Debangshu Bhattacharya: দেবাংশুর কাছে হাতছাড়া চুঁচুড়া, বিক্ষুব্ধ অসিত ফোন করলেন অভিষেককে, প্রচারে থাকবেন কি? বললেন…
Asit Mazumdar: বুধবারও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন অসিত।

চুঁচুড়া: দলের হয়ে এতদিন গড় রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু জেতা আসনই হাতছাড়া হয়ে গেল এবার। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১-তিন তিন বার যে চুঁচুড়া থেকে তৃণমূলের হয়ে জয়লাভ করেন অসিত মজুমদার, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে টিকিটই পেলেন না তিনি। তাঁর পরিবর্তে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। অন্য কোনও আসনেও তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। সেই নিয়ে ক্ষোভ আড়াল করছেন না অসিত। (Asit Mazumdar)
প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায়, মঙ্গলবারই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অসিত। আর রাজনীতি করবেন না বলেও ঘোষণা করে দেন। বুধবারও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন অসিত। কেন তাঁকে টিকিট দেওয়া হল না, উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। কাজে কোনও খামতি যদি থাকেও, তা জানানো হল না কেন, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। (Debangshu Bhattacharya)
একদিন আগে অসিত জানিয়েছিলেন, নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এদিন এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "অবশ্যই সজ্ঞাতে হয়েছে। আমাদের কারণ জানানো হয়নি। যদি জানাত পারফরম্যান্স খারাপ...আজ কাগজে দেখছি পারফরম্যান্স ভাল না খারাপ, তা বিচার করে দেখা হয়েছে। আমার পারফরম্যান্স কী খারাপ, আমি তো জানিই না! ৩৬৫ দিন প্রোগ্রামে থাকি আমি। তার পরও যদি পারফর্ম্যান্স খারাপ হয়, তী বলব বলুন। অভিষেককে ফোন করেছিলাম। কথা বলেছি।"
টিকিট না পেয়ে তিনি যে আহত, তা গোপন করেননি অসিত। বলেন, "আমার সাতটা পঞ্চায়েত, একটা পৌরসভা, ৩০ জন কাউন্সিলর। সবাই আমার সঙ্গে ছিল। তাদেরও আবেগ আছে। দু'দিনের মধ্যে ওদের নিয়ে বসব। বসব পরিবারের সঙ্গে। যেটা বলবে, তা-ই হবে।" চুঁচুড়ায় অসিতের জেতা আসনে কেন দেবাংশুকে প্রার্থী করা হল, তা নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল জানান, আগামী প্রজন্মকে সুযোগ করে দিতেই অনেক নতুন মুখ আনা হয়েছে। দেবাংশুও জানান, বয়স কম হলেও, তাঁর উপর আস্থা রেখেছে দল।
চুঁচুড়াকে ইতিমধ্যেই নিজের পরিবার করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন দেবাংশু। প্রচারের কাজে সকলকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান তিনি। দলের তরুণ তুর্কিকে প্রচারে সাহায্য করবেন কি তিনি? জবাবে অসিত বলেন, "দল যদি করি, তাহলে অবশ্যই প্রচারে থাকব। দল যদি না করি, থাকব না।" চুঁচুড়ায় দেবাংশুর নাম ঘোষণা হওয়ার পর একদিন আগে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস ঘোষণা করেছিলেন অসিত। এখন যদিও বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা, শলাপরামর্শের কথা বলছেন। অভিষেকের কথাতেই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে দেখতে সম্মত হয়েছেন কি না, তা যদিও স্পষ্ট নয়।
তবে একা অসিতই ক্ষুব্ধ নন। টিকিট না পেয়ে জায়গায় জায়গায় মুখ খুলতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। এমনকি বিজিত প্রার্থীকে না দাঁড় করালে আসন উদ্ধার করা অসম্ভব হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। তবে দলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ধরনের ক্ষোভ, আবেগ দেখা যায়। তবে এবার নানা ভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে তৃণমূল, পারফর্ম্যান্স খতিয়ে দেখেছে। সেই নিরিখেই তৈরি করা হয়েছে প্রার্থী তালিকা। কিন্তু অসিতের মানভঞ্জনে কি সফল হবে তৃণমূল? দেবাংশুর হয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে কি দেখা যাবে অসিতকে? আর কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে সব কিছু।






















