Sujit Bose : 'ডেটা মাইন' থেকে উদ্ধার ডায়েরিতে উল্লেখ 'SB'-র, কীভাবে ED-র স্ক্যানারে সুজিত বসু ? বড় নাম সামনে আসবে ?
Enforcement Directorate : সোমবার প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।

আবির দত্ত, প্রকাশ সিন্হা, ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটের হদিশ ! শিক্ষা দুর্নীতির তদন্তে, প্রোমোটার অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিসে তল্লাশির সময় উদ্ধার হয় পুর নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া সেই নথি ও পরবর্তীকালে অয়ন শীল ও বাকিদের জেরার ভিত্তিতে উঠে এসেছিল সুজিত বসুর নাম। সোমবার প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।
একেবারে রেট চার্ট বেঁধে চাকরি বিক্রি ! একইদিনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ও কাজে যোগদান ! একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের জড়িত থাকার অভিযোগ। তৃণমূল আমলে যেসব বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম একাধিক পুরসভায় চাকরি বিক্রি। এই মামলাতেই ED-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
এই দুর্নীতির হদিশ যেভাবে মিলেছিল, তা যে কোনও থ্রিলারকেও হার মানাতে পারে। ঠিক যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি ঘিরে রাজ্য় তখন তোলপাড়। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ, ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় ED। এই কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে দাবি, অয়ন শীলের অফিস থেকে অন্তত ৬০টি পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথি ও চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা উদ্ধার হয়। অফিসের ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হয় ৪০০টি OMR শিট। যার মধ্যে অনেকগুলি OMR শিট ফাঁকা ছিল। ED সূত্রে দাবি করা হয়, প্রোমোটার অয়ন শীলের সংস্থা ABS ইনফোজোনের অফিসের কম্পিউটারের ফোল্ডারে যে নথি পাওয়া গিয়েছিল, সেখানেই ছিল একাধিক প্রভাবশালীর নাম। উল্লেখ করা ছিল চাকরি বিক্রির টাকার অঙ্ক। আদালতে অয়ন শীলের অফিসকে ডেটা মাইন বা তথ্যের খনি বলে উল্লেখ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
তদন্ত আরও এগোনোর পর সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়, একেবারে রেট চার্ট তৈরি করে পুরসভার চাকরি বিক্রির অভিযোগ সামনে আসে। কিন্তু, এই চাকরি বিক্রির টাকা কাদের পকেটে যেত ? ইডি সূত্রে আরও দাবি, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিসে তল্লাশির সময় সেখানে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়। যেখানে কোড ওয়ার্ডে বিভিন্ন নাম লেখা ছিল। সূত্রের দাবি, সেই ডায়েরির একটি জায়গায় লেখা ছিল SB। তার পাশে কয়েক কোটি টাকার অঙ্ক। ইডি সূত্রে দাবি, পরবর্তীকালে জেরায় অয়ন শীল দাবি করেন, সেই SB আসলে সুজিত বসু। সেই থেকেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ক্যানারে আসেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন, "সুজিত বসু দিয়ে তো সবে শুরু। একে একে ঘুঘুর বাসা ভাঙবে এবং একে একে অনেক পাখি জালে ধরা পড়বে। যারা অন্যায় করেছে, যারা সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করেছে, একজনও ছাড়া পাবে না। একজনও নিষ্কৃতি পাবে না। সুজিত বসু দিয়ে এটার সূচনা হল। নিশ্চিতভাবে এই জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে। জেলায় জেলায় পর্যন্ত যারা বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, কেউ রেহাই পাবে না। প্রত্যেককে জেলে যেতে হবে।"
এদিন সুজিত বসুকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ইডির আইনজীবী বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতেও সুজিত বসুর ভূমিকা রয়েছে। ডিজিটাল এভিডেন্স পাওয়া গিয়েছে। হয়তো পরিস্থিতি বদলেছে। তবে নেক্সাস এখনো ভাঙেনি। মঙ্গলবার সুজিত বসুকে ২১ মে পর্যন্ত ED হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কি আরও কোনও বড় নাম সামনে আসবে ? সেটাই দেখার।
























