Amit Shah: ‘পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদের নিকেশ করেছি, তাতে দিদির পেটে ব্যথা হচ্ছে’, মমতার বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ শাহের
Mamata Banerjee: Operation Sindoor নিয়ে মমতাকে আক্রমণ করেন শাহ।

কলকাতা: নির্বাচনের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। রবিবার কার্যত নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিলেন অমিত শাহ। কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিলেন তিনি। আর মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে টেনে আনলেন Operation Sindoor-এর প্রসঙ্গ। মমতা Operation Sindoor-এর বিরোধিতা করছেন , পাকিস্তানের পাঠানো জঙ্গিদের পক্ষ নিচ্ছেন বলে অভিয়োগ তুলেছেন শাহ। (Amit Shah)
এর আগে, আলিপুরদুয়ারের সভায় মোদির ভাষণে বার বার Operation Sindoor-এর উল্লেখ শোনা যায়। সেই নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল তৃণমূল। সেনার কৃতিত্ব নিয়ে মোদি রাজনীতি করছেন বলে দাবি করেন মমতাও। সিঁদুররক্ষার ভাবনা থাকলে মোদি নিজের স্ত্রীকে কেন সিঁদুর দিলেন না, প্রশ্ন তোলেন। এদিন সেই Operation Sindoor নিয়েই মমতাকে আক্রমণ করেন শাহ। বলেন, "মমতাদিদি তুষ্টিকরণের সব সীমা পার করে দিয়ছেন। পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানের পাঠানো জঙ্গিরা নির্দোষ পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে মেরে দিয়েছে। ওই পাক জঙ্গিদের সাজা দেওয়া উচিত কি না বলুন বাংলার মানুষজন? মোদিজি অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে ঠিক করেছেন কি না? আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছি, এয়ার স্ট্রাইক করেছি, এখন অপারেশন সিঁদুরও করলাম। পাকিস্তানের ১০০ কিলোমিটার ভিতর ঢুকে ওদের দফতর গুঁড়িয়ে দিয়েছি। কয়েকশো জঙ্গিকে নিকেশ করে দিয়ছি। আর তাতে দিদির পেটে ব্যথা হচ্ছে। বাংলার পর্যটকরা যখন ওখানে মারা গেলেন, তখন এত যন্ত্রণা হয়নি দিদির। তখন কিছু বলেননি। মোদিজি যাই অপারেশন সিঁদুর কর এখানে এলেন, নোংরা রাজনৈতিক মন্তব্য করে অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করলেন।" (Mamata Banerjee)
শাহ আরও বলেন, "আজ মমতাদিদিকে বলতে এসেছি, আপনি অপারেশেন সিঁদুরের বিরোধিতা করেননি, দেশের কোটি কোটি মা-বোনের আবেগের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছেন। বাংলার মাতৃশক্তিকে বলব, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে প্রশ্ন তোলা, মমতাদিদিকে সিঁদুরের মূল্য বুঝিয়ে দিন আপনারা। সিঁদুরের অপমান করলে কী হয়, বুঝিয়ে দিন ভাল করে। '৯০ সাল থেকে ভারত সন্ত্রাসের সঙ্গে যুঝছে। ৪০ হাজারের বেশি মানুষ সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন। কেন্দ্রে ১০ বছর সরকারে ছিলেন মমতা, কংগ্রেসের শরিক ছিলেন, এখন ইন্ডি জোটের শরিক। কী করেছেন উনি? মোদিজির সরকার এসে গুলির জবাব গোলায় দিয়েছে। মমতাদিদি, আপনি যত ইচ্ছে পক্ষপাতিত্ব করুন। পাকিস্তানের পাঠানো জঙ্গিদের পক্ষ নিতে থাকুন। এটা নরেন্দ্র মোদির সরকার, বিজেপি-র সরকার, Operation Sindoor শেষ হয়নি।"
