Lakshmir Bhandar : ৩-৪ বছর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছেন 'বাংলাদেশি' রোকেয়া ! SIR আবহে মালপত্র গুছিয়ে ...
'মাঝের দিকে ধরপাকড় হল। বাবাকে ধরে পাঠিয়ে দিল। এখন আমি তো একা পড়ে গেছি, আমি কী করবে এখানে, তাই আমিও চলে যাচ্ছি।' স্বরূপনগরে এখনও ফিরে যাওয়ার লাইন।

সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : ব্যাগের মধ্যে গোটা সংসার বন্দি করে ভারত ছাড়ার পালা। আতঙ্কের নাম SIR । বাংলাদেশে পালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। অব্যাহত সেই ফিরে যাওয়া। এক মাস আগে SIR-এর শুরু হওয়ার পর যে ছবি দেখা গিয়েছিল সীমান্তে, রাজ্যে SIR-এর ফর্ম জমার শেষের দিনেও স্বরূপ বদলাল না স্বরূপনগরের ছবি। এবিপি আনন্দর ক্যামেরায় সেই ছবি ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে। বাংলাদেশের বাসিন্দা সামাদ গাজি, ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন ৩-৪ বছর আগে। সেই সামাদ গাজি ওই ধামাখালি দিয়ে এসেছিলাম। আগে নোংরা কুড়োতাম, তারপর কাঁটাতার টপকে ভারতে ঢোকেন। মহম্মদ মইদুল শেখ। ৩ বছর পর দেশে ফিরতে হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন চেকপোস্টে। বলছেন, 'এমনি ভাঙাচোরার কাজ করতাম,গর্ত খুঁড়তাম, মাটি কাটতাম। মাঝের দিকে ধরপাকড় হল। বাবাকে ধরে পাঠিয়ে দিল। এখন আমি তো একা পড়ে গেছি, আমি কী করবে এখানে, তাই আমিও চলে যাচ্ছি।'
এর আগে এই স্বরূপনগর সীমান্তেই কোনও বাংলাদেশি জানিয়েছিলেন তাঁদের কারও 'আধার কার্ড' আছে, কেউ আবার নিজেই স্বীকার করছিলেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়ার কথা। যেমন বাংলাদেশ থেকে আসা রোকেয়া বিবি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' কতদিন পেয়েছেন? রোকেয়ার উত্তর, তিন থেকে চার বছর ধরে পাচ্ছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। দুয়ারে সরকারের ওখানে গিয়ে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' করে দিল। যেমন , আনোয়ারা বিবি, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ থেকে এসে ভোটও দিয়ে দিয়েছেন। দুই-তিন বার দেওয়া হয়েছে ভোট। স্বরূপনগরে অপেক্ষারত আল আমিন মোল্লার দাবি, 'আমার আর আমার বউয়ের আধার কার্ড ছিল। দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে, আসার সময় নিউটাউনে দিয়ে এসেছি।'
এক মাস ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে SIR-এর ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ। আর এদিনই স্বরূপনগরে দেখা গেল সেই একই ছবি।
এদিকে, এসআইআর আবহে সম্প্রতি খোঁজ মিলছে না প্রায় ১৫০জন ভোটারের। SIR আবহে এমনই ঘটনা সামনে এল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। ১৫০জন বাংলাদেশি, বিজেপি তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলেছে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তৃণমূলের। মিথ্যা অভিযোগ বলে পাল্টা দাবি করেছে বিজেপি। কিন্তু কোথায় গেলেন সেই ১৫০জন ভোটার? মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তাঁদের দাবি, যাদের হদিশ মিলছে না, তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক। বিজেপি তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দিয়েছে।






















