Anandapur Fire: 'ঘুমের মধ্যে শুনতে পাই আগুন লেগেছে, মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছি, ১ মিনিট এদিক-ওদিক হলেই...' ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা!
Anandapur Factory Fire: আনন্দপুরে গোডাউনের আগুন থেকে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বিমল ভৌমিক। এখনও আতঙ্কে রয়েছেন তিনি

কলকাতা: আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুরে এখনও মোট নিখোঁজ ১৯ জন। অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত জোড়া গুদাম। অগ্নিদগ্ধ গোডাউন থেকে প্রাণপণ লড়াই করে বেরোতে চেয়েছিলেন সকলেই। কেউ কেউ বরাত জোরে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন! কেউ পারেননি। দমবন্ধ হয়ে, ঝলসে মৃত্যু হয়েছে।
এঁদের মধ্যেই কেউ কেউ বেঁচে ফিরেছেন ঠিকই... কিন্তু সেদিনের বিভীষিকা- রাত তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের। আগের দিন যে সহকর্মী-বন্ধুদের সঙ্গে বসে রাতে খাবার খেয়েছেন, একসঙ্গে ঘুমিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই আজ আর জীবিত নেই, জলজ্যান্ত মানুষগুলো আজ প্রাণহীন।
আনন্দপুরে গোডাউনের আগুন থেকে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বিমল ভৌমিক। এখনও আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। ভয়ঙ্কর সেই রাতে, আগুন আগুন চিৎকারে তাঁর ঘুম ভাঙে, চারিদিকে আগুন আর ধোঁয়া, কোনওক্রমে কপাল জোরে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন তিনি।
তিনি জানাচ্ছেন, ডেকরেটার্সের গোডাউনে ফুলের কাজ করেন। রবিবার রাতে ক্লান্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। একজনের চিৎকারে আগুন লাগার কথা জানতে পারেন তাঁরা। যা হোক পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
অগ্নিকাণ্ড থেকে ফিরে আসা গোডাউন কর্মী বিমল ভৌমিক বলেন, 'হঠাৎ, টাইমটা বলতে পারব না, ঘুমন্ত অবস্থায়। কে বলল যেন আগুন লেগে গেছে। তোরা যে যার পালিয়ে যা। নাহলে মরে যাব। বলল। আচমকা সবাইকে ডাকছে। ডেকে যে যেদিকে পারছে ছুট দিচ্ছে।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা গোডাউনের মালিক। নাম গঙ্গাধর দাস। তাঁর বাড়ি খেজুরির পূর্বচড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সোমবার এলাকায় এক অনুষ্ঠানের জন্য বাড়িতে আসেন তিনি। গোডাউনে আগুন লাগার খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ তাঁর বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়েছে খেজুরি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পেটের আগুন নেভাতে, কাজ নিয়েছিলেন আনন্দপুরের গোডাউনে। কিন্তু সেখানকার আগুনই ছারখার করে দিল সব। কারও ঝলসানো দেহাংশ পাওয়া গেছে। কারও সেটুকুও পাওয়া যায়নি। দুশ্চিন্তায় দু'চোখের পাতা এক না করতে পারা পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে গোডাউনে ছড়িয়ে থাকা পোড়া হাড়গোড়ের ছবি। কীভাবে তা জানা যাবে? প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, DNA টেস্টের মাধ্যমেই মৃতদের পরিচয় জানা সম্ভব।