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, "মমতাদিদি দেশের সীমান্তকে বাংলাদেশের জন্য খুলে দিয়েছেন। ওঁর আশীর্বাদেই অনুপ্রবেশ ঘটছে। একমাত্র পদ্মফুলের সরকারই অনুপ্রবেশ আটকাতে পারে। তৃণমূল সাংসদ আমার কাছে সংসদে জানতে চান বিএসএফ কী করছে বলে। আমরা মমতাদিদির কাছে জমি চেয়েছিলাম। কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ হলে একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না। ইচ্ছাকৃত ভাবে জমি দিচ্ছেন না অনুপ্রবেশ ঘটলে তো ভোটব্যাঙ্ক বাড়বে, যাতে আপনার পর ভাইপোও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে। সেটা হবে না। আর একটু অপেক্ষা। আগামী নির্বাচনে আমাদের সরকার হবে। এখন থেকে দিনরাত এক করে খাটতে হবে আমাদের। গোটা দেশ চায়, এখানে দেশভক্তদের সরকার হোক, তোষণকারীদের নয়। সোনার বাংলার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছেন মমতাদিদি। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, নারী নির্যাতন, হিন্দু অত্যাচার দিয়ে রাজনীতির কারবার চলে ওঁর। ডিয়ার লটারি, কয়লা, রেশন, আবাস, গরুপাচার, ১০০ দিনের কাজ, GTA-তে দুর্নীতি হয়েছে। মোদিজি টাকা পাঠান, তৃণমূলের সিন্ডিকেট খেয়ে নেয়। কলকাতার বাজারে যুবকদের চাকরি বিক্রি হয়। বাড়ি থেকে এত টাকা উদ্ধার হয় যে গুনতে গিয়ে ২৭টা মেশিনও কাহিল হয়ে যায়। মুর্শিদাবাদের হিংসায় তৃণমূলের মন্ত্রী যুক্ত ছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই রাজ্য সরকারের মদতে দাঙ্গা হয়েছে, অত্যাচার চালানো হয়েছে হিন্দুদের উপর। বেলডাঙায় কার্তিক পুজোয় হামলা হয়েছে, সরস্বতী পুজোয় হামলা হয়েছে মহরম বের করতে বলা হয়। ওয়াকফ আইনেরও বিরোধিতা করছেন মমতাদিদি। ২০২৬ সাল পর্যন্ত যত পারেন বিরোধিতা করুন। তার পর আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতেই মমতাদিদি Operation Sindoor-এর বিরোধিতা করছেন।"
আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার কথা টেনে শাহ বলেন, "একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর শাসনকালে আরজি করের ঘটনা ঘটল। সন্দেশখালিতে গরিব মায়েদের উপর অত্যাচার চলছিল বছরের পর বছর ধরে। আর উনি ভোটব্যাঙ্ক গোছাচ্ছেন। সন্দেশখালির অপরাধী কোন দলের? আর জি করের অপরাধী কোন দলের? উনি হিন্দু সমাজের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। আগামী দিনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে সরকার গড়বে বিজেপি। শান্তনু ঠাকুর বলছিলেন হিন্দু শরণার্থীদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে। আমি বলছি, ভয় পাবেন না। নোটিস পেলে CAA-র জন্য আবেদন করুন। আমরা নাগরিকত্ব দেব। মমতার নোটিসে কেউ ভয় পাবেন না। Operation Sindoor-এ স্বামী হারানো বোনকেও আমরা নাগরিকত্ব দিয়েছি। কংগ্রেসের সরকার বাংলাকে ১০ বছরে ২ লক্ষ ৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল। মোদিজি ৮ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি দিয়েছেন। কোথায় গেল টাকা? ৪৫ লক্ষ কোটি পাঠালেও পাবেন না। টাকা পেতে হলে পদ্ম ফোটাতে হবে। বাংলার মানুষকে বলব, বিজেপি-কে সুযোগ দিন, মোদিজিকে সুযোগ দিন। এখন থেকে দিনরাত এক করে কাজ করতে হবে আমাদের। একজোট হয়ে উপড়ে ফেলতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে।"






















