞতা। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছতেই বরণ করা হল লোকো পাইলটকে। ৩২ বছরের কর্মজীবনের অবসরের আগে সহকর্মীদের আয়োজনে আবেগপ্রবণ লোকো-পাইলট কাজল চন্দ্র।
অনেকটা যেন বিয়ের আয়োজন। বরকে বরণ করার মতো করেই সব আয়োজন করেছিলেন সহকর্মীরা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনে অভিনব ঘটনার সাক্ষী রইলেন যাত্রীরাও। রেলের লোকো-পাইলট ছিলেন কাজল চন্দ্র। চাকরি জীবনের শেষ যাত্রায় শিলিগুড়ি জংশন থেকে আলিপুরদুয়ার জংশন পর্যন্ত ট্রেন নিয়ে আসার সময় বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন। অথচ কঠিন প্রতিকূলতার মাঝে এমনকি রেল ট্র্যাকে হাতির মুখোমুখি পড়েও নিজেকে স্থির রাখতে পেরেছেন কর্মজীবনে। ইঞ্জিন ক্লিনার থেকে লোকো-পাইলট, দীর্ঘ ৩২ বছরের চলন্ত কর্মজীবন থমকে যাবে গন্তব্যে ফিরলেই। যদিও তিনি ভাবতেও পারেননি কেমন সম্বর্ধনা জুটতে চলেছে তাঁর কর্মজীবনের বিদায় লগ্নে। শেষদিনে চমক ছিল তাঁর জন্য। নেপথ্যে সহকর্মীরা।
সকাল প্রায় ১১:২৮ মিনিটে যাত্রীবাহী শিলিগুড়ি-বামনহাট প্যাসেঞ্জার ট্রেন নিয়ে কর্মজীবনের শেষ স্টেশন আলিপুরদুয়ার জংশনে প্রবেশ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ড বাজিয়ে স্বাগত জানাতে শুরু করেন তাঁর সহকর্মীরা। যা দেখে আবেগ আর ধড়ে রাখতে পারছিলেন না কাজল চন্দ্র। চোখ তার ঝাপসাও হয়ে যায়। শেষ বারের জন্য প্রণাম জানিয়ে ইঞ্জিন ছাড়েন। সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের পুষ্প বৃষ্টিতে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি মাথায় পাগড়ি পড়িয়ে একের পর এক ফুলের মালা দিয়ে সম্বর্ধনায় বুকে টেনে নেন। শুধু তাই নয়, চাকরি জীবনের ইতি টানতে ইঞ্জিন থেকে রেলের ক্রু লবি পর্যন্ত বাজনা সহযোগে সহকর্মীদের উচ্ছ্বাস, উদ্দিপনা যেন এক স্মরণীয় দিন বলে মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। একইভাবে সিনিয়র সহকর্মীর অবসরে মন খারাপ নব-প্রজন্মের রেলকর্মীদেরও।
অবসর মুহূর্তে এমন অভাবনীয় বিদায় সম্বর্ধনা জুটবে ভাবতেও পারেননি কাজল চন্দ্র। তার কথায়, এটা প্রকাশ করা দায়। তিনি বলেন, "চ্যালেঞ্জিং এই কর্মজীবন সুন্দরভাবে পার করতে পারায় খুশি আমি। সবই সম্ভব হয়েছে পরিবারের সহযোগিতায়। বর্তমান প্রজন্মের ছেড়ে যাওয়া সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, নিষ্ঠা ও নিয়মানুবর্তিতার পাশাপাশি রেলের এই চলমান কর্মজীবনের মাঝে পর্যাপ্ত বিশ্রাম অবশ্যই নিতে হবে নিজেকে সুস্থ রাখতে।''
আরও পড়ুন: East Burdwan News: শিক্ষকের অভাবে বন্ধ ঝাঁপ, মঙ্গলকোটের স্কুলে বসছে হাট
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
