Annapurna Bhandar ভুয়ো ওয়েবসাইট নিয়ে সাবধান ! ১ জুন থেকে ব্যাঙ্কে টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কীভাবে পাবেন, এটাই জানাচ্ছে সরকার
কারা পাবেন, কত টাকা মিলবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা কী করবেন?

রাজ্যে মহিলাদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে—কারা পাবেন, কত টাকা মিলবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা কী করবেন? সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সূত্রের খবর অনুসারে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কী?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হল রাজ্য সরকারের নতুন মহিলাকেন্দ্রিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।
এই নিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কী বলেছেন?
বর্তমানে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের সকলকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আনা হবে। সম্পূর্ণ অর্থই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ জুন থেকেই টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করবে। তবে তার আগে উপভোক্তাদের তালিকা খতিয়ে দেখে একটি বিশদ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে, মৃত ব্যক্তি বা দেশের নাগরিক নন এমন কেউ ভুলবশত সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। সেই প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।
কবে থেকে চালু হবে প্রকল্প?
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই ঘোষণা করা হয়।
কত টাকা পাবেন উপভোক্তারা?
এই প্রকল্পে প্রত্যেক যোগ্য মহিলা মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। বছরে মোট ৩৬,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে চূড়ান্ত গাইডলাইন এখনও প্রকাশিত হয়নি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, যাঁরা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের অনেককেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তর করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা রয়েছে।
কী কী নথি লাগতে পারে?
সরকার এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করলেও সম্ভাব্য নথির মধ্যে থাকতে পারে—
- আধার কার্ড
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
- আধার-লিঙ্কড মোবাইল নম্বর
- ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড
- বাসস্থানের প্রমাণপত্র
কীভাবে আবেদন করা যাবে?
সরকারি ভাবে এখনও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অনলাইন এবং দুয়ারে সরকার শিবির—দু’টি মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কোনও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু হয়েছে?
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু হয়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়া বা ভুয়ো লিঙ্কে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
ভুয়ো ওয়েবসাইট নিয়ে কেন সতর্কতা?
ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর নামে একাধিক ভুয়ো ওয়েবসাইট ও প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সরকার এখনও কোনও অনলাইন ফর্ম প্রকাশ করেনি। তাই OTP, ব্যাঙ্ক ডিটেলস বা আধার তথ্য অপরিচিত সাইটে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার?
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা থাকলেও সরকার জানিয়েছে, পুরনো প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়েও আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো সুবিধা বজায় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
কবে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ হতে পারে?
সরকারি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন পদ্ধতি এবং যোগ্যতার মানদণ্ড প্রকাশ করা হতে পারে। জুন মাস থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
Before You Go
West Bengal Assembly News: সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইন, আজ বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল পেশ






















