বৈঠকে সমাধান, চা-বাগানের শ্রমিকদের মিলবে পুজোর বোনাস, বাড়ল দৈনিক মজুরিও
তরাই-ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগানে তাই এখন খুশির হাওয়া।

অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: চা-বাগানের শ্রমিকদের পুজোর বোনাস নিয়ে এক বৈঠকেই সমাধান। বাড়ল দৈনিক মজুরিও। কিন্তু বৈঠকের সাফল্যের কৃতিত্ব নিয়ে শুরু তৃণমূল-বিজেপি তরজা।
চা বাগানে কৃতিত্ব-তরজা বছরভর দুটি পাতা একটি কুঁড়ির বাগানে হাড়ভাঙা খাটুনি। এবার দুর্গাপুজোর আগে জোড়া সুখবর পেলেন সেই চা-বাগানের শ্রমিকরা। মিলবে বোনাস, বাড়বে মজুরি! তরাই-ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগানে তাই এখন খুশির হাওয়া।
চা-বাগান সূত্রে খবর, করোনা আবহে এবার বোনাস মিলবে কি না সংশয় ছিল। কিন্তু শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চা-বাগানের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক ভার্চুয়াল বৈঠক করে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর।
আর তাতেই মেলে সমাধানসূত্র। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় চা বাগান শ্রমিকদের বোনাস দেওয়া হবে। পাশাপাশি দৈনিক মজুরি ১৭৬টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হবে ২০২ টাকা। অনেক চা-বাগানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বোনাস দেওয়া।
আলিপুরদুয়ার শ্রীনাথপুর চা বাগানে শ্রমিক সুশীলা চিক বরাইক জানিয়েছেন, আমরা খুব খুশি। বোনাস পাব, মজুরি বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের বোনাস ও মজুরিবৃদ্ধির কৃতিত্ব কার? তা নিয়েই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা।
আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক জানিয়েছেন, একটা বৈঠকেই এমন সিদ্ধান্ত এর আগে দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই বোনাস পাচ্ছেন।মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে যা অসমের থেকেও বেশি। আমরা এনিয়ে প্রচার শুরু করেছি। আশা করছি ২০২৪ লোকসভায় জিতব, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জিতব।
আলিপুরদুয়ারের জেলা বিজেপি আহ্বায়ক ভূষণ মোদকের কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস সস্তার রাজনীতি করছে। যে কৃতিত্ব নিচ্ছে তা হাস্যকর। বিজেপিও বৈঠকে ছিল। আমরা জোর সওয়াল করতেই বোনাস পাওয়া যাচ্ছে। আমার লোকসভায় জিতেছি। মানুষের আমাদের প্রতি আস্থা আছে।
আলিপুরদুয়ার সিটুর জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ গুণ জানিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই এই অধিকার অর্জন করা হয়েছে। কারও একার কৃতিত্ব নয়। কৃতিত্ব-তরজায় রাজনীতির উত্তাপ বাড়লেও উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে চড়ছে খুশির-পারদ।






















