Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাহ-র পশ্চিমবঙ্গ সফর, ২ দিনের জনসভায় কী বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
Amit Shah in West Bengal: অমিত শাহ বলেছেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেবেন না। কারণ অনুপ্রবেশকারীরাই তাঁর ভোটব্যাঙ্ক।'

Amit Shah: বিধানসভা নির্বাচন এখন পাখির চোখ। তার আগে ফের একবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়ি এবং ব্যারাকপুরে জনসভাও করেছেন তিনি। আর সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে শাসক দলকে একহাত নিয়েছেন অমিত শাহ। কর্মী-সমর্থকদের বার্তা দিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়েও। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের হাতিয়ার এসআইআর। এই প্রসঙ্গেও বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে বিজেপি
এবারের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে অমিত শাহ দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিয়ে সরকার গঠন করবে বিজেপি। আর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি 'চিকেন নেক' প্রসঙ্গেও অমিত শাহ রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যাঁরা 'চিকেন নেক'- এ সমস্যা সৃষ্টির কথা ভাবছেন, তাঁরা যেন এটা জেনে নেন, যে এই অংশ ভারতের ভূখণ্ড। কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। কেউ এখানে হাত পর্যন্ত দিতে পারবেন না। ইন্ডিয়া জোটকেও এই 'চিকেন নেক' প্রসঙ্গে একহাত নিয়েছেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তোপ দেগে বলেছেন, 'ইন্ডি জোটের সদস্যরা সেইসব লোকেদের জন্য আদালতে মামলা লড়ছেন, যাঁরা 'চিকেন নেক'- এ অশান্তি করার কথা বলেন।'
সীমান্তে বেড়া দেওয়া এবং অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার চেষ্টা
বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বারংবার বিজেপির দিকেই নিশানা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেছেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেবেন না। কারণ অনুপ্রবেশকারীরাই তাঁর ভোটব্যাঙ্ক।' প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত সরব হওয়ার একটাই কারণ, অনুপ্রবেশকারীরা তাঁর ভোটব্যাঙ্কে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি 'বন্দে মাতরম' প্রসঙ্গে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। এই প্রসঙ্গেও এদিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, 'ভোটব্যাঙ্কের জন্য ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার আত্মসম্মান এবং দেশের আত্মাভিমানের বিরোধিতা করেছেন।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ, পাল্টা জবাব শাহ- র
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশিরভাগ সময়েই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ করেন। বিভিন্ন সভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায় যে, রাজ্যের হকের টাকা, পাওনা টাকা বকেয়া রয়েছে কেন্দ্রের দরবারে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কল্যাণের জন্য যে তহবিল পাঠান, সেই টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সিন্ডিকেটের বলি হয়ে যায়।'
আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, 'দায় মমতা সরকারের', দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কলকাতায় ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড। আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদে ২টি গোডাউনে বীভৎস আগুন লেগেছিল প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এই ইস্যুতে শাসকদলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেছেন, 'আনন্দপুরের মোমো ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, যেখানে ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে - এটা মমতা সরকারের দুর্নীতির ফল, এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।'
২০২৬ সাল টিএমসি- কে টা টা বাই বাই বলার বছর
অমিত শাহর মুখেও শোনা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদায় জানানোর কথা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, '২০২৬ সাল টিএমসি- কে টা টা বাই বাই বলার বছর। রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে অমিত শাহ এও বলেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সমাজকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে সামাজিক ঐক্যকে তছনছ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকার। মা, মাটি, মানুষ’- এর স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা দিদির রাজ্যে আজ এই তিনটি বিষয়ই অসুরক্ষিত। কমিউনিস্টদের লাল সরকার এবং তৃণমূলের সবুজ সরকার গড়া বাংলাবাসী একবার বিজেপির গেরুয়া সরকার গড়ে দেখুন - অনুপ্রবেশকারীদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়া হবে। মতুয়া সমাজের মানুষদেরও ভয় পাওয়ার কোনো দরকার নেই। আপনাদের ভোটে কেউ হাত দিতে পারবে না।'
























