Altaf Mian: নিরামিষ খেয়ে মদনমোহনের ‘রাসচক্র’ তৈরি করতেন, প্রচারের আড়ালে ছিলেন, সেভাবেই চলে গেলেন আলতাফ মিয়াঁ
Cooch Behar News: বাঙালির সমাজজীবন, সংস্কৃতির খোঁজ রাখেন যাঁরা, আলতাফ তাঁদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত নাম।

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: রাজনীতির ময়দানে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ ধ্বনি বার বার উচ্চারিত হলেও, সেই রাজনীতিই নাগরিক সমাজে বিভাজনের দাগ টেনে দেয়। এর বাইরে ভারতীয় সমাজজীবনের যে বহুমাত্রিক চরিত্র রয়েছে, নিভৃতে, নীরবে, তাকে ধরে রেখেছেন কিছু মানুষ। বর্তমানে সংখ্যায় মুষ্টিমেয় হয়ে পড়া সেই মানুষের দলেই শামিল ছিলেন কোচবিহারের আলতাফ মিয়াঁ। শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। (Altaf Mian)
বাঙালির সমাজজীবন, সংস্কৃতির খোঁজ রাখেন যাঁরা, আলতাফ তাঁদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত নাম। কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলার রাসচক্রের নির্মাতা আলতাফ। শারীরিক অসুস্থতার জেরে বেশ কিছু দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাত ৮টায় কোচবিহারের এমজিএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে আলতাফের বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। (Cooch Behar News)
আলতাফের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘কোচবিহারের বিখ্যাত রাসমেলার রাসচক্র প্রস্তুতকারক আলতাফ হোসেনের প্রয়াণে আমি মর্মাহত। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি আমি। বাংলার যে ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য, তার অন্যতম ধারক ও বাহক ছিলেন তিনি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, শেষকৃত্যে পরিবারকে সব ধরনের সাহায্য করার জন্য’।
কোচবিহারের বিখ্যাত রাস মেলার রাসচক্রের প্রস্তুতকারক আলতাফ হোসেন - এর প্রয়াণে আমি মর্মাহত। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 1, 2025
বাংলার যে ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য তার অন্যতম ধারক-বাহক ছিলেন তিনি।
তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।
আমি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ…
রবিবার হরিণ চওড়াচে আলতাফের বাড়িতে গিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কোচবিহার পৌরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়। আলতাফের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলেকায়। শোনা যায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে কোচবিহারের রাজা মদনমোহনের রাসচক্র তৈরির দায়িত্ব দেন আলতাফের পূর্বপুরুষকে। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় রাসচক্র তৈরির কাজে নিযুক্ত থেকেছে তাঁর পরিবার। আলতাফ নিজেও চার দশক ধরে সেই কাজ করে এসেছেন। রাসচক্র তৈরির সময় নিরামিষ খাবার খেয়েই কাটাতেন। ছুঁয়েও দেখতেন না আমিষ। তবে সময়ের সঙ্গে শরীর ভেঙে পড়ে, অসুস্থ হয়ে পড়েন আলতাফ। এর পর তাঁর ছেলে আমিনুর রাসচক্র নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মদনমোহন মন্দিরের বাইরে রাসচক্র ঘুরিয়েই রাস পূর্ণিমার সূচনা হয়। রাজ পরিবারের হাত ধরে শুরু হলেও, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কর্তা সেই দায়িত্ব সামলান। সেই রাসচক্র দেখতে বহু দূর থেকে মানুষজন ছুটে এলেও, আলতাফ নিজেকে প্রচারের আলোর বাইরেই রাখতেন। রাসচক্র তৈরি করে আর্থিক সমস্যা মোটেই ঘোচেনি আলতাফের। মদনমোহন মন্দিরের রক্ষক দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডে একসময় ঠিকাকর্মী ছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার জেরে সেই কাজও চলে যায়। আলতাফের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড। আমিনুরের চাকরি দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।






















