Valentine's Day: ভ্যালেন্টাইন্স ডে- তে বাইরে বেরোলেই... এ রাজ্যেও প্রেম নিয়ে হুঁশিয়ারি !
Valentine's Day: রাজ্যে প্রেমের উদযাপনেও এবার কড়া নজরদারি। ভ্যালেন্টাইন্স ডে- এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের নাম করে লেখা ভাইরাল ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : এবার কি ভালবাসার উদযাপনেও নজরদারি? ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ভালবাসা উদযাপনের কোনও বিশেষ দিন হয় না একথা ঠিক। কিন্তু বছরের এই দিনটি প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে অত্যন্ত স্পেশাল। আর তার ঠিক আগেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের নাম করে লেখা ভাইরাল ছবি ঘিরে শুরু হল বিতর্ক। যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে ভ্য়ালেন্টাইন্স ডে-র দিন খোলা জায়গায় কোনও যুগলকে যেন দেখা না যায়। দৃষ্টিকটু অবস্থায় কোনও যুগলকে দেখা গেলে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বিবাহের ব্য়বস্থা করা হবে।
রাজ্যে প্রেমের উদযাপনেও এবার কড়া নজরদারি। ভ্যালেন্টাইন্স ডে- এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের নাম করে লেখা ভাইরাল ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা। কে কার সঙ্গে মিশবেন, কোন দিন একসঙ্গে বেরোবেন, কী করবেন, কোথায় যাবেন- তা বলে দেবে আরএসএস- এর দু'টি শাখা সংগঠন, এই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ। যদিও ভাইরাল হওয়া পোস্টারের বক্তব্য়ের সঙ্গে একমত বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
অরিন্দম কর, প্রচার প্রমুখ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, দক্ষিণবঙ্গ শাখা, এই ব্যক্তি বলেছেন, ভারতীয় পরিবার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বিভিন্ন বিদেশি সংগঠন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কয়েক দশক ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ লড়াই করেছে, আগামী দিনেও লড়াই করবে। অন্যদিকে অমল চক্রবর্তী, ক্ষেত্রীয় সংযোজক, বজরং দল জানিয়েছেন, সমাজের সঙ্গে সঙ্গে যুবক, যুবতীদের চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। ভ্যালেন্টাইন্স ডে বিদেশি সংস্কৃতি। কিছু সংগঠন আমাদের সংস্কৃতিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। তাদের জন্যই আমাদের এই বার্তা।
প্রেমের উদযাপনে এমন চোখরাঙানি মেনে নিতে নারাজ বিশিষ্টরা। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, এরকম জোর জবরদস্তি চলে না। কারও কিছু অপছন্দ হতে পারে। তারা প্রচার করতে পারে। কিন্তু এভাবে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা হবে, বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে, এগুলো ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। এগুলো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে কবি সুবোধ সরকার বলেছেন, একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ভালবাসবে। এটা নিষিদ্ধ করতে হবে? এটা আবার করা যায় নাকি? সারা পৃথিবীতে কেউ কখনও করতে পারেনি। বিয়ে দিয়ে দেবে। প্রেম আর বিয়ে কি এক? বিয়ে একটা সামাজিক স্বীকৃতি। তার অন্য প্রেক্ষাপট রয়েছে। প্রেম আর বিয়ে এক নয়। মানুষকে প্রেম করার স্বাধীনতা দিতেই হবে।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
