ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারিত হলে মোট ক্ষতির ৮৫% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে, তবে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
RBI Alert : ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে পাবেন ক্ষতিপূরণ ! বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে RBI
Digital Fraud : ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ফ্রডের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এক নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

- ডিজিটাল প্রতারণায় গ্রাহকদের ৮৫% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে RBI।
- গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
- এই নিয়ম ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে পারে।
- প্রকল্পের লক্ষ্য ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকদের সুরক্ষা বৃদ্ধি।
Digital Fraud : ডিজিটাল লেনদেনের যুগে স্বস্তির খবর শোনাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। অনলাইনে টাকা খুইয়েছেন? এবার সেই ক্ষতির বড় অংশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কম নগদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ফ্রডের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে এক নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
কত টাকা পাবেন ক্ষতিপূরণ ?
RBI-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হওয়া কোনও ব্যক্তি তাঁর মোট ক্ষতির ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এর একটি ঊর্ধ্বসীমাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।
সতর্কবার্তা: এই ক্ষতিপূরণ একজন ব্যক্তি জীবনে কেবল একবারই পাবেন। অর্থাৎ, কেউ যদি বারবার ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হন, তবে প্রতিবার তিনি এই সুবিধা পাবেন না।
কার পকেট থেকে কত যাবে? (টাকার ভাগাভাগি)
ক্ষতিপূরণের টাকা কোনও একটি বিশেষ পক্ষ নয়, বরং কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
২৯,৪১২ টাকার কম ক্ষতি হলে: মোট ক্ষতিপূরণ যদি ৮৫% হয়, তবে তার মধ্যে ৬৫% বহন করবে RBI। বাকি ১০% দেবে গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাঙ্ক এবং বাকি ১০% দেবে যে ব্যাঙ্কে টাকাটি ঢুকেছে (Beneficiary Bank)।
২৯,৪১২ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা ক্ষতি হলে: এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকাই মিলবে। যার মধ্যে RBI দেবে ১৯,১১৮ টাকা এবং বাকি অংশ দুই ব্যাঙ্কের মধ্যে ভাগ হবে।
কবে থেকে কার্যকর হবে এই নিয়ম ?
গত ৬ই মার্চ RBI এই সংক্রান্ত একটি খসড়া সংশোধনী (Draft Amendment) প্রকাশ করেছে। আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ বা তারপর থেকে হওয়া সমস্ত ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি জনসমক্ষে আনা হয়েছে মতামতের জন্য। আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে তাঁদের মতামত বা পরামর্শ জমা দিতে পারবেন।
কেন এই উদ্যোগ ?
সম্প্রতি মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ডিজিটাল লেনদেনে উপভোক্তাদের দায়বদ্ধতা এবং সুরক্ষা নিয়ে পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের ভরসা বাড়াতেই এই 'স্মল ভ্যালু ডিজিটাল ফ্রড' ক্ষতিপূরণ প্রকল্প আনা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ধরনের ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে ভারতে। বিশেষ করে ডিজিটাল অ্যারেস্ট দেশে একটা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আর্থিক প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে বহু মানুষকে।
Frequently Asked Questions
ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারিত হলে কত টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে?
ক্ষতিপূরণের টাকা কি একবারের বেশি পাওয়া যাবে?
না, এই ক্ষতিপূরণ একজন ব্যক্তি জীবনে কেবল একবারই পাবেন।
ক্ষতিপূরণের টাকার ভাগাভাগি কিভাবে হবে?
ক্ষতিপূরণের টাকার ভাগ RBI, গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাঙ্ক এবং বেনিফিশিয়ারি ব্যাঙ্কের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণের উপর নির্ভর করে ভাগ করা হবে।
এই নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?
এই নিয়ম ১লা জুলাই, ২০২৬ বা তারপর থেকে হওয়া সমস্ত ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কী?
ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়ানো এবং উপভোক্তাদের দায়বদ্ধতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।























